Winx

Winx Combination of living things.
(1)

জুলাই সনদের মোট প্রস্তাব ৮৪টি৷ এটাকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে আছে ১-৪৭ নং প্রস্তাব৷ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এই প্রথম...
11/02/2026

জুলাই সনদের মোট প্রস্তাব ৮৪টি৷ এটাকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে আছে ১-৪৭ নং প্রস্তাব৷ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এই প্রথম ভাগের উপরে৷ অর্থাৎ হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হলে এগুলো বাস্তবায়ন হবে। এই ৪৭টি প্রস্তাবের সার আমি সহজ ভাষায় ১৭টি পয়েন্টে তুলে ধরব।

১. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷ প্রচলিত অন্যান্য ভাষার স্বীকৃতি প্রদান। জাতি হিসেবে বাঙালি না, বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত হবো আমরা।

২. সংবিধানের মূলনীতি আগে যে চারটা ছিল: গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ৷ এখন যে চারটা থাকবে: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি।

৩. জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট৷ নিম্নকক্ষের এমপিরা আগের কায়দায় নির্বাচিত হবেন৷ উচ্চকক্ষের আসন সংখ্যা হবে ১০০৷ উচ্চকক্ষের প্রার্থীরা PR পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। পিআর জিনিসটা খুবই সিম্পল। একটি রাজনৈতিক দল দেশের মোট ভোটের কত শতাংশ পেলো তার উপর নির্ভর করে উচ্চকক্ষে সিট পাবে। ধরে নিই, কোনো দল দেশের মোট ভোটের ৩৫% পেয়ে নিম্নকক্ষে ১৫১টি আসন পেলো৷ তারা সরকার গঠন করতে পারবে কিন্তু উচ্চকক্ষে ৩৫টা সিট পাবে ১০০টার মধ্যে। সোজা কথায়, যত পার্সেন্ট ভোট, ততটা উচ্চকক্ষের সিট। জিতে গেলে সব পাওয়া, আর ভালো সংখ্যক ভোট পেয়ে হেরে গেলে সব হারানো— এই চলমান নীতির অবসান হবে৷

৪. মন চাইলেই সংবিধান সংশোধন করা যাবে না। নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে প্রথমে৷ সেইখানে পাশ হইলে উচ্চকক্ষে যাবে৷ উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানে অর্ধেকের চেয়ে বেশি ভোট লাগবে৷ তবে ভাইটাল কিছু সংশোধন করতে হইলে গণভোট লাগবে৷

৫. রাজনৈতিক দলের হেডপারসন প্রধানমন্ত্রী হইতে পারবেন না। উলটো করে বললে ভালো বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী হইলে আর দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। মানে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অবসান হবে।

৬. প্রধানমন্ত্রী চাইলেই জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবে না; মন্ত্রীসভার মিটিং লাগবে; সেই মিটিংয়ে বিরোধী দলের নেতা বা উপনেতার উপস্থিত থাকা লাগবে৷ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে মানুষ মাইরা ফ্যালা যাবে না।

৭. সংসদের মধ্যে নানারকম ভোট-ফোট হয়। ওইখানে আগে নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া যাইতো না। ফলে অনেক অন্যায়ের বিরুদ্ধে চাইলেও অবস্থান নিতে পারতেন না এমপিরা৷ এখন দেওয়া যাবে। অর্থবিল আর আস্থা ভোট ছাড়া যেকোনো কেইসে নিজের দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যাবে।

৮. সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে। নিম্নকক্ষের ৩০০ এমপির মধ্যে অন্তত ১০০ জন হবেন নারী। এই লক্ষ্য ক্রমান্বয়ে পূরণ করা হবে৷ কোটা পূরণ না বরং প্রকৃতপক্ষে নারীর ক্ষমতায়ন হবে।

৯. আগে তো একটাই কক্ষ ছিল সংসদের৷ তাই ওই এক কক্ষের সাংসদরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতেন। এখন যেহেতু দুই কক্ষ হবে, দুই কক্ষের লোক মিলায়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।

১০. আগে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া মাত্র দুইজনকে নিয়োগ দিতে পারতেন: প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি। এখন আরও ৬টা জায়গায় উনি এই পাওয়ার পাবেন৷ ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে৷ প্রধানমন্ত্রী যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে না৷

১১. রাষ্ট্রপতির অভিশংসনও অতো সহজে করা যাবে না। প্রথমে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে৷ তারপর উচ্চকক্ষেরও দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগবে৷ ফলে, রাষ্ট্রপতি আর পুতুল হিসেবে থাকবে না।

১২. রাষ্ট্রপতি আগের মতো আসামীকে মাফ-টাফ করে দিতে পারবেন। তবে ভিক্টিমের পরিবারের সম্মতি লাগবে তাতে।

১৩. নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্ডারে৷ তবে রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারবেন না। ফলে উনি একটা রিয়েলিটি চেক খাবেন৷ প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা হবে পদ্ধতি মেনে, কমিটি করে, মোটামুটি সব পক্ষের অংশগ্রহণে।

