21/05/2026
যে শিশুটির প্রতিদিন সকালে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে হাসিমুখে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, যার কলকাকলিতে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল ক্লাসরুমের প্রতিটি কোণ,যে রামিসা রেজাল্টের পরে বন্ধুদের চকলেট খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই চিরচেনা রামিসা আজ আর নেই। একদল বিকৃত মানসিকতার নরপশুর লালসা আর নৃশংসতা কেড়ে নিয়েছে একটি নিষ্পাপ প্রাণ। মায়ের যে কোল আজ খালি হলো, যে বুকফাটা আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, সেই ক্ষতের উপশম করার সাধ্য কারোর নেই
এটা কেমন সমাজ? এটা কেমন শহর? যেখানে একটা সাত বছরের শিশুকে ঘরের ঠিক উল্টো পাশের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে বিকৃত লালসার শিকার বানানো হয়! যে শিশুটি হয়তো ব্যথায়, ভয়ে চিৎকার করার সুযোগটুকুও পায়নি, তাকে কতটা নির্মমভাবে হ*ত্যা করে মাথা আর দেহ আলাদা করা হয়েছে। মায়ের চোখের সামনে যখন বাথরুমের বালতি থেকে তার কলিজার টুকরো সন্তানের খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হচ্ছিল, সেই মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে কি মানুষ হিসেবে তোমাদের হৃদয় কেঁপে ওঠেনি? আকাশ-বাতাস কি সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েনি? আর আমরা? আমরা এখনো সভ্য সেজে, ভদ্রতার মুখোশ পরে বেঁচে আছি?
আমাদের এবং গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড স্কুল পরিবারের দাবি:
👉কোনো আইনি ফাঁকফোকর নয়, কোনো দীর্ঘসূত্রতা নয়: বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দিনভিত্তিক শুনানির মাধ্যমে এই নরপিশাচদের বিচার করতে হবে।
👉 মূল ঘাতক সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রীর এমন শাস্তি হতে হবে, যা দেখে এ দেশের মাটিতে আর কোনো অপরাধী, কোনো ধর্ষক, কোনো শিশু হত্যাকারী যেন কোনোদিন কোনো শিশুর দিকে তাকানোর সাহসও না পায়। এদের ফাঁসিই একমাত্র উপযুক্ত বিচার!
👉 আমরা আর কোনো মায়ের কোল খালি হতে দেব না। আমাদের সন্তানেরা যেন নিরাপদে বাঁচতে পারে, সেই নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকে অনতিবিলম্বে দিতে হবে।
রামিসা, ওপারে ভালো থেকো মা।
আমরা রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন পরিবারটিকে এই অসম্ভবের চেয়েও ভারী শোক সহ্য করার শক্তি দেন।
হে প্রশাসন, হে বিচারালয়—আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে আর পরীক্ষা করবেন না। রামিসার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই, অতি দ্রুত চাই!
গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক মণ্ডলী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।