28/06/2025
#গল্প_তুই_আমার_নিঃস্বাশে_বাধা
#লেখনীতে_রিয়া_আফরোজ
্ব_২
"-খান বাড়িতে আজ লেগেছে উৎসবের ছোঁয়া, চারদিকে কেবল আনন্দ আর হৈচৈ।এরই মধ্যে তিহানের মা তার বাবার বাড়িরতেও এই খবর পাঠিয়ে দিয়েছে। তিহানের মামা মামি কত খুশি, আজ এতো বছর পর তিহান কে দেখবে।তারা আজই চলে যাবে খান বাড়িতে।তিহানের মামাতো ভাই বোন, আইমান রিতি আর নিশা কত খুশি হয়েছে ফুফাতো ভাই এসেছে, ফুফাতো ভাই কে দেখতে যাবে। আইমান ভাইবোনদের মাঝে সবার বড় অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ে। রিতি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে আর নিশা ছোট নাইনে পড়ে।
"-তিহান নিজের রুমে ঢুকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সেই ছোটবেলা এই রুমে তার কত আনাগোনা, কত রাত কাঠিয়েছে।১০ বছর সে এই রুমটায় থাকেনি তাও সেই আগের মতোই আছে।তিহান ছোট থেকেই রাগী ছিল।তার মা ব্যতিত তার রুমে কেউ ঢুকার শাহস পেতো না।
"- তিহান রুমটার দিকে তাকিয়ে ভাবছে কত রাত জেগে সে এই রুমে এই টেবিলে পড়াশোনা করেছে। এসএসসি তে গোল্ডেন এ+ অর্জন করেছে।তিহান ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিল ১৫ বছর বয়সেই এসএসসি পাশ করে। বর্তমানে তিহানের বয়স ২৬ বছর।নামি-দামি ২ কোম্পানি আছে তার নামে।
"-তবুও তিহানের দাদু আর বাবা চাচারা চায় তিহান খান বাড়ির কম্পানির দেখাশোনা করুক কারণ খান বাড়িতে কোনো ছেলে নেই। তিহান'ই খান বাড়ির একমাত্র ছেলে আর বড় সন্তান।তাদের পর কে এইসব দেখাশোনা করবে?মেয়েদের তো বিয়ে হয়ে যাবে এক সময়।
"- বড় নাতি এতো বছর পর বাড়ি ফিরেছে এই খুশিতে তিহানের দাদু মোতালেব খান তার এতিমখানাতেও বাচ্চাদের জন্য খাবারের আয়োজন করেছেন।তিহানের বাবা প্রতিবেশীদের দাওয়াত করেন খান বাড়িতে, তাদেরও আজ দাওয়াত।প্রতিবেশীরাও খুশিতে ছুটে আসে খান বাড়ির তিহান কে এতো বছর পর দেখবে বলে।
"-তারই মাঝে বাজার থেকে ফিরেন তিহানের ছোট চাচা আজিজুল খান। কত রকমের বাজার সাজার করেছে আজ। এই নাও কেয়ার মা বাজার থেকে আজ বড় বড় চিংড়ি এনেছি। তিহান চিংড়ি মাছ খেতে খুব ভালোবাসতো।আজ সবরকমের ভালো ভলো খাবার রান্না হবে দুপুরের জন্য বোঝেছ। আমি আসছি বলে আজিজুল খান চলে যায় তিহানের রুমের উদ্দেশ্য। তিহান এতো বছর পর চাচা কে দেখে জড়িয়ে ধরে কেমন আছেন ছোট আব্বু? আলহামদুলিল্লাহ বাবা ভালো আছি।তুমি কেমন আছো? জ্বী, ছোট আব্বু ভালো আছি।
তিহানের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে, আচ্ছা তিহান বাবা তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও আজ দুপুরে সবাই এক সাথে খাবো বলেই আজিজুল খান বেড়িয়ে যায়।
"-এরই মাঝে তিহানের মা রুমে প্রবেশ করে।কি'রে তিহান রেডি হোসনি? দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার তোর বাবার সাথে এতিম খানাতে যেতে হবে। তোর দাদু বলেছে নিজের হাতে বাচ্চাদের কিছু দান করবি তুই। ঠিক আছে আম্মু। হ্যাঁ বাবা,এখন ফ্রেস হয়ে একটু রেস্ট করে নে এই ফাকে,কতটা রাস্তা এসেছিস। আচ্ছা আমি আসছি নিচে কত কাজ পরে আছে তোর মামা বাড়ির লোকজন আসছে আজ বলে ফারজানা বেগমও রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।তারই মাঝে জিসান প্রবেশ করে তিহানের রুমে।