১৪. ডেপুটি স্পিকার হবে বিরোধী দল থেকে৷ সংসদীয় বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতেও থাকবেন বিরোধী দলের লোক। অর্থাৎ ক্ষমতায় আরও একটু ভারসাম্য।

১৫. বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন৷ প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাবেন আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি। আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাবে৷ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ হবে নিয়োগ কমিশনের মাধ্যমে। সুপ্রিম কোর্ট শুধু ঢাকায় থাকবে না, বিভাগেও স্থায়ী বেঞ্চ থাকবে৷ মানুষের দৌড়াদৌড়ি একটু কমবে। অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির ব্যাপারটা দেখবে সুপ্রিম কোর্ট৷

১৬. নির্বাচন কমিশন, ন্যায়পাল, সরকারি কর্ম কমিশন, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুদকে নিয়োগ হবে নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে৷ সেই কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। অর্থাৎ আরও বেশি ভারসাম্য৷

১৭. স্থানীয় সরকার হবে স্বায়ত্তশাসিত। আমলারা হবে জনপ্রতিনিধিদের অধীন।

গণভোট সম্পর্কিত কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিও বা পোস্ট আমি দেখিনি, পাছে প্রভাবিত হই। মানে, এই মতামত-বোঝাপড়া নিতান্তই মৌলিক বলা যায়৷ যদি আপনার মনে হয় আমি কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ মিস করে গেছি, ভুল বা শয়তানি করেছি, তাহলে আমাকে দেখিয়ে দেবার অনুরোধ৷

আওয়ামী লীগ এবং অ-আওয়ামী লীগ অংশের যারা প্রচার করছেন যে এর সাথে এলজিটিভি ইস্যু বা ফরিদপুরের বিভাগ হওয়া ইত্যাদি সম্পর্কিত তারা ভুলও করছেন না, কন্সপিরেসি থিওরিও দিচ্ছেন না; তারা ডাহা মিথ্যা কথা বলছেন। আমার কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই, নিজে জুলাই সনদ পড়ে দেখতে পারেন৷

এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কোনোটার সাথেই আমার কঠোর দ্বিমত নেই। বরং কিছু কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরি মনে করি, যেমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন, ক্ষমতার ভারসাম্য, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি৷ তবে লুপহোল আছে। ইভেন যদি ফুলপ্রুফও হতো তাও কথা থাকতো: রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।

অনেকে বলছেন, হ্যাঁ ভোট না দেওয়াটা হচ্ছে শহিদের রক্তের সাথে বেঈমানি। আমি ওভাবে বলব না। বেঈমানি অনেক কঠিন শব্দ। বরং এভাবে বলা যায়, হাজারের উপরে মানুষ শহিদ হয়েছেন, শুধু কিছুটা পরিবর্তনের আশায়। দেড় বছরে আমরা জাতি হিসেবে শুধু সেই পরিবর্তনের একটা ড্রাফট করতে পেরেছি। সেই ড্রাফট কাজে লাগানোর সুযোগ আমাদের সামনে উপস্থিত। চাবি আমাদের হাতে।

এজন্যই আমি এবং আমরা শুরু থেকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করছি; বলছি যে, ভোট যাকে খুশি দেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট অবশ্যই দিয়েন। আপনার পছন্দের রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করলে যাতে তারা উলটো আপনার উপর অত্যাচার করতে না পারে এইজন্য হলেও গণভোটে হ্যাঁ দিন।

অন্তর্বর্তী সরকার হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা করতে পারবে না— এরকম 'নিরপেক্ষ' অবস্থান আমি ধারণ করি না। তবে এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা যে, স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসেও জনগণের টাকায় একটা খুবই অভিয়াস জিনিসের ব্যাপারে প্রচারণা চালানো লাগছে।

আমার যেরকম সংস্কার প্রস্তাবের সবগুলোই এককথায় মোটামুটি পছন্দ হয়েছে, আপনাদের সবার না-ও হতে পারে৷ সেক্ষেত্রে আপনারা কী করবেন? কস্ট-বেনিফিট হিসাব করবেন। ৪৭টা প্রস্তাবের কতগুলো আপনার পছন্দ, কতগুলো অপছন্দ, সেই পছন্দ-অপছন্দের মাত্রাটা কেমন৷ ধরে নিই, আপনার ৭টা প্রস্তাব পছন্দ হয়নি, বাকি ৪০টা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনি হ্যাঁ ভোট দেবেন৷ আবার দেখা গেল সেই ৭টা প্রস্তাবের সাথে আপনি এমনভাবে দ্বিমত যে সেটা বাকি ৪০টা পজিটিভ পয়েন্টকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে৷ তখন না ভোট দেবেন৷ তবে আপনি যদি সত্যিই প্রি-ডিটারমাইন্ড কোনো পজিশনে স্ট্রিক্ট না থাকেন, এরকমটা হবার কথা না, সমস্ত লুপহোল সমেতই৷

আমি মনে করি, ভোট ঠিকঠাক হলে হ্যাঁ ভোট জিতবে৷ তবে যদি ফেয়ার ইলেকশনে না ভোট জেতে তবে তা-ই সই। এটাই গণতন্ত্র।

গণভোটে হ্যাঁ জিতলে বাংলাদেশ রাতারাতি স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে না। তবে মিনিমাম একটা মানবিক এবং সিভিলাইজড রাষ্ট্র গঠনের প্রথম পদক্ষেপটা আমরা নিতে পারবো৷

- Copied Post

এই ফয়সাল তো  মীর জাফরের চেয়ে ও বড় বিশ্বাস ঘাতক। এরা পাশে থেকে, আগে বন্ধু হয়, সব কিছু জানে, তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ ক...
22/12/2025

এই ফয়সাল তো মীর জাফরের চেয়ে ও বড় বিশ্বাস ঘাতক।

এরা পাশে থেকে, আগে বন্ধু হয়, সব কিছু জানে, তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে।

মানুষের গর্ভে অমানুষের জন্ম।

দ্রুত বিচার দাবী করছি।

এই মৃত্যু কোনোভাবে ই মেনে নেয়া যায় না।

১০ মাসের ছেলে সন্তান টা পিতৃহারা, এতিম হলো। এই ছোট্ট ছেলের অভিশাপে ও বাংলাদেশের লাখো কোটি মানুষের অভিশাপে এই কুলাংগারের জীবন পর্যুদস্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।

যত দ্রুত সম্ভব এই অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হোক্।

ঘটনার অন্তরালে :

ছয় মিনিটের সেই বৈঠকে হাদিকে যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন শুটার ফয়সাল
বিদেশ থেকে দেশে ফিরে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয় একটি ‘শ্যুটার টিম’। টার্গেট বাস্তবায়নে আগে তৈরি করা হয় সখ্যতা, এরপর মাত্র সাত দিনের মধ্যেই চালানো হয় প্রাণঘাতী হামলা।
গুলি করে হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দেশ ছাড়ে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গায়েব করা হয় গুরুত্বপূর্ণ আলামতও। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নেপথ্যে এমনই এক সুপরিকল্পিত মিশনের তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা তদন্তে।
ওসমান হাদি এবং শ্যুটার ফয়সালের পরিচয় ও সখ্যতার সূত্রপাত ঘটে ইনকিলাব মঞ্চের কালচারাল সেন্টারেই। সময় টেলিভিশনের হাতে আসা শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনায় উঠে এসেছে-হাদিকে গুলি করার আগে শ্যুটাররা কোথায় কোথায় অনুসরণ করেছে, কীভাবে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
গত ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে বাংলামোটরের ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে আসেন শ্যুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির। প্রায় ছয় মিনিটের সেই বৈঠকটি ছিল মূলত হাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির প্রথম ধাপ। বৈঠকে ফয়সাল হাদির সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।
এরপর ৯ ডিসেম্বর রাতে আবারও কালচারাল সেন্টারে আসেন ফয়সাল। এবার তার সঙ্গে ছিলেন না কবির, নতুন সঙ্গী ছিলেন আলমগীর। ওই বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা। সেখান থেকেই হাদির টিমে ঢুকে পড়েন ফয়সাল। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেন তিনি।
প্রচারণায় অংশ নেয়ার পরই হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন শ্যুটার ফয়সাল। মিশন বাস্তবায়নের জন্য নরসিংদী, সাভার, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় রেকি করেন তিনি। ১১ ডিসেম্বর মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে ওঠেন পশ্চিম আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায়। হামলার দিন ভোরে উবারে করে যান হেমায়েতপুরের একটি রিসোর্টে।
রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার ভোর ৫টা ২২ মিনিটে ফয়সাল ও আলমগীরের গাড়ি গ্রিন জোন রিসোর্টে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া ও তার বোন। সেখানে হাদির একটি ভিডিও বান্ধবীকে দেখিয়ে ফয়সাল জানান, তিনি হাদিকের মাথায় গুলি করার পরিকল্পনা করেছেন এবং এতে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে। এ কারণে ঘটনার পর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে বান্ধবীকে নিয়ে রিসোর্ট থেকে বের হন ফয়সাল। বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন আলমগীর। উবারের গাড়িতে করে বান্ধবীকে বাড্ডায় নামিয়ে দেন তারা। এরপর সকাল ১১টা ৫ মিনিটে আগারগাঁওয়ের বাসা থেকে মোটরসাইকেলে বের হন ফয়সাল ও আলমগীর। তারা সরাসরি যান হাদির সেগুনবাগিচার প্রচারণায়। সকাল পৌনে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছান ফয়সাল। প্রচারণা শেষে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদি মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে শ্যুটাররা পেছন থেকে তার অটোরিকশা অনুসরণ করতে থাকেন।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হাদিকে বহন করা অটোরিকশা মতিঝিলের জামিয়া দারুল উলুম মসজিদের সামনে পৌঁছায়। আলমগীর মোটরসাইকেল পার্ক করলে দুজন নেমে আবারও প্রচারণায় যুক্ত হন।
মতিঝিলের দারুল উলুম মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন হাদি। নামাজ শেষে সেখানে প্রচারণা করার কথা ছিলো। আর সেই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছিল শ্যুটার দলের দুজন।
নামাজ শেষে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে হাদি সেখান থেকে রওনা হলে শ্যুটাররাও পিছু নেয়। উল্টো পথে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে ডান দিকে ঘুরে পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে ঢুকে পড়ে তারা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ফাঁকা জায়গা খুঁজে বেড়ানোর পর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে খুব কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে ফয়সাল।
ঘটনার পরপরই পালানোর নাটক শুরু হয়। বিজয়নগর, কাকরাইল, শাহবাগ হয়ে ফার্মগেইট পেরিয়ে সোজা পশ্চিম আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায় পৌঁছান তারা। বিকেল তিনটায় সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই বাসা ভাড়া নিতে আসা এক ব্যক্তি কলিং বেল চাপলে আতঙ্কে অস্ত্রভর্তি ব্যাগ নিচে ফেলে দেয় ফয়সাল। পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেয় নিজের মোবাইল ফোন। অস্ত্র ও মোটরসাইকেল রেখে পালানোর চেষ্টা করলে বিপত্তি ঘটে। বিষয়টি জেনে যায় পরিবারের সদস্যরাও। তখন আলামত নষ্টে জড়িয়ে পড়ে বাবা-মা।
বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে ফয়সালের বাবা বাইকচালক আলমগীরকে নিয়ে মোটরসাইকেলের আসল নম্বরপ্লেট নিয়ে এসে পার্কিংয়ে ঢোকেন। নকল নম্বরপ্লেট খুলে আসলটি লাগানো হয়। এরপর আলমগীরসহ মোটরসাইকেলটি পাশের একটি ভবনের গ্যারেজে রেখে দেয়া হয়। পরে নিচে পড়ে থাকা ব্যাগ উদ্ধারে মই দিয়ে ভাগনেকে দুই ভবনের মাঝখানে নামানো হয়। পাশের ছাদে ফেলে দেয়া মোবাইল আনতেও ভাগনেকেই পাঠানো হয়। ছেলের পালানোর ব্যবস্থা করতে অটোরিকশা ভাড়া করেন ফয়সালের বাবা।
বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে পশ্চিম আগারগাঁও থেকে সিএনজিতে করে আমিনবাজারে যায় ফয়সাল। সেখান থেকে উবারে ধামরাইয়ের কালামপুর, এরপর ভাড়া করা প্রাইভেটকারে নবীনগর হয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা-মাওনা পেরিয়ে পৌঁছায় ময়মনসিংহে। সেখান থেকে হালুয়াঘাটের ধারাবাজার পেট্রোল পাম্পে যায় তারা। সময় টেলিভিশনের হাতে আসা ওই পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ৩১ মিনিটে সেখানে পৌঁছায় শ্যুটারদের বহনকারী প্রাইভেটকার। মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল মোটরসাইকেলে এসে তাদের রিসিভ করে সীমান্তের দিকে নিয়ে যান।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ফিলিপের দুই সহযোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে শ্যুটাররা ভারতে পালিয়ে যায়। সময় টেলিভিশনের হাতে এসেছে শ্যুটার ফয়সালের ফোনের আইপি অ্যাড্রেসও, যেখানে দেখা যায় বুধবার তার লোকেশন ছিল ভারতের মহারাষ্ট্রে এবং সে রিলায়েন্স সিম ব্যবহার করছিল।
হত্যার পর আলামত গায়েব করতেও ছিল সুপরিকল্পিত ছক। অস্ত্রভর্তি ব্যাগ শ্যালক শিপুর হাতে দেয়া হয়। শিপু সেটি দেয় বন্ধু ফয়সালের কাছে, যিনি নরসিংদীর তারাবো খালে ব্যাগটি ফেলে দেন। স্ত্রী ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যান নরসিংদীতে, আর বাবা-মা আত্মগোপনে যান কামরাঙ্গীরচরে।
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঘটনার আগে ও পরে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
প্রধান দুই আসামি এখনও পলাতক থাকলেও তদন্তে পুরো হত্যাকাণ্ডের নকশা সামনে এসেছে। গত জুলাইয়ে দেশে ফিরে ফয়সাল কবির, কামাল, রুবেল ও মাইনুদ্দিনদের নিয়ে কিলিং মিশনে নামে। তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শুরুতেই শনাক্ত করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, গ্রেফতার হন মালিক। পরে জানা যায়, সেটিতে ছিল নকল নম্বরপ্লেট। সিটিটিসির অভিযানে উদ্ধার করা হয় মোটরসাইকেলটি।
মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেলটি অল্প সময়ের মধ্যে আটবার হাতবদল হয়ে শুভ নামের এক ব্যক্তির কাছে যায়। শ্যুটাররা কীভাবে শুভর কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হত্যায় সহায়তার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে শ্যালক শিপু, স্ত্রী সামিয়া ও বান্ধবী মারিয়াকে। কামরাঙ্গীরচর থেকে বাবা-মাকে গ্রেফতারের পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে তারাবোর বিল থেকে উদ্ধার হয় দুটি অস্ত্র। গ্রেফতার হন প্রাইভেটকারচালক নুরুজ্জামানও। পরে ফয়সালের বোনের বাসার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় হাদিকে গুলি করা সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ ক্যালিবারের পিস্তলের গুলি ও ম্যাগজিন। উদ্ধার হয়েছে কয়েকশ কোটি টাকার চেক। তদন্তে এখন প্রশ্ন উঠেছে- এত বিপুল অর্থ কি শুধু হাদিকে হত্যার জন্য, নাকি ছিল আরও কিলিং মিশনের পরিকল্পনা?
িভি

