13/07/2015
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। দিন যত গড়াচ্ছে বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। বেড়েছে এর ব্যবহারের ঝুঁকিও। সুবিধার পাশপাশি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। আর এর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অর্থায়ন করছে। পাশপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনা অমান্য করে দেদার অনিয়ম করে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ। নিয়ম অনুযায়ী একজনের একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকার কথা কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একজন ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশ করা ৮৭টি সিম পর্যন্ত উদ্ধার করেছে। এজেন্ট ছাড়াও সাধারণ মানুষজনও একই নামে একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব অ্যাকাউন্ট খুলছে বিকাশ কর্তৃপক্ষ। এমনকি মানুষকে জিম্মি করেও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা চাওয়া হচ্ছে। অথচ এই সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দেশনা মানছে না বিকাশ কর্তৃপক্ষ। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে এদেরকে হাতেনাতে ধরলেও ওখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ি আরোপ ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন উভয় প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছার ইঙ্গিত বহন করলেও অজানা কারণে সবকিছু বার বার প- হয়ে যাচ্ছে, এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট তদারক কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অবসরে যাওয়া নির্বাহী পরিচালক দাসগুপ্ত অসিম কুমার ব্র্যাকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশে যোগদান করেছেন। যিনি মোবাইল ব্যাংকিং নীতিমালা সংশোধন করে বিকাশের অবৈধ মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছিলেন। তাই বিকাশের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলেও অনেক কিছু করতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুই উপায়ে বিকাশের মাধ্যমে জালিয়াতি করা হচ্ছে। সিম রিপ্লেস ও ভুয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড। তিনি বলেন, সিমের দায়িত্ব বিটিআরসিকে নিতে হবে। আর আইডি কার্ডের দায়িত্ব নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এছাড়া অতিরিক্ত চার্জ কাটার বিষয়ে বিকাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ক্ষেত্র বিশেষে উভয় দিক থেকে যে টাকা পাঠায় আর যে গ্রহণ করে দুদিকেই চার্জ কাটা হচ্ছে। কোনো এজেন্ট হাজারে নিচ্ছে ২০ টাকা। আবার কোনো এজেন্ট নিচ্ছে ১৯ টাকা। কেউ নিচ্ছে ১৮.৫০ টাকা। এ বিষয়ে বিকাশ এজেন্ট সাইদুল ইসলাম জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে কম চার্জ কাটে আইএফআইসি ব্যাংক। হাজারে মাত্র ১৬ টাকা। আর বিকাশ নেয় সর্বোচ্চ ১৮ টাকা পঞ্চাশ পয়সা থেকে ২০ টাকা। ডাচ্বাংলা ব্যাংক ১৮ টাকা, ইসলামী ব্যাংক ১৮ ও ইউসিবিএল নেয় ১৮ টাকা করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অনুবিভাগ সূত্রে জানা যায়, একটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন দেশের বিভিন্নস্থান থেকে দুদক কর্মকর্তা অথবা অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে মানুষকে জিম্মি করে। এক্ষেত্রে তাদেরকে বিভিন্ন বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কথা বলে। অধিকাংশই ভয়ে বিকাশে টাকা পাঠান, নয়তো অন্য কোন ব্যবস্থা নেন।দুদকের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অনুবিভাগের সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া উপ-সচিব শেখ মো. ফানাফিল্লাহ ইনকিলাবকে বলেন, আজও (গতকাল সোমবার) মোবাইল ফোন দিয়ে ব্যক্তির বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সমস্যার সমাধানে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলেছে এরকম দুটি ঘটনা আমাদের কাছে এসেছে। আমরা মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করছি। তিনি বলেন, এই শাখায় অভিযোগ আসা বিষয়গুলোর অধিকাংশই মোবাইল ফোনে টাকা চাওয়া এবং যার লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ অ্যাকাউন্টের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তবে এই শাখায় তিনি নতুন আসায় বিকাশের মাধ্যমে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ চাঁদা পাঠানোর অভিযোগ এসেছে তা সঠিকভাবে বলতে পারেননি। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিকাশের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার অহরহ অভিযোগ রয়েছে তাদের কাছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে পরিচালিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বেশকিছু জাল-জালিয়াতির ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। মানব পাচারের অর্থায়নেও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা কাজে লাগানো হচ্ছে বলে পৃথক একাধিক সূত্র আশংকা প্রকাশ করেছে। অধিকতর যাচাই-বাছাই করতে বিষয়টি নিয়ে এখন তদন্তে নেমেছে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে গত বছরের ২৮শে নভেম্বর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ নির্দেশনা অনুযায়ী একজন গ্রাহক একের বেশি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন না। ইতোমধ্যে যেসব গ্রাহকের একাধিক হিসাব রয়েছে, তাদের একটি রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে
http://www.dailyinqilab.com/details/20305/%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A7%9F%E0%A6%A4%E0%A6%BE
হাসান সোহেল : প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। দিন যত গড়াচ্ছে বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। বেড়েছে এর ব্যবহারের ঝুঁকিও। সুবিধার পাশপাশি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করায় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। আর এর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে...