08/05/2026
একবার একজন আপু বলছিলেন, উনার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ছেলের পরিবার আর ছেলের সাথে উনি বিয়ের গয়না কিনতে গিয়েছিলেন।
ওখানে গয়না দেখতে দেখতে হবু জামাই দোকানদারের সাথে কথা বলতে বলতে একটা জোক্স করেছিলো। খুব সম্ভব "পকেট ভর্তি টাকা থাকলে আর বউকে শরীর ভর্তি গয়না দিতে পারলে কোন মেয়েকে লাথি দিলেও সংসার ছেড়ে যাবে না" - এই টাইপের কিছু একটা, আমার এক্স্যাক্ট জোক্সটা মনে নাই।
সেই আপু বাসায় ফিরে দরজা দিয়ে ঢুকেই বলেছিলেন উনি এই বিয়ে করবেন না।
এত 'ভালো' (মানে সম্পদশালী!) ছেলে আর পাওয়া যাবে না, কী না কী বলেছে দোকানদারকে ফাইজলামি করতে গিয়ে - তা এত সিরিয়াসলি নেয়ার কী আছে, মেয়েদের এত দেমাগ থাকা ভালো না - এই সেই দুনিয়ার এমন কোন ধমকা ধমকি নাই যা ঐ আপুকে উনার পরিবার করেনি।
উনার বাবা এমনকি হার্ট এটাক্ হওয়ার ভান করেছিলেন!
কিন্তু ঐ আপু ঐ বিয়ে করবেন না তো নাইই। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো- ঐ আপুর বড়ভাই ঐ সময় উনার সাথে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বড়ভাই ঢাল হয়ে থাকাতে সেই বিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন ঐ আপু।
মেয়েরা, যদি চান পুরুষদের উপর থেকে আপনার বিশ্বাস উঠে না যাক, যদি ব্যক্তি জীবনে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে চান, তাহলে শুধুমাত্র এমন পুরুষদেরকেই আপনার লাইফে থাকার অনুমতি আর স্কোপ দিন যারা মেয়েদের ডিগনিটিকে শ্রদ্ধা করে।
কোনো পুরুষ মানুষ আসলে কেমন, তা বুঝতