02/10/2025
জান্নাতীরা জান্নাতে নিজ গৃহে অবস্থান করবেন। হঠাৎ দরজায় কারও কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা খুলে দেখবেন—দাঁড়িয়ে আছেন এক ফেরেশতা। তিঁনি বলবেন,
“চলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সাথে দেখা করতে যাই…”
তখন জান্নাতী হৃদয় ভরে উঠবে অজানা উচ্ছ্বাসে। এতকাল যাকে শুধু সিজদায় ডেকেছে, অশ্রুতে ডেকেছে—আজ সেই মহান রবের দিকে যাত্রা!
বের হয়ে দেখবেন—এক অনিন্দ্যসুন্দর বাহন প্রস্তুত। বাহন ছুটে চলবে নয়নাভিরাম, সীমাহীন এক উপত্যকায়, যার প্রতিটি স্তম্ভ স্বর্ণ ও মণিমুক্তা খচিত। ফেরেশতারা ঘিরে আছে, শান্তি আর সৌরভে চারদিক ভরে যাচ্ছে।
হঠাৎ জান্নাতীরা দেখতে পাবেন—আলো… আলো… আর আলো!
প্রতিটি আলো আগের চেয়ে উজ্জ্বলতর, হৃদয় কেঁপে উঠছে।
জান্নাতীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবেন,
“আমরা কি আল্লাহকে দেখেছি?”
ফেরেশতারা বলবেন,
“না, আমরা এখনো তাঁর দিকেই ছুটছি…”
তখন হঠাৎ গায়েবী আওয়াজ শোনা যাবে—
“আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল জান্নাহ…”
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা স্বয়ং জান্নাতীদের সালাম করছেন!
সেই মুহূর্তে জান্নাতীরা ভিজে চোখে জবাব দেবেন—
“আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”
(হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময়, শান্তি আপনার থেকেই উৎসারিত হয়। আপনি বরকতময়, হে মহান ও সম্মানের অধিকারী।)
তারপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা প্রশ্ন করবেন—
“তোমরা কি খুশি? তোমরা কি সন্তুষ্ট?”
জান্নাতীরা কাঁপা কণ্ঠে বলবেন—
“ও আল্লাহ! আপনি আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে জান্নাত দিয়েছেন। আমরা অসন্তুষ্ট হই কিভাবে!”
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আবার বলবেন—
“তোমাদের আর কি চাই?”
জান্নাতীরা একসাথে বলবে—
“আর কিছু চাই না, হে আল্লাহ!”
আল্লাহ বলবেন—
“না, আজ তো দেয়ার দিন। বলো, আর কি চাই?”
তখন জান্নাতীরা কাঁদতে কাঁদতে বলবেন—
“ও আল্লাহ! আমরা আপনাকে দেখতে চাই… আপনাকে আমরা এতকাল শুধু ডাক দিয়েছি, কখনো দেখিনি। আপনাকে ভালোবেসেছি দুনিয়ার প্রতিটি নিঃসঙ্গ মুহূর্তে…”
তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর পর্দা সরিয়ে দেবেন।
সৃষ্টি এবং স্রষ্টা মুখোমুখি।
একটু চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন—
যাকে সারাজীবন ডাকলেন, যাকে না দেখে চোখ দুটো ভিজিয়ে রেখেছেন, যাকে গোপনে বলেছিলেন আপনার একান্ত কষ্ট—
যখন পকেট ফাঁকা ছিল, ঘরে খাবার ছিল না, তিনি অদৃশ্য উৎস থেকে ব্যবস্থা করেছিলেন—
যখন হাজার পাপ করেছেন, তিনি জেনে গোপন রেখেছেন, বারবার ক্ষমা করেছেন—
যিনি মায়ের মমতা, সন্তানের ভালোবাসা, স্ত্রীর স্নেহের চেয়ে গভীর এক অদৃশ্য ভালোবাসায় আপনাকে আগলে রেখেছেন—
আজ সেই রবের মুখোমুখি আপনি!
সাহাবীদের প্রশ্নের উত্তরে নবীজী ﷺ বলেছেন—
“তোমরা যেমন চাঁদকে স্পষ্ট দেখতে পাও, তেমনই স্পষ্টভাবে আল্লাহকে দেখতে পাবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
এটাই জান্নাতের সবচেয়ে বড় নেয়ামত।
হে আল্লাহ!
আমাদেরও সেই স্বল্পসংখ্যক সৌভাগ্যবানদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন—যারা আপনার দর্শনের মহাসৌভাগ্য লাভ করবে।
আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।