12/07/2026
বাসায় খাবার খাচ্ছেন, হঠাৎ করে ঘরে রান্না করা তরকারির এমন স্বাদ পেলেন, যা আপনি আগে কখনও পাননি।
অথবা কোনো কারণে রাতে দেরি করে ঘুমাতে গেলেন।
ঘুমানোর আগে ঘড়িতে সময় দেখে মনে হলো,
“এখন ঘুমালে তো ফজর মিস হয়ে যাবে।”
তারপরও ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ফজরের সময় থাকতে ঘুম ভেঙে গেল, আর আপনি নামাজ পড়ে নিলেন।
গতকাল সূরা আন-নামলের ৪০ নম্বর আয়াত পড়ার পর থেকে শুধু সুলাইমান (আঃ)-এর কথাই ভাবছি।
আগে আপনাদের এই আয়াতটি পড়তে হবে।
পুরো ঘটনাটি বুঝতে হলে এর আগের এবং পরের আয়াতগুলোও পড়তে হবে।
তবে ৪০ নম্বর আয়াত কেন আমাকে এত ভাবিয়েছে, সেটা বোঝানোর জন্য এখানে শুধু এই আয়াতটিই উল্লেখ করছি।
আয়াতের অর্থ:
“যার কাছে ছিল কিতাবের ইলম, সে বলল, ‘আমি আপনার চোখের পলক ফেলার আগেই তা আপনার সামনে এনে দেব।’ অতঃপর সুলাইমান যখন সিংহাসনটি নিজের সামনে রাখা অবস্থায় দেখল, তখন বলে উঠল, ‘এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে চান যে, আমি কৃতজ্ঞতা আদায় করি, না অকৃতজ্ঞতা করি। যে কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সে তো কৃতজ্ঞতা আদায় করে নিজেরই উপকারার্থে। আর কেউ অকৃতজ্ঞতা করলে, আমার প্রতিপালক তো অভাবমুক্ত, মহানুভব।’”
নবী সুলাইমান (আঃ) সম্পর্কে সবাই জানেন।
কিন্তু তিনি কেন আল্লাহর বিশেষ সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, তার একটি ছোট hack আমার কাছে এই আয়াতে আছে বলে মনে হয়েছে।
তিনি জ্বিনদের কাজ দেখে বিস্মিত হয়েছেন ঠিকই,
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছেন,
এটি তার জন্য একটি পরীক্ষা।
আর আল্লাহর এই অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করতে তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি।
লেখার শুরুতে আমি দুটি ঘটনা উল্লেখ করেছি,
যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে হরহামেশাই ঘটে।
কিন্তু আমরা কি সেই মুহূর্তগুলোতে আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি?
সুলাইমান (আঃ) এখানেই আমাদের চেয়ে আলাদা।
তিনি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছিলেন।
আর সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে আল্লাহর প্রশংসায় সঁপে দিয়েছিলেন।
আলহামদুলিল্লাহ ❤