"-দোস্ত আমি আসছি, বাড়িতে যেতে হবে। আরে দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে যাবি না? না দোস্ত আজ না আরেকদিন আসবো। তারপর তিহান লাগেজটা খুলে কয়েক রকমের ৩০ টা শার্ট বের করে। এর মাধ্যে ১৫ টা সাদা শার্ট বাকিগুলো অন্যান্য রকমের। দোস্ত দেখ তো কোন গুলো তোর পছন্দ হয়?কেন? যতটা পছন্দ হবে ততোটা নিয়ে যাবি। যদি ভালো লাগে সবগুলোই নিয়ে যাবি, তোর জন্য এনেছি। আরে আমার এতো গুলো শার্ট লাগবে না। তা বললে হবে না, একটা আগে পড়ে দেখ কেমন লাগে বাকিগুলা আমি প্যাকেট করে দিচ্ছি। তিহানের জোড়াজুড়িতে জিসান একটা শার্ট নিয়ে আয়নার সামনে যায়। দেখ দোস্ত এইটা আমাকে কেমন লাগছে? মানাইছে না?। হ্যাঁ, তবে বাকি গুলি নিয়ে যাস তোর জন্য এনেছি, নে ধর। না, এতোগুলো লাগবে না কয়েকটা দে শুধু। তারপর তিহান ১২ টা শার্ট প্যাকেট করে দেয়।নে ধর এইগুলা, বলে জিসানের হাতে দেয়।
"-লাগেজের দিকে তাকাতেই জিসানের চোখ যায়, একটা লাল রঙের বক্সের দিকে। যেনো চকচক করছে বক্সটা।নিশ্চয়ই মূল্যবান কিছু হবে? কি'রে দোস্ত ওইটা কি? কিছু না,ওইটা আমার পার্সোনাল।ওইটা কার জন্য? কারো জন্য নয়।তোরে ওইটার দিকে তাকাতে বলিনাই। তোরে যেটা বলছি সেটা কর সালা।
"বিয়ে করবি নাকি আমার বোন রে?
"কেন?
"সালা বললি যে?
"-আস্তাগফিরুল্লাহ আমার এতো সুন্দর একটা "মায়াপরী " থাকতে তোর বোন রে বিয়ে করবো কেন? তোর বোন মানে আমারো বোন বুঝলি।জিসান জিজ্ঞেস করে, তো তোর ওই "মায়াপরী"টা কে জানতে পারি? না! জিসান আবার বলে কে তোর "মায়াপরী"? তুই কারো প্রেমে পরেছিস নাকি তিহান? সিক্রেট বলা যাবে না! এখন আমি ফ্রেস হবো তুই নিচে গিয়ে আড্ডা দে, আমি আসছি। জিসান আবারো জিজ্ঞেস করে,বলনা দোস্ত, বলনা, আমিও জানতে চাই কে তোর ওই "মায়াপরী "?
"-তিহান তেড়ে আসে, তুই যাবি আমার রুম থেকে তোকে আমি দাড়া সালা। যাচ্ছি যাচ্ছি বলে জিসান এক দৌড় লাগায়। সামনে তিহানের মা ফারজানা বেগম পরে। এইভাবে কই ছোটছো জিসান? খেয়ে যাবে না আজ দুপুরে? না আন্টি আরেক দিন খাবো আজ যাই। ফারজানা বেগম একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে, পাগল ছেলে একটা ঠিক আমার তিহানের মতো।
,,,,,,,,,,
"-তিহান ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে তাকাতেই দেখে কেয়া দাঁড়িয়ে আছে। তিহান তো অবাক,সত্যি কি এটা ওই ছোট্ট "মায়াপরী"টা যার সাথে বিয়ে ঠিক করায় তিহান রাগ করে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল?তার "মায়াপরী " কি আজো তার উপর রেগে আছে। বিভিন্ন ধরনের চিন্তা আসছে মাথায় তাও তিহান বলে,,,,,,
"-কি 'রে " ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?ভিতরে আয়।আসলে আম্মু আপনার জন্য শরবত পাঠিয়েছে। হ্যাঁ রাখ এটা টেবিলে।
"আমি আসি।
"চলে যাবি যখন এসেছিস কেন?কেয়া মাথা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। তিহান কেয়ার কাছে একটু এগিয়ে গিয়ে থুঁতনিতে ধরে মাথা উঁচু করে। কি'রে তাকা আমার দিকে। আ,,আ,,আসলে তিহান ভাই।
"হুম!কি আসলে?
"আসলে,কেয়া ভয়ে কাঁপছে।
" হুম বল, কি আসলে?
"আসলে!
"আরে এই আসলেই টা কি বল না?
"আসলে তিহান ভাই আম্মু বলেছিল!
"হুম কি বলে ছিল?
চলবে.....
"গল্প টা আমি আরো পরে দিতে চাইছিলাম তবে পাঠকদের অনুরোধে আমি না লিখে থাকতে পারিনি।তবে আমি বেশ কিছু জায়গায় দেখলাম গল্প টা অনেকেই নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে, নকল হইতে সাবধান! এই গল্পের আসল লেখিকার #রিয়া_আফরোজ।