20/05/2026
অশরীরী স্পর্শ
শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, পুরনো ধাঁচের অ্যাপার্টমেন্টের চারতলায় একা থাকত অয়ন। বয়স পঁচিশের কোঠায়, পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। রাত জেগে কোডিং করা আর কফি খাওয়া—এটাই ছিল তার চেনা রুটিন। কিন্তু জীবনটা এভাবে ওলটপালট হয়ে যাবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।
ঘটনাটার শুরু হয়েছিল মে মাসের এক গুমোট গরমে।
সেদিন অফিস শেষে একটা ক্যাফেতে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল অয়ন। হঠাৎ তার মনে হলো, কাঁচের জানালার ওপাশ থেকে কেউ একজন একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। অয়ন চোখ তুলে তাকাল। একটি মেয়ে। পরনে সাদাটে পোশাক, উসকোখুসকো চুল, আর চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত শূন্যতা। অয়ন চোখের পলক ফেলতেই মেয়েটি ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেল।
প্রথমে বিষয়টাকে কাকতালীয় ভেবে উড়িয়ে দিয়েছিল সে। কিন্তু ভুল ভাঙল দুদিন পর। গভীর রাতে নিজের পড়ার টেবিলে কাজ করার সময় অয়নের হঠাৎ মনে হলো, ঘরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক রকম কমে গেছে। এসি বন্ধ, তাও হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। ঠিক তখনই জানালার কাঁচের প্রতিফলনে সে দেখতে পেল—তার ঠিক পেছনে, ঘরের এক কোণে আবছা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে সেই একই মেয়ে! চমকে উঠে পেছনে তাকাতেই সেখানে কেউ নেই। শুধু বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এক তীব্র, অপরিচিত সুগন্ধ।
এরপর থেকে অয়ন যেখানেই যেত—ক্যাফেতে, রাস্তায় কিংবা অফিসের করিডোরে—দূর থেকে সেই মেয়েটিকে হেঁটে চলে বেড়াতে দেখত। যেন সে অয়নের ছায়া হয়ে গেছে।
কিন্তু আসল আতঙ্ক শুরু হলো ঘরের ভেতর।
একদিন মাঝরাতে হুট করে অয়নের ঘুম ভেঙে গেল। সে চিত হয়ে শুয়ে ছিল। হঠাৎ অনুভব করল, তার বুকের ওপর এক প্রচণ্ড ভারী চাপ। কেউ একজন তার ওপর বসে আছে! সে চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বেরোল না। হাত-পা নাড়ানোর ক্ষমতাও যেন হারিয়ে গেছে। আধো-অন্ধকারে সে স্পষ্ট দেখল, সেই মেয়েটি তার ওপর ঝুঁকে বসে আছে, তার ঠান্ডা নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে অয়নের মুখে। মেয়েটির ঠোঁটে এক পিশাচী তৃপ্তির হাসি। প্রায় মিনিট পাঁচেক এই অবর্ণনীয় যন্ত্রণার পর হঠাৎ করেই চাপটা চলে গেল। অয়ন ধড়ফড় করে উঠে বসল, সারা শরীর ঘামে ভেজা।
এর পরদিন রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ নিল।
অয়ন তখন বাথরুমে শাওয়ার নিচ্ছিল। গরম জলের ভাপ জমে বাথরুমের আয়নাট
#রামিসা