03/05/2026
ড্রেসআপ সেন্স বা পোশাক নির্বাচন প্যারেন্টিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বাচ্চাদের শালীনতা বোধ পরিবার থেকেই গড়ে ওঠে।
ব্যক্তিভেদে যার যার প্যারেন্টিং পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। তবে আমি ছোটবেলা থেকেই আমার কন্যাদের পোশাক নিয়ে কিছু বিষয়ে সচেতন থেকেছি।
তিন বছর বয়স পার হওয়ার পর থেকে কখনোই বাইরে যাওয়ার সময় ওদের টপ, জিন্স, লেগিংস, হাতাকাটা জামা কিংবা ফিটিং কোনো প্যান্ট পরাইনি। খুব ছোটবেলা থেকে ওরা লং ফ্রকেই অভ্যস্ত ছিল। কোনো পছন্দনীয় জামার হাতা কাটা থাকলে, ওদের বাবা হাতা লাগিয়ে আনতেন।
আমার পাশাপাশি বাচ্চাদের বাবার ও তাদের পোশাকের ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন। ইভেন কোন কার্টুন বা অদ্ভুত কোন চিত্র চিহ্নিত ড্রেসও কিনতেন না কখনো।
আমার ছোট মেয়েকে তো একেবারে ছোটবেলা থেকেই জিন্স প্যান্ট পরাতে পারিনি। ওর বয়স যখন তিন, তখন একবার একটা ফ্রকে সামনের দিকে জিন্স কাপড়ের মতো ডিজাইন ছিল—ও সেটা পরতেই চাইত না। শুধু বলত, “আম্মু, এটা তো ছেলেদের ড্রেস! মেয়েদের জামায় কেন ছেলেদের মতো ডিজাইন থাকবে?”
এরপর দু' কন্যাই নার্সারি থেকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই হিজাব পরা শিখে নিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন কোথাও বের হওয়ার সময় আলাদা করে বলতে হয় না—হিজাবকে তারা তাদের জন্য একটি অভ্যাস নয় , বরং আবশ্যকীয় পোশাকের অংশ হিসেবেই ধরে নিয়েছে।
আসলে, এখনকার ৭-৮ বছরের মেয়েরা আর একেবারে ছোট নেই। একটু স্বাস্থ্য ভালো হয়, তাহলে আরও বেশি চোখে পড়ে যায়। এই বয়সে তাদের ফিটিংস জামা, হাতাকাটা বা খাটো কিছু পরানো—একজন মা হিসেবে আমার কাছে মোটেও শোভনীয় মনে হয় না।
প্যারেন্টিং শুধু কথাবার্তা বা আচরণ শেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাচ্চাদের পোশাক নির্বাচন, শালীনতা শেখানো, ও তাদের ড্রেসআপ সেন্স গড়ে তোলা—এসবও এরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পোশাক সন্তানের শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং তার ভিতরে মূল্যবোধ আর পরিচয়ের প্রতিফলনও! তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের শালীনতা শেখানো বাবা-মায়ের নৈতিক দায়িত্ব।
Rasheda Akter Muna