15/06/2026
▶️ একটি জীবন, একটি গল্প: আমার অভিজ্ঞতায় আদ-দ্বীন
👉 রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে যখন অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজে, তখন প্রতিটি মুহূর্ত যেন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার নামান্তর। আমার সেই নিকটস্থ আত্মীয়ের বাচ্চার অবস্থা তখন এমনই নাজুক। জ্বরের তীব্রতায় নিস্তেজ শিশুটির শরীর হিম হয়ে আসছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটল অন্য জায়গায়—শিশুটি অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে যখনই তাকে নিয়ে শহরের বড় বড় নামকরা হাসপাতালের দরজায় গিয়েছি, এক অদ্ভুত শীতলতা আমাদের গ্রাস করেছে।
হয়তো তাদের চকচকে ঝাড়বাতি আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লবিতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের চেহারাগুলো বেমানান ছিল, অথবা বাচ্চার শারীরিক অবস্থা দেখে তাদের মনে হয়েছিল এটি কেবলই একটি ‘ঝুঁকি’। টাকা জমার স্লিপ, অগ্রিম ভর্তি ফি—সবকিছু যেন বাচ্চার প্রাণের চেয়েও ভারী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে যখন আমাদের সব আশা শেষ, তখন কোনো এক পরিচিত মানুষের পরামর্শে অটোরিকশায় করে বাচ্চার নিথর দেহটি নিয়ে আমরা এসে পৌঁছালাম ‘আদ-দ্বীন’ হাসপাতালের সামনে।
সেখানে কোনো প্রশ্নবাণ ছিল না,হাসপাতালের কর্মীরা যেন আমাদের আর্তনাদটি চোখের পলকেই বুঝে ফেললেন। কোনো অগ্রিম জামানত বা দাপ্তরিক জটিলতার চেয়েও বাচ্চার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করাটাই তাদের কাছে তখন প্রধান লক্ষ্য ছিল। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, যেখানে অন্য হাসপাতালগুলো অর্থবিত্তের মাপকাঠিতে মানবিকতাকে পরিমাপ করছিল, আদ-দ্বীন সেখানে নিভৃতে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
বাচ্চাটি আজ সুস্থ। তার হাসিখুশি মুখটি দেখলে মনে হয়, আদ-দ্বীন কেবল একটি হাসপাতাল নয়, এটি হাজারো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বেঁচে থাকার এক অঘোষিত ভরসা।
আজ যখন শুনি এই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলের মতো কথা, তখন মনে হয়—যদি সত্যিই তা হয়, তবে বঞ্চিত সেই মানুষগুলোর চোখের জল মোছার জায়গাটা কোথায় থাকবে? এই হাসপাতালটি কি কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান? না, এটি তো সেই জায়গা, যেখানে টাকার চেয়ে প্রাণের মূল্য বেশি। যেখানে কর্পোরেট মুনাফার চেয়ে রোগীর সুস্থতা বড়।
আদ-দ্বীনের করিডোরে দাঁড়িয়ে এখনো যে শত শত মায়ের দুশ্চিন্তামুক্ত হাসির শব্দ শোনা যায়, সেই শব্দগুলো কি হারিয়ে যাবে? আমরা চাই, এমন মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকুক। কারণ, টাকা দিয়ে হয়তো চিকিৎসা কেনা যায়, কিন্তু মানুষের কষ্ট অনুভব করার হৃদয় আর মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহসিকতা সবাই দেখাতে পারে না। আদ-দ্বীন থাকুক, হাজারো শিশুর জীবন প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার এক বিশ্বস্ত বাতিঘর হয়ে।
"