27/02/2026
باب الْحَمْلِ بِأُجْرَةٍ يُتَصَدَّقُ بِهَا وَالنَّهْىِ الشَّدِيدِ عَنْ تَنْقِيصِ الْمُتَصَدِّقِ بِقَلِيل
باب الحمل بأجرة يتصدق بها والنهى الشديد عن تنقيص المتصدق بقليل
حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنِيهِ بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ أُمِرْنَا بِالصَّدَقَةِ . قَالَ كُنَّا نُحَامِلُ - قَالَ - فَتَصَدَّقَ أَبُو عَقِيلٍ بِنِصْفِ صَاعٍ - قَالَ - وَجَاءَ إِنْسَانٌ بِشَىْءٍ أَكْثَرَ مِنْهُ فَقَالَ الْمُنَافِقُونَ إِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ عَنْ صَدَقَةِ هَذَا وَمَا فَعَلَ هَذَا الآخَرُ إِلاَّ رِيَاءً فَنَزَلَتْ ( الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لاَ يَجِدُونَ إِلاَّ جُهْدَهُمْ) وَلَمْ يَلْفِظْ بِشْرٌ بِالْمُطَّوِّعِينَ .
حدثني يحيى بن معين، حدثنا غندر، حدثنا شعبة، ح وحدثنيه بشر بن خالد، - واللفظ له - أخبرنا محمد، - يعني ابن جعفر - عن شعبة، عن سليمان، عن أبي وائل، عن أبي مسعود، قال أمرنا بالصدقة . قال كنا نحامل - قال - فتصدق أبو عقيل بنصف صاع - قال - وجاء إنسان بشىء أكثر منه فقال المنافقون إن الله لغني عن صدقة هذا وما فعل هذا الآخر إلا رياء فنزلت ( الذين يلمزون المطوعين من المؤمنين في الصدقات والذين لا يجدون إلا جهدهم) ولم يلفظ بشر بالمطوعين .
১৬. দান-সাদ্কা করার উদ্দেশ্যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বোঝা বহন করা এবং স্বল্প পরিমাণ দান-সাদ্কাকারী ব্যক্তিকে হেয় মনে না করা
২২২৭। ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ও বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের সাদ্কা প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হল। আমরা এ উদ্দেশ্যে বোঝা বহন করতাম। আবু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, তখন আবু আকীল (রাযিঃ) অর্ধ সা’ সাদ্কা করলেন এবং অন্য এক ব্যক্তি তার-চাইতে অধিক সাদ্কা নিয়ে আসলেন। তখন মুনাফিকরা বলল, আল্লাহ তার সাদ্কার মুখাপেক্ষী নন। আর এ দ্বিতীয় লোকটি তো লোক দেখানোর জন্যই দান করেছেন। তখন অবর্তীর্ণ হল, ″মুমিনদের মধ্যে যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাদ্কা দেয় এবং যারা নিজ শ্রম ব্যতিরেকে কিছুই পায় না, তাদের যারা দোষারোপ করে ও বিদ্রূপ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি বিদ্রূপ করেন।″ (সূরা তাওবাঃ ৭৯) বিশর (রাহঃ)بِالْمُطَّوِّعِينَ শব্দটি এখানে উল্লেখ করেননি।
এ হাদীছটিতে সাহাবায়ে কিরামের দানশীলতা সম্পর্কে এসেছে। যখন এ আয়াত নাযিল হলঃ- خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ অর্থ : (হে নবী!) তাদের সম্পদ থেকে সদাকা গ্রহণ কর, যার মাধ্যমে তুমি তাদেরকে পবিত্র ও বরকতপূর্ণ করবে এবং তাদের জন্য দোয়া কর। নিশ্চয়ই তোমার দোয়া তাদের পক্ষে প্রশান্তিদায়ক। আর আল্লাহ সব কথা শোনেন, সবকিছু জানেন। তখন সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে দান-সদাকার ধুম পড়ে গেল। এমনিতেই তো তাঁরা ছিলেন দুনিয়াবিমুখ। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতে নাজাত লাভই ছিল তাঁদের জীবনের লক্ষ্যবস্তু । কখন কী উপায়ে তা লাভ করা যায়, সর্বক্ষণ তার সন্ধানে থাকতেন। কাজেই এ আয়াত যখন নাযিল হল, তখন প্রত্যেকেই আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদাকায় লেগে গেলেন। এ হাদীছে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি আসলেন প্রচুর সম্পদ নিয়ে। অন্যান্য বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, তিনি ছিলেন হযরত ‘আব্দুর রহমান ইব্ন 'আওফ রাযি.। তিনি আট হাজার দিরহাম নিয়ে এসেছিলেন। এত বিপুল অঙ্কের দান দেখে মু'মিনদের ভালো কাজেও ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো যাদের অভ্যাস সে মুনাফিকরা বলতে লাগল, এ লোক রিয়াকার। মানুষকে দেখানোর জন্যই এত বেশি দান করছে।সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নিতান্তই গরীব। তাঁদের কাছে নগদ টাকাপয়সা থাকত না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা দানখয়রাত থেকে পিছিয়ে থাকতেন না। তাঁরা বাজারে গিয়ে মানুষের মুটে বইতেন। কেউ বা কোনও ধনীর বাড়িতে, যাদের অধিকাংশই ছিল ইহুদী, শ্রম খাটতেন। এতে যা অর্জন হত, তা থেকেই তাঁরা আল্লাহর পথে দান করতেন। এরকমই এক সাহাবীর কথা এ হাদীছে বলা হয়েছে যে, তিনি এক সা' পরিমাণ খেজুর নিয়ে এসেছিলেন। এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় তাঁর নাম আবু 'আকীল। তিনি দুই সা' খেজুরের বিনিময়ে এক ব্যক্তির বাগানে কুয়ার পানি তুলে সেচ দিয়েছিলেন। তারপর সেই দুই সা' খেজুরের এক সা নিজ পরিবারবর্গের জন্য রেখে আসেন, আরেক সা' নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এনে আল্লাহর পথে সদাকা করেন। এবার মুনাফিকরা ছিদ্রান্বেষণের ভিন্ন পথ ধরল। এত কম পরিমাণের দান দেখে এই বলে উপহাস করতে লাগল, এত অল্প পরিমাণ দান গ্রহণ করার কোনও প্রয়োজন আল্লাহ তা'আলার নেই। আসলে দোষ খোঁজা যাদের অভ্যাস তারা সবকিছুতেই তা দেখতে পায়। তাদের সমালোচনা থেকে কেউ নিস্তার পায় না। এটা মুনাফিকী চরিত্র। আল্লাহ তা'আলা তাদের এ চরিত্রের নিন্দা করে কুরআন মাজীদে আয়াত নাযিল করেছেন, যেমনটা এ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃক. এ হাদীছ আর্থিক মুজাহাদার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর পথে খরচ করার বেলায় নিজের মন ও সমাজের পক্ষ থেকে যে-কোনও বাধাই আসুক না কেন, তাতে দমে যাওয়া উচিত নয়।খ. নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান করাই আসল কথা। তাতে দানের অঙ্ক যদি কমও হয়, মনের ইখলাসের কারণে আল্লাহ তা'আলার কাছে তা অনেক মূল্যবান হতে পারে।গ. অন্যের আমলে খুঁত ধরা এবং তাকে রিয়াকার বলা বা আমলকে নগণ্য গণ্য করা মুনাফিকদের কাজ। এর থেকে বিরত থাকা অবশ্যকর্তব্য।
সহীহ মুসলিম
আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
হাদীস নংঃ ২২২৭
আন্তর্জাতিক নং: ১০১৮-১
হাদীসের তাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
হাদীসের রাবী (বর্ণনাকারী):হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)