20/10/2023
হাওয়া (الهوى) - শাব্দিক অর্থে হাওয়া মানে ভালবাসা, আত্মার অনুরক্তি। তবে এই অনুরক্তি ভালর দিকে নয়, মন্দের দিকে।
প্রবৃত্তির কারনে, মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম না হলেই মানুষ মন্দের দিকে ঝুকে পড়ে, অর্থাৎ হাওয়ার অনুসরণ করে।
তাওহীদের বিপরীতে শিরকের দিকে ধাবিত হওয়ার একটা অন্যতম কারণ এই প্রবৃত্তি বা হাওয়ার অনুসরণ। তা না হলে মুসলিমের মেয়ে কোন কারনে হোলি খেলায় মেতে উঠবে? ঐযে, হাওয়া, মনকে বশে আনতে না পারার দূর্বলতা। মনের যত অনুরক্তি নাচগান আর আনন্দ-ফুর্তির সাথে।
আর ওহী (الوحى) হচ্ছে হাওয়ার বিপরীত, আল্লাহ রব্বুল-আ'লামীনের প্রত্যাদেশ।
আসহাবে কাহাফের ইতিহাস বর্ননা শেষে, শিরক থেকে মুক্ত থাকার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা যে কতগুলো নির্দেশ দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে, সে সকল ব্যক্তিবর্গের সঙ্গ পরিহার করে চলা, যারা প্রবৃত্তি বা হাওয়ার অনুসরণ করে।
কেননা বাহ্যিক আচরনে পোষাক-আশাকে যতই মুসলিম মনে হোক না কেন, প্রবৃত্তির দাসত্বে তারা এমনভাবে হেরে গেছে যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাদের অন্তরকে গাফেল করে দিয়েছেন। তাদের অন্তর থেকে আল্লাহর যিকর, আল্লাহর স্মরণ, আল্লাহর ভয় চিরতরে হারিয়ে গেছে। তারা নাচ-গান রঙ্গ-তামাশার মাঝেই পরিতৃপ্তি খুঁজে পায়।
যে কারনে দশ মিনিটের আনন্দের জন্য অনন্তকালের জাহান্নামে ঝাপ দিতেও তাদের অন্তর বিন্দুমাত্র কাঁপে না।
বাঁচার উপায় কী? এই মৃত অন্তরকে বাঁচিয়ে তোলার উপায় কী? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন,
واصبر نفسك
ওয়াসবির নাফ্সাক, নিজেকে সবরের মধ্যে রাখো!
মানে احبِسْها في طاعةِ اللهِ ইহবিসহা- ফী ত-আ'তিল্লাহ, নিজের অন্তরকে সবরের সাথে শক্ত করে আল্লাহর আনুগত্যে বেঁধে রাখো!
কেমন সে সবর? কেমন সে বাঁধা?
জাহেলিয়াতের যামানায় আরব তীরন্দাজদের মাঝে একধরনের নিষ্ঠুর খেলা প্রচলিত ছিল। তারা একটা জীবন্ত উটকে শক্তভাবে বেঁধে রেখে নিশানা বানিয়ে তীর চালাতো, যতক্ষন না উটটি মারা যায়।
নড়াচড়া করার কোন ক্ষমতা না থাকায়, নীরব মৃত্যু মেনে নেওয়া ছাড়া উটটির আর কিছুই করার থাকতো না। এই উটকে বলা হতো ناقة المصبورة - না-ক্বতুল মাসবূ-রাহ।
চরম সবরের পরীক্ষা দিয়ে, আঘাতের পর আঘাত সয়ে একসময় উটটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তো।
ঠিক তেমনি সবরের সাথে আমাদের অন্তরকে কষে বেঁধে রাখতে হবে। থাকতে হবে তাদের সাথে যারা সকাল সন্ধায় রব্বের সাক্ষাত লাভের আশায় তাঁরই যিকিরে, তাঁরই স্মরণে মশগুল থাকে।
চলতে ফিরতে গল্পে আড্ডায়, মানুষের কটু কথায়, আঘাতে তিরস্কারে, কোনভাবেই কোন কারণেই মনের এই বাঁধন আলগা করা যাবে না। না-ক্বতুল-মাসবূরা'র মতই শক্ত করে বেঁধে রাখতে হবে।
দুনিয়ার একটুখানি ভোগবিলাসের জন্য, দুনিয়ার যিনাতের জন্য, সামান্য সৌন্দর্যে প্রলুব্ধ হয়ে, মনের বাঁধন আলগা করে দিয়ে এক মুহুর্তের জন্যও হাওয়ার অনুসরণ করা যাবে না। আর যারা হাওয়ার অনুসরণ করে, তাদের সঙ্গও ছাড়তে হবে।
কে বলেছেন? আল্লাহ রব্বুল আ'লামীন বলেছেন। নিজেই পড়ে দেখো, সুরাতুল-কাহাফ ১৮, আয়াত ২৮
সংগ্রহিত