"দেশ ছাড়ার পরে, দেশ ছাড়ায়, নিষেধাজ্ঞা "

হায়রে বাংলাদেশ, হায়রে অথর্ব সরকার ও সরকারি প্রশাসন !!!!!!

সবাই নিজের পরিবার ও আখের গোছাতে ই Busy.

কি হচ্ছে আসে পাশে আমাদের এসব 😒😔কাজের বুয়াকে নিয়ে অনেক গর্ব করতাম। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস যাকে বলে। এক ছোটবোন আমাকে বলেছিলো...
08/12/2025

কি হচ্ছে আসে পাশে আমাদের এসব 😒😔

কাজের বুয়াকে নিয়ে অনেক গর্ব করতাম। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস যাকে বলে। এক ছোটবোন আমাকে বলেছিলো - 'ভাইয়া। বুয়াদেরকে কখনও অন্ধভাবে বিশ্বাস করবে না। নিরাপত্তার জন্য কিছুটা অবিশ্বাস মনে রেখে দিও।'

সেদিন আমি ওর কথাটাকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু নতুন এক বুয়া রাখার ৫ মাস পর যেদিন চুরি করলো। সেদিন আমার টনক নড়ে।

দেখুন! চুরি অর্থাৎ মাল হারানোর কষ্ট সহ্য করা যায়। মানুষ অনেক সময় বলে না? 'মালের উপর দিয়ে গিয়েছে! জানের সদকা।'

কিন্তু বুয়ার হাতে যদি প্রাণটাই হারাতে হয়? তখন? ওটা কীভাবে সহ্য করবেন?

বুয়াই একমাত্র ব্যক্তি যাদের ঐ এক্সেস থাকে - আল্লাহ্‌র ৩০দিন কারো বাসায় বিনা অনুমতিতে প্রবেশের। দারোয়ান থেকে বাড়ির মালিক। কেউই বাঁধা দেয় না।

চাইলেই, রান্নায় খাবারের সাথে বিষ, ঘুমের মেডিসিন মিশিয়ে যা খুশি তারা করতে পারে।

চাইলেই বাইরের কোন সহযোগীকে বাসায় এক্সেস দিয়ে ঘটিয়ে ফেলতে পারে ভয়ঙ্কর কোন অপরাধ।

তারপরেও আমরা এদেরকে বাসায় প্রবেশের এক্সেস দেই কেন? কারণ আমাদের ওদের প্রয়োজন রয়েছে। ওদেরও আমাদের প্রয়োজন রয়েছে।

আর এখানেই আসে বিশ্বাসের প্রশ্ন! তবে এই বিশ্বাসটা যেন অন্ধবিশ্বাস না হয়। যাচাই বাছাই-নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই শুধু 'ঠ্যাকার কাজ' সারার জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া মানেই নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি।

আমাদের মধ্যে কজনের কাছে তাদের গৃহকর্মীর ছবি কিংবা ন্যাশনাল আইডি রয়েছে?

খুব কমই মানুষ রাখে। কারণ তাদেরকে আমরা অতটা হার্মফুল মনে করি না। অন্তত খুন খারাবি করার ব্যাপারটা মাথায় আসে না। আর এখানেই আমরা ভুলটা করে ফেলি।

আবার বুয়ার ব্যাক হিস্ট্রোরি, পরিচয়পত্র সবকিছু থাকার পরেও যে দূর্ঘটনা ঘটবে না। বহু বছর ধরে চাকুরী করে, পরিবারের সদস্য হয়ে গিয়েছে। এমন ভাবার পরেও যে, বিশ্বাস ভাঙবে না। এরও গ্যারান্টি নেই। মানুষের চরিত্রটাই এমন।

আর ঠিক এই জায়গাতেই আসে সতর্ক থাকার প্রশ্ন। সতর্ক না থাকলেই বিপদের ঝুঁকি।

চারদিন আগে -
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এই পরিবার 'আয়েশা' নামক একজন গৃহকর্মী নিয়োগ দিয়েছিলো। আজ সকালে ঐ গৃহকর্মী কাজে আসে।

গৃহকর্তার অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে এবং ছোট কন্যার স্কুল ড্রেস পড়ে এবং স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছদ্মবেশে বাসা থেকে পালিয়ে যায়।

স্ত্রী ও কন্যাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এই বাবা। উনি পেশায় একজন শিক্ষক। প্রতিদিনের মতই স্ত্রী সন্তানকে বাসায় রেখে গিয়েছিলেন স্কুলে। নবম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েটিও কিছুক্ষণ পর স্কুলে যেত, কারণ আজকে তার সর্বশেষ পরীক্ষা ছিলো। পরীক্ষা আর দেওয়া হলো না।

ঘটনার মোটিভ এখনও জানা যায়নি। কিন্তু এই বাবার এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। জীবিত থেকেও এই লোক মৃত। একটি হাসিখুশি পরিবার মূহুর্তেই ধ্বংস হয়ে গেলো।

এই সমাজে বেঁচে থাকতে হলে আমাদেরকে একে অপরকে বিশ্বাস করতে হয়। কিন্তু আমি এখন আর কাউকেই বিশ্বাস করি না। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য 'অবিশ্বাস' পুষে রাখি।

সতর্ক থাকুন। আল্লাহ্‌ আমাদের পরিবার-পরিজনকে হেফাজত করুন।

- অন্তর মাশঊদ ⚠️

কিভাবে পারল তারা এতটা ভয়ংকর ভাবে সালমান শাহ কে মা*র *তে, কিভাবে??🥲🥲🥲🥲🥲🥲সালমান শাহকে শেষ করতে কিলার ভাড়া করেন শাশুড়িআসাম...
24/10/2025

কিভাবে পারল তারা এতটা ভয়ংকর ভাবে সালমান শাহ কে মা*র *তে, কিভাবে??🥲🥲🥲🥲🥲🥲

সালমান শাহকে শেষ করতে কিলার ভাড়া করেন শাশুড়ি
আসামি রেজভীর জবানবন্দি
রকি আহমেদ
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫,

সালমান শাহকে শেষ করতে কিলার ভাড়া করেন শাশুড়ি

বাংলা চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের সুপারহিট নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ২৯ বছর পর তার অকাল প্রয়াণকে ঘিরে এতদিন ধরে চলে আসা আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। প্রায় তিন যুগ ধরে অপমৃত্যু বলা হলেও এ ঘটনায় হওয়া মামলার রিভিশন আবেদনের রায়ের প্রেক্ষিতে নতুন করে দায়ের করা হয়েছে হত্যা মামলা। যে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি কালবেলার হাতে এসেছে। রায়ে উল্লেখিত আসামি রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে উঠে এসেছে। মিলেছে হত্যার পুরো ঘটনার বিবরণও। জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, সালমান শাহকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে কিলার ভাড়া করেন তার শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয় রাজধানীর গুলিস্তানের একটি বারে বসে। কিলারদের সঙ্গে চুক্তি হয় ১২ লাখ টাকায়। দেশের অঘোষিত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হিসেবে আলোচিত আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, সালমানের স্ত্রী সামিরা হকসহ আরও ১১ জন অংশ নেন এই হত্যাকাণ্ডে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালিয়ে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই।

সালমানের পরিবারের দীর্ঘ ২৯ বছরের আইনি লড়াই শেষে সামিরা, ডনসহ ১১ বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে রায় দিয়েছেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক। এরই মধ্যে রমনা থানার দায়ের হওয়া এ হত্যা মামলাটি তদন্ত করে আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ডেবিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

রায়ের বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ক্যান্টনমেন্ট থানার আরেকটি মামলায় আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামি রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। জবানবন্দিতে রেজভী বলেন, ‘ডন সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সালমানের স্ত্রী সামিরার সঙ্গে ডনের গোপন সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দৈহিক সম্পর্কও ছিল। অন্যদিকে সামিরার মায়ের সঙ্গে চিত্র প্রযোজক আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন ও দৈহিক সম্পর্ক ছিল। তাই সালমান ডনকে এড়িয়ে চলতেন।’

হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে রেজভী বলেন, ‘সালমান শাহকে হত্যার আগের দিন ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের একটি বারে পরিকল্পনা করা হয়। ওইদিন রাত ৮টায় ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আমি বারে যাই। সেখানে আরও ২ জন ছেলে ছাত্তার ও সাজু আসে। এরপর ফারুক ২ লাখ টাকা বের করে বলে, সামিরার মা ওই টাকা দিয়েছে। কথা ছিল সালমানকে শেষ করার জন্য মোট ১২ লাখ টাকা দেবে। কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ। কিন্তু ২ লাখ টাকা পেয়ে ডনের সঙ্গে ফারুকের কথাকাটাকাটি হয়। পরে ফারুক রাগ করে বাইরে যায়। ২০ থেকে ২৫ মিনিট পরে আরও ৪ লাখ টাকা নিয়ে আসে। তখন ওখানেই ডন প্লাস্টিকের একটি দড়ি নিজের মাজায় বেঁধে উপরে কালো জ্যাকেট গায়ে দেয়। বাকি অর্ধেক রশি ফারুকের কাছে দেয়। এরপর তারা টাকা, সিরিঞ্জ, রিভলবার ইত্যাদি গুছিয়ে নেয়। সামিরার মা এবং আজিজ মোহাম্মদ ভাই দুজনে মিলেই সালমানকে শেষ করার ব্যাপারে ডন ও ফারুকের সঙ্গে কনটাক্ট হয়।’

