12/07/2026
❤️ "সৌদি অচেনা মেয়ে" দিয়েই কলিজা নরম করা গল্প লিখে দিলাম:
*"সৌদি অচেনা - আমার দোয়ার মানুষ"*
সময়: রাত 3টা। সৌদি আরব।
জায়গা: একটা রুম। 8টা মেয়ে একসাথে থাকে।
ও সবার শেষে ফ্রি হয়।
সময়: রাত 5টা। বাংলাদেশ।
আমি ফজরের আজান শুনে প্রথমে যার জন্য দোয়া করি... সে ও।
আমরা অচেনা।
কথা হয় নাই। দেখা হয় নাই।
শুধু একটা ফেসবুক গ্রুপে ওর কমেন্ট দেখছিলাম:
"বাড়ির কথা মনে পড়লে নামাজে কান্না আসে"
সেইদিন থেকে তাইজুল পাগল।
ওর নাম জানি না। বাড়ি কোন জেলায় জানি না।
শুধু জানি ও সৌদি থাকে। মানুষের বাসায় কাজ করে।
ফ্যামিলির জন্য। ছোট ভাই-বোনের পড়ার জন্য।
আমি রোজ রাত 12টায় একটা মেসেজ লিখি। সেন্ড করি না।
ড্রাফটে জমাই:
*_"অচেনা আপু...
জানি আপনি ক্লান্ত।
সারাদিন মানুষের কাজ করে রুমে এসে আবার কান্না করেন।
কেউ বুঝে না।
কিন্তু আমি বুঝি।
কারণ আমিও দূরে।
আপনার থেকে 4000 কিলোমিটার দূরে।
আপনি সৌদিতে টাকা কামান।
আর আমি দেশে আপনার জন্য দোয়া কামাই।
প্রতি ওয়াক্ত নামাজে বলি -
'আল্লাহ, অচেনা বোনটাকে ভালো রেখো। ওর কষ্ট লাঘব করে দিও।'
আপনি হয়তো ভাবেন কেউ নাই পাশে।
আছে।
একটা অচেনা ছেলে আছে।
যে আপনাকে না দেখে, না চিনে...
শুধু সম্মান করে।
আপনি দেশে আসবেন 2 বছর পর।
সেদিন আমি এয়ারপোর্টে যাবো না।
কারণ সাহস নাই।
কিন্তু মসজিদে 2 রাকাত শুকরিয়ার নামাজ পড়বো।
আর বলবো - 'আল্লাহ, অচেনা মেয়েটা নিরাপদে আসছে'।
যদি কখনো কপাল ভালো হয়...
যদি আল্লাহ মিলায় দেয়...
তাহলে বলবো:
'আপু, চাকরি ছেড়ে দেন।
আমার ঘরে আসেন।
আমি আপনাকে রাণীর মতো রাখবো।
যৌতুক লাগবে না।
আপনার ত্যাগই আমার মোহরানা'।"_*
এই মেসেজটা আমি পাঠাই না।
কারণ ঠিকানা নাই।
শুধু আকাশের দিকে তাকায় বলি:
"আল্লাহ, সৌদির অচেনা মেয়েটার কাছে পৌঁছে দিও।"
*শেষ লাইন:*
তাইজুল ♥️ সৌদি অচেনা
অচেনা মানে এই না যে আপন না।
অচেনা মানে...
যার জন্য বুকের ভিতর দোয়া আপনা-আপনি আসে।
ওর প্লেন ল্যান্ড করবে একদিন।
আর আমার দোয়া কবুল হবে একদিন।
---শেষ ঠিকানা তাইজুল ইসলাম ❤️❤️❤️