27/11/2025
(কাকতালীয়ভাবে এই পোস্ট টা যখন লিখছিলাম, এই একটু আগে, আবারো কেঁপে উঠলো ঢাকা। ভেবেছিলাম মনের ভুল, পরে দেখি যে না আসলেই!! আল্লাহ রক্ষা করেন আমাদের)
গতকালকে থেকে বাংলাদেশ ও আশেপাশের এলাকা এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার কেঁপে উঠেছে। এটা নিশ্চিত বলা যায় যে- আল্লাহর দুনিয়ার এই সর্বংসহা জমিন হঠাৎ করেই প্রচন্ড রকমের অশান্ত হয়ে পড়েছে, এখন আর কোনমতেই হালকা ভাবে নেয়া যায় না ব্যাপারটা। যেকোনো বিপদের জন্য মানসিক ও পারিপার্শিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা জরুরি।
ভূমিকম্প হলে সবার ভিতরে সবার আগে যে চিন্তা টা আসে তা হলো বাড়ি ঘর ছেড়ে দৌড়ে বেরিয়ে যাওয়া। আচ্ছা, আমরা ঢাকায় বা বড় শহর গুলিতে যারা আছি, তারা একটু বারান্দায় বা জানলায় গিয়ে দেখি তো- ভূমিকম্প হলে বেরিয়ে যে যাব, গিয়ে দাঁড়াবো টা কোথায়? অপ্রশস্ত রাস্তার দুপাশে বিল্ডিং, কোনো খালি জায়গা নেই, রাস্তার দুপাশে উপরি হিসেবে হাই ভোল্টেজ ইলেকট্রিসিটি কেবল চলে গেছে। নিচে নেমে এগুলির ধসের মধ্যে পড়ে বিপদ কিন্তু কম হবে না। বরং মাথা ঠান্ডা রেখে প্যানিক না কপে আল্লাহর উপর ভরসা করে বিল্ডিং এর ভিতরেই যথাসম্ভব নিরাপদ আশ্রয় নেয়া উচিত, যদি আশেপাশে নিরাপদ খোলা জায়গা না থাকে।
আমরা সবাই এখন মোটামুটি জানি, বাসার সবচে নিরাপদ জায়গা হলো- কলাম ও বীমের সংযোগ স্থলের নিচে, জানলার কাঁচ এবং ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে, শক্ত কোনো টেবিলের নিচে। আর আধুনিক হাইরাইজ বিল্ডিং এর লিফট কোর এবং ফায়ার এক্সিটের সিড়ির দেয়াল সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রোটেকশন দেয় ধসে পড়া দেয়াল থেকে।
ছবিতে এটা আমাদের বাসার একটা আর্কিটেকচারাল স্ট্রাকচারের ডিজাইন । এখানে লাল চিন্হিত বক্সগুলি কলাম। এখানে দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে লিফট এবং সিড়ির আশেপাশের জায়গায় কলামের সাপোর্ট সবচে বেশি। তাই হলুদ চিহ্নিত অংশটি আমরা নির্ধারণ করে রেখেছি (আল্লাহ-না-করেন) ভূমিকম্পের আশ্রয়স্থল হিসেবে। জায়গাটা বাসার মেইন ডোর ও ফায়ার এক্সিট থেকে সবচেয়ে কাছে, আশেপাশে জানালা নেই, যেহেতু ডাইনিং, পাশেই বড় টেবিল। আর মেইন ডোরের পাশেই বাসার মেইন ইলেকট্রিক সুইচ বোর্ড ও ফায়ার অ্যালার্ম + এক্সটিংগুইশার।
এই জায়গার কাবার্ড খালি করে কিছু ইমার্জেন্সি সাপ্লাইজ গুছিয়ে রাখা শুরু করেছি। আমার লিস্টে আছে-
1. কনস্ট্রাকশন কাজে ব্যবহৃত হেলমেট জনপ্রতি ১ টা করে
2. মাস্ক ১ বক্স
3. পাতলা কম্বল (আল্লাহ না করুন, ছুটে আসা কাঁচ থেকে বাঁচার জন্যে)
4. শক্ত ছোট শাবল/রড (আল্লাহ না করুন, ধ্বংসাবশেষে আটকে গেলে)
5. ছোট শক্তিশালী টর্চ ২ টা
6. হুইসল এবং লাল কাপড়
7. ব্যাটারি চালিত রেডিও
8. এক্সট্রা ব্যাটারি
9. ফুলচার্জ করা পাওয়ার ব্যাংক
10. ছোট ফায়ার এক্সটিংগুইশার
11. ছোট বোতলজাত পানি ১২/২৪ টা
12. শুকনো খাবার, ওরস্যালাইন বক্স
13. ব্যান্ডএইড, গজ, কটনপ্যাড, স্যাভলন মলম, হেক্সিসল, স্যানিটারী প্যাড, মাস্কিং টেপ, ব্যাথার ওষুধ।
14. আমার এক্সট্রা চশমা এবং ওড়না
আপাতত এগুলিই মনে পড়লো। কিছু মিস গেলে কমেন্টে জানান, প্লিজ।
বিপদ আপদ মৃত্যু সবই আল্লাহ পাক নির্ধারিত করে রেখেছেন, এগুলি এড়ানোর কোনো উপায় নেই, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তাই বিপদের জন্যে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের সাথে সাথে সবার আগে আমাদের উচিত বেশি বেশি করে আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করা, যেন তিনি আমাদের সকলকে ক্ষমা করে জমিনকে শান্ত করে দেন, সকল বিপদ আপদ কাটিয়ে দেন, আমাদেরকে হিদায়াতের আলোকে ঈমানের পথে রাখেন। আমীন।