রেজভী আরও বলেন, ‘এরপর ওই রাতে বার থেকে এফডিসি এসে শুটিং শেষে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাত আড়াইটার সময় আমাকে সালমান শাহর বাসায় নিয়ে যায় ডন। ওই বাসায় ডন, ডেভিড ও ফারুকের যাতায়াত ছিল বলে দারোয়ান কিছু বলেনি। সালমানের বাসায় লিফটে ওঠার আগেই ডান পাশে রুবী নামে এক মেয়ের রুমের দরজায় ডন নক করলে রুবী নাইটি পরা অবস্থায় দরজা খোলে। এরপর বলে, “ও তোমরা এসেছ।” তখন ডন রুবীকে বলে, ‘আজিজ ভাই কোথায়?’ বাথরুম থেকে আজিজ ভাই বের হয়ে আসে। এরপর আমরা উপরে উঠি। আজিজ ভাই চারতলায় নেমে যায়। আর আমরা ১১ তলায় নেমে সালমানের বাসায় যাই। দরজা আগে থেকেই চাপানো ছিল। দরজা খুলেই দেখা যায় সালমান বেডরুমে শুয়ে আছে। পাশে সামিরা নাই। তখন ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুকরা মিলে সালমানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ফারুক তার পকেট থেকে ক্লোলোফর্মের সিসি বের করে সামিরাকে দেয়। সামিরা তা দিয়ে সালমানের নাকের ওপর চেপে ধরে। ডন সালমানের বুকের ওপর গিয়ে বসে। আর ফারুককে বলে, আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে ডাক। ফারুক তখন বাইরে গিয়ে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে নিয়ে আসে। এরই মধ্যে সামিরার মা ড্রেসিংরুম থেকে বের হয়ে আসে। তখন ধস্তাধস্তি হচ্ছিল। সালমানের খুব শক্তি ছিল। ইনজেকশন দেওয়া যাচ্ছিল না। তখন সবাই মিলে সালমানকে ড্রেসিং রুমে নিয়ে ডেভিড সালমানের পা বাঁধে। আজিজ ভাই ডনকে ইনজেকশন দিতে বলে। পরে সামিরা পুশ করে, তার মা সামিরাকে পুশ করতে সাহায্য করে। পরে সালমান নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ইনজেকশন পুশ করার আগে আজিজ মোহাম্মদ ভাই ফ্যানটা সালমান শাহর ঘাড়ের ওপর ছুড়ে মেরেছিল। ড্রেসিং রুমে একটা মই ছিল। আজিজ মোহাম্মদ ভাই আমাকে মইটা আনতে বলে। আমি এনে দিই। এরপর তিনি দড়ি চান। তখন ডন নিজের কোমরের দড়িটা খুলে আজিজ ভাইয়ের হাতে দেয়। আজিজ মোহাম্মদ ভাই নিজেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে দড়িটি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বাঁধে। তাতে আমি, সামিরা, সামিরার মা সাহায্য করি। পরে সালমানের পায়ে বাঁধা রশিটা খুলে বুকের ওপর উঠে গলায় চাপ দিয়ে রাখে এবং পরীক্ষা করে দেখে যে নিঃশ্বাস নেই। উপরের রশিটা খানিকটা ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে দেখানো যায় যে, লাশটাকে ঝোলানো থেকে খোলা হয়েছে। পরে সালমান সুইসাইড করেছে এটা দেখানোর জন্য তাকে তেল মালিশ করা হয়, কাপড় ভিজিয়ে শরীরে রাখা হয়। এরপর যে যার মতো চলে যাই। আমিও ফরিদপুর চলে যাই। এরপর কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। কিছুদিন পর ডনের সঙ্গে ঢাকায় দেখা হলে আমাকে জানায় দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই। আজিজ মোহাম্মদ ভাই সব ঠান্ডা করে দিয়েছে। পরে আমি আবার বাড়িতে গেলে ১৯৯৭ সালের ৪ঠা জুলাই ডন ও ডেভিড আমাদের বাড়িতে আসে। ডন আমাকে বলে, কেইসটা আবার নাড়া দিয়ে উঠেছে। যেহেতু আমাদের সঙ্গে ছিলে। এখন আমাদের সাহায্য করতে হবে। আমাকে তারা প্রয়াত চিত্রপরিচালক আলমগীর কবিরের ছেলে লেনিন সেজে সালমানের বাবা-মার বাসায় যেতে বলে। এরপর গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সালমানের ছোট ভাই বিল্টুকে অপহরণ করে সালমান হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে পরিকল্পনা হয়। তবে ওই বাসায় লেলিন সেজে গেলে আমি ধরা পড়ি। সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’

শুধু আসামি রেজভীই নয়, আসামি রুবীও স্বীকার করেন এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, রেজভী আহমেদের দোষ স্বীকারোক্তি অবজ্ঞা করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। তিনি জবানবন্দিতে ভিকটিম সালমান শাহকে হত্যা করার কথা বলেছেন। কিন্তু ওই স্বীকারোক্তির পরও পুলিশ কর্তৃক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে কোনো এজাহার দায়ের করা হয়নি। এতে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন। একই সঙ্গে ১৯৯৭ সালে সালমানের বাবা করমউদ্দিন চৌধুরীর হত্যা মামলা দাখিলের আবেদন ও আসামি রেজভীর স্বীকারোক্তির অনুলিপি সংযুক্ত করে রমনা থানায় হত্যা মামলার এজাহার দায়েরের নির্দেশ দেন আদালত।

