22/06/2023
আসসালামু আলাইকুম।
কৃতজ্ঞতা হচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি গুন। এটি মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। একজন মানুষের নিজের জীবনে ও তার আশেপাশে সবার মাঝে এটি বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মানুষের উপরে করা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে: যারা অপেক্ষাকৃত বেশি কৃতজ্ঞ, তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, দুশ্চিন্তা, অমূলক ভয়-ভীতি, অতিরিক্ত খাবার অভ্যাস এবং নেশার প্রতি আসক্তির ঝুঁকি অনেক কম।
মানুষকে নিয়মিত আরও বেশি কৃতজ্ঞ হতে অনুপ্রাণিত করলে, মানুষের নিজের সম্পর্কে যে হীনমন্যতা আছে, নিজেকে ঘৃণা করা, নিজেকে সবসময় অসুন্দর, দুর্বল, উপেক্ষিত মনে করা, ইত্যাদি নানা ধরণের সমস্যা অনেকটা দূর করা যায়। (তথ্য অনলাইন থেকে নেয়া)
আমরা কারো কাছ থেকে উত্তম আচরণ, উপহার, সাহায্য ইত্যাদি পেলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি।
কৃতজ্ঞতা আমরা কিভাবে প্রকাশ করব?
আমরা তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করব, সম্ভব হলে কিছু হাদিয়া দিতে পারি, তাদের প্রশংসা করতে পারি, নিজেদের সাধ্য ও পরিস্থিতি বুঝে তাদের সাহায্যে এগিয়ে যেতে পারি।
অপরদিকে অকৃতজ্ঞ মানুষকে কেউ পছন্দ করেনা। তাদের আচরণ অনেকের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে থাকে। বেশ হতাশাজনক হলেও সত্য যে আমাদের সমাজে অকৃতজ্ঞ মানুষের সংখ্যাই বেশি।
এমন মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পাওয়া থেকে আমরা নিজেদের কিভাবে রক্ষা করতে পারি?
আলহামদুলিল্লাহ্ যেহেতু আমরা মুমিন আমরা তাদের মত হতে পারব না, হতে চাইও না কারণ কৃতজ্ঞতা আমাদের বৈশিষ্ট্য। তবে আমরা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি। নিজেদের চিন্তায় পরিবর্তন আনতে পারি।
আমরা নিজেদের নিরাপত্তা বুঝে ইসলামিক বিধিনিষেধের সীমার মধ্যে থেকে সাহায্য করব।
আমরা সবার সাথে এমন কোনো কথা বলব না যা আমাদের দূর্বলতা প্রকাশ করে। যা আমাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে কষ্ট দেয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারে। আজকে যার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো কালকে সে সম্পর্ক ভালো নাও থাকতে পারে। তাই নিজেদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিজেদের খেয়াল রাখতে হবে।
খুব বেশি আবেগি হওয়া যাবে না। নিজেদের চিন্তাভাবনাগুলো বাস্তব কেন্দ্রিক রাখতে হবে।
সবাইকে নিজেদের জীবনে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। সামনের মানুষকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কারো কারো সাথে কিছুটা দূরত্ব রেখে চলতে হবে।
কষ্ট পেলে সেটাকে মনের মাঝে বাড়তে দেয়া যাবে না। মনকে একটু শক্ত করে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
সর্বপরি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় নিজের নিয়ত আরেকটু পরিশুদ্ধ করে নেয়া। যখনই আমরা কারো সাথে ভালো আচরণ করব, হাদিয়া দেব বা সাহায্য করব আমরা চিন্তা করব আমরা যা করছি তা শুধুমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য করছি। এর পুরো প্রতিদান আল্লাহর কাছ থেকেই চাই। যে মানুষের জন্য করছি তার থেকে একটা ধন্যবাদেরও আশা রাখি না। যদি আমরা এমন মজবুত নিয়ত রাখতে পারি, তাহলে আল্লাহর থেকে প্রতিদান কত বড় হতে পারে তা তো আমাদের চিন্তারও বাইরে!
আমি আমার নিজের চিন্তা থেকেই বললাম আমরা কি করতে পারি। যদি আপনাদের কোনো মতামত থাকে বা পরামর্শ থাকে এই বেপারে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।
- বিনতে হান্নান