25/07/2025
আমি যখন ফার্স্ট ইয়ারে এক্সিডেন্টালি হলের পলিটিকাল ফ্লোরে গনরুমে উঠি তখন ছাত্রলীগের রমরমা অবস্থা।
এক্সিডেন্টালি বললাম যেই আপু উঠাইসিল,সে এক্সপ্লেইন করে নাই পলিটিকাল ফ্লোরে উঠা মানে কি বা কি করতে হয়।
আমার ফ্যামিলির কেউ এর আগে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে নাই,তাই 'পলিটিক্যাল' আর নন পলিটিক্যাল কেচাল টা সম্পর্কে একদম ই জানতাম না।
এনি ওয়েজ,সেই ফ্লোরে তখন নেত্রীর ছড়াছড়ি। মানে মাঝ রাতে ঘুম চোখে বাথরুমে গেলে পরদিন শাল্টিং খেতে হত-পাশের টয়লেটে কোন নেত্রী হয়ত সালাম পায় নাই,গেস্ট রুম মিটিং এ আমার বিচার হবে-এমন এক অবস্থা!
তো একেক নেত্রীর আবার 'মিনিয়ন' থাকত। এরা গনরুম থেকে ফার্স্ট ইয়ারের স্মার্ট লোকজন ধরে ধরে নিজের রুমে আলাদা বেডে উঠাত। গ্রামের সাদাসিধা মেয়েদের যেখানে রুম পেতে লাগত বছর খানেক।
উই যে খাচা থেকে বিলাই কুত্তা পিক করে এডপশনে নেয়ার সিস্টেম।
তো এসব মিনিয়ন'রা কেন 'নেত্রীর মিনিয়ন' হওয়া চুজ করত?
কারন তাদের কে স্বপ্ন দেখানো হত-
''নেত্রীর সাথে লেগে থাকলে
হল কমিটি>ভার্সিটি কমিটি > সেন্ট্রাল কমিটি>সংসদ
পুরাই 'লালে লাল শাহজালাল' ক্যারিয়ার প্ল্যান।
প্ল্যান খারাপ না তবে বাংলাদেশের রাজনীতির মত 'উংগা বুংগা আনস্টেবল সেক্টর' আর নাই।
লালে লাল শাহজালাল' হওয়ার আগেই আপা' চলে গেলেন।
আপাতত ক্যাম্পাসের "লালে লাল শাহজালাল ' ক্যারিয়ার প্ল্যান করা পাতি-নেতা-নেত্রী রা কই আছে তা হয়ত তার ফ্যামিলির লোকজন ও ভাল জানে না।
অথচ, এরা প্রত্যেকে চান্স পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া স্টুডেন্ট ছিল, ধরা যায়- এদের মিনিমাম লেভেলের মেধা এবং সম্ভাবনা ছিল।
তাই তোমরা যারা ইদানীং কিচু কিচু রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করলেই ক্ষেপে যাও, আন্ধা হয়ে যাও,
ভাবো 'এটাই তোমার জান প্রাণ, মনে রেখো তোমার মত এমন 'একনিষ্ঠ সহমদ' ভাই-বোন আগে ও ছিল, তাদের কপালে জুটেছে-সাদা মূলা।
হয়ত পনের বিশ বছর পর এ দেশের লোক জুলাই ইতিহাস ভুলে আবার তাদের কে ক্ষমতায় বসাবে, তখন এই ভাই-বোনেদের তারুন্য থাকবে না।
জীবনের ২০-৩৫ বছর নিজ দেশে লুকায় থাকা, লাঠি-বাটাম খাওয়া'র চেয়ে দিনমজুর দেয়ার প্রফেশন টা বেটার চয়েজ।
২৫ বছর বয়সে বৃষ্টিতে ভিজে জীবন সংগীর সাথে রাস্তার ধারে চা খাওয়া যত টা আনন্দের, ৪০ এ সেটা ওয়ার্ল্ড ট্যুরে ও মেলে না।
আর ২০২৫ এ এসে রাজনীতির মাঠে 'মিনিয়ন' কমা উচিত। রাজনীতি তে এমন কি মধু যার আশায় সবাই এতো উতলা?একটা দেশে দেশ সেবা করতে চায় বলে পলিটিকাল পার্টি গুলো মারামারি করে হাজার খানেক দেশের জনগণ মে*রে ফেলে। কি এক অদ্ভুত সিস্টেম।
পড়াশোনা করো। জ্ঞান অর্জন করো। সিস্টেম কে প্রশ্ন করতে শেখো। ক্রিটিকাল এনালাইসিস শেখো।
সিস্টেম কে প্রশ্ন করার কালচার যখন এ দেশে দাড়াবে, তখন দেশের রাজনীতিতে মধু কমে আসবে। পলিটিকাল পার্টি গুলো লাইনে চলে আসবে।
কোন দিন কেন প্রশ্ন হয় না-
'পাশ্চাত্যের দেশ গুলো কীভাবে এমন স্ট্যাবল পলিটিকাল সিচুয়েশন অর্জন করেছে?'
উত্তর-
'এখানে সবাই সিস্টেম কে প্রশ্ন করতে জানে।কারন প্রায় সবাই শিক্ষিত, জবাবদিহিতার কালচার আছে। পলিটিশিয়ান এর বিরুদ্ধে নূন্যতম দুর্নীতির অভিযোগ আসলে সে নিজেই পদত্যাগ করে যেখানে আমাদের দেশে টেনে নামানো যায় না। এ কারনে এখানে পলিটিক্স এ মধু কম।
দেশের পলিটিকাল সিচুয়েশন স্ট্যাবল থাকলে সেই দেশে ইকোনমিক্যাল গ্রোথ হয়, তখন সেখানে দিনমজুর দিয়ে ও খাওয়া আরামের। সোশ্যাল সিকিউরিটি আছে।যেমনটা হচ্ছে তাদের দেশে।
তখন তোমার নেক্সট জেনারেশন কে 'হলের সামনে চায়ের টং দোকানের চাদার লোভে ভার্সিটির ইয়ার ড্রপ দিতে হবে না' যেমনটা হলের অনেক নেতা-নেত্রী ই দিত।
This is how you all should work to change your next generation's fate.💜
As Bill Gates said once-
"It is not your fault if you are born poor, but it is your fault if you die poor."
And our country's poorest sector is the political sector.
Collected