এই নির্দেশের পর গত সোমবার মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ রায়ের বিষয়ে সালমানের মা নীলা চৌধুরী বলেন, ‘হত্যা মামলার যারা তদন্ত করল না, ২৯ বছরে সাক্ষী সব নষ্ট করে মামলাটাকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করতে চাইলো তাদের বিচার চাই।’

সালমান শাহ হত্যা মামলার আইনজীবী আবিদ হাসান কালবেলাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আরও আগেই হত্যা মামলা হওয়া উচিত ছিল। আসামি রেজভীর জবানবন্দিতে কীভাবে স্ত্রী সামিরা, ডন, আজিজ মোহাম্মদসহ বাকি আসামিরা সালমান শাহকে হত্যা করে সব আছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।😭

© কালবেলা মিডিয়া লিমিটেড ২০২৫

22/09/2025
আশার এবং স্বপ্নের হাতিরঝিল এখনো সন্ত্রাসী আর আতঙ্কের জায়গা হাতিরঝিলের আশেপাশের বাসিন্দাদের জন্য।রাত ১০টা পার হলেই অন্ধকা...
14/09/2025

আশার এবং স্বপ্নের হাতিরঝিল এখনো সন্ত্রাসী আর আতঙ্কের জায়গা হাতিরঝিলের আশেপাশের বাসিন্দাদের জন্য।
রাত ১০টা পার হলেই অন্ধকারে ঘেরা এক শশানঘাট পরিণত হয়।
মূল সড়কে অনেক জায়গায় লাইট নেই, ওয়াকওয়েতে লাইটের কথা চিন্তা করাই বোকামি।
আমার সহকর্মী বেতন পেয়ে বাড়ি ভাড়া দিতে যাচ্ছিল হাতিরঝিলের অ্যাম্পিথিয়েটারের সামনে দিয়ে। ৩-৪ জন ভদ্ররূপী ছেলে এসে পকেটে থাকা ৫ টাকার কয়েনসহ সব নিয়ে গেল। ১২,০০০ টাকা বেতন পাওয়া সেই ছেলের।
রাতে দেখবেন বিভিন্ন জায়গায় ৪-৫ জন করে ছেলে দল বেঁধে বসে থাকে। সুস্থ-সবল পুরুষ মানুষও এ রাস্তা দিয়ে একা হাঁটার সাহস পায় না। মেয়েদের কথা বাদই দিলাম।
মগবাজারের ৯৯% অপরাধই হাতিরঝিল দিয়েই শেষ হচ্ছে। দেয়াল টপকে মুহূর্তের মধ্যে সব হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।
এ থেকে বের হওয়ার উপায় আমি জানি না। তবে অনুরোধ রইল কেউ যেন একা এ সড়কে না আসে।
আর ঘুরতে এলে রাত ৭টার মধ্যেই বাসায় ফেরা শ্রেয়।
Collected From - Traffic Alert

DHAMAKA DISCOUNT OFFER🤩🤩Premium quality Ear ring   🎀20% Discount 🤩 Available In Stock  💥Imported 📍No Advance Needed 📍 Re...
10/09/2025

DHAMAKA DISCOUNT OFFER🤩🤩

Premium quality Ear ring 🎀

20% Discount 🤩

Available In Stock 💥

Imported 📍

No Advance Needed 📍
Real picture available 🎀

Inbox Us for Price & details 💌



রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:“সূর্য ও চাঁদ কারো মৃত্যুর জন্য বা জন্মের জন্য গ্রহণ করে না। বরং এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্...
07/09/2025

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“সূর্য ও চাঁদ কারো মৃত্যুর জন্য বা জন্মের জন্য গ্রহণ করে না।
বরং এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা যখন এগুলো দেখবে, তখন সালাত আদায় করো এবং দোয়া করতে থাকো,
যতক্ষণ না তা শেষ হয়।”

📚(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৪৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯০১)

👉 ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে।শুরু হবে রাত ৯টা ২৮ মিনিটেপূর্ণগ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিন...
05/09/2025

👉 ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে।

শুরু হবে রাত ৯টা ২৮ মিনিটে

পূর্ণগ্রহণ শুরু হবে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে

সর্বোচ্চ (চাঁদ সবচেয়ে লাল) হবে রাত ১২টা ১১ মিনিটে

পূর্ণগ্রহণ শেষ হবে রাত ১২টা ৫২ মিনিটে

সম্পূর্ণ শেষ হবে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে

📍 তাই বাংলাদেশের আকাশে ৭ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত সুন্দরভাবে রক্তিম চাঁদ (Blood Moon) দেখা যাবে।

28/08/2025

ফেসবুকের সবার স্ট্যাটাস
বিশ্বাস করবেন না।
অনেকেই শয়তানি করে🫠
যেমন ধরেন... See more

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Winx posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share