15/03/2026
ঠকানো, নীরবতা আর সম্পর্কের দায়💕
গতকাল একটা পুরোনো বাংলা সিনেমা দেখছিলাম— একান্নবর্তী।
ছবিটা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু একটা দৃশ্য মাথার ভেতর বারবার ফিরে আসছে-
একজন স্ত্রীর অধীর অপেক্ষা-
স্বামী তার কয়েকদিনের অফিস ট্যুর শেষে বাড়ি ফিরবে-
তাই ব্যস্ত হয়ে স্বামীর প্রিয় খাবার সাজাচ্ছে
সব খাবার, ওষুধ, পানি, জুস—সব যেন ঠিকঠাক থাকে।
কারণ সে জানে, মানুষটা নিজের যত্ন নিতে খুব একটা পারে না।
তার এই অস্থিরতা, এই ব্যস্ততা—
সবকিছুর ভেতরেই ছিল এক ধরনের ভালোবাসা,
যে ভালোবাসা শব্দে নয়, যত্নে প্রকাশ পায়।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর দরজায় কড়া নাড়ে এক পুলিশ অফিসার।
খবর দেয়— তার স্বামী রোড অ্যাক্সিডেন্টে হাসপাতালে।
হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রী জানতে পারে—
স্বামী অফিস ট্যুরে যায়নি।
সে গিয়েছিল অন্য এক সম্পর্কের কাছে।
২৫ বছরের সংসারের সামনে দাঁড়িয়ে তখন স্ত্রীর একটা প্রশ্ন—
“কত বছর ধরে?”
স্বামীর উত্তর আসে খুব সহজ গলায়—
“পাঁচ বছর।”
আরও একটা কথা বলে স্বামী—
“এক সময় আমি সম্পর্কে খুব বোর হয়ে গিয়েছিলাম ছিলাম…
এই মেয়েটি আমার জীবনে এসে আমাকে আবার বাঁচতে শিখিয়েছে।”
স্ত্রী তখন খুব শান্ত গলায় শুধু একটা কথাই বলে—
“তাহলে এই ২৫ বছর…
তোমাকে আগলে রাখা, আমাদের দুই কন্যাকে বড় করা,
সংসারের সবকিছু সামলানো,
তোমার অসুখে রাত জেগে থাকা,
তোমার বাইপাস অপারেশনের পর প্রতিদিনের ওষুধ,
তোমার খাওয়া-দাওয়া, দুশ্চিন্তা, যত্ন—
এসব কে করেছিল?”
কিছু প্রশ্নের উত্তর থাকে না।
কারণ সেগুলো আসলে উত্তর শোনার জন্য নয়—
ভাঙা বিশ্বাসের শব্দ শোনানোর জন্য।
ঠকানো শুধু একটা সম্পর্ক ভাঙে না,
ভেঙে দেয় মানুষের ভিতরের ভরসাটাকে।
সংসার শুধু ভালোবাসায় দাঁড়ায় না—
সংসার দাঁড়ায় দায়িত্ব, বিবেক আর সততার ওপর।
একজন পুরুষ হোক বা একজন নারী—
যখন কারও জীবনের সঙ্গে আমরা ২০–২৫ বছর হেঁটে যাই,
তখন সেই সম্পর্ক শুধু আবেগের নয়,
সেটা একটা নৈতিক দায়িত্বও হয়ে যায়।
মানুষের জীবনে ক্লান্তি আসতে পারে,
অভিমান আসতে পারে,
কখনো কখনো ভালোবাসাও ফিকে হয়ে যেতে পারে।
কিন্তু তার মানে এই নয় যে—
গোপন একটা জীবন তৈরি করে
অন্য মানুষটাকে অন্ধকারে রেখে দেওয়া।
কারণ ঠকানো মানে শুধু মিথ্যা বলা নয়,
ঠকানো মানে—
একজন মানুষের বিশ্বাস, সময়, জীবন—সবকিছুকে অজান্তে ব্যবহার করা।
যদি কোনো সম্পর্কের ভেতরে শূন্যতা আসে,
যদি মনে হয় কোথাও কিছু ভেঙে যাচ্ছে—
তাহলে সাহস করে কথা বলা দরকার।
খোলামেলা কথা…
দুজন মানুষের মাঝে।
কখনো কখনো সেই কথোপকথন
দুজনের মধ্যে সমাধান এনে দিতে পারে।
আর যদি না পারে—
তাহলে কোনো বিশ্বস্ত তৃতীয় মানুষের সাহায্য নেওয়া যায়।
পরিবারের কেউ, বন্ধু, কিংবা কাউন্সেলর।
কারণ সম্পর্ক বাঁচানোর চেষ্টা না করে
গোপনে অন্য একটা সম্পর্ক তৈরি করা—
সেটা কোনো সমাধান নয়।
ভালোবাসা হারালে মানুষ আবার ভালোবাসতে পারে।
কিন্তু বিশ্বাস ভেঙে গেলে
সেই ভাঙনের শব্দ খুব গভীর।
তাই সম্পর্কের ভেতরে যদি কোনোদিন অন্ধকার নেমেও আসে—
গোপন দরজা খুলে পালিয়ে যাওয়ার আগে
একবার আলো জ্বালিয়ে কথা বলা দরকার।
কারণ সত্য কখনো কখনো কষ্ট দেয়,
কিন্তু মিথ্যা শেষ পর্যন্ত আরও অনেক বেশি ভাঙন রেখে যায়।
Munira Yusuf Memi
মুনিরা ইউসুফ মেমী
১৪/৩/২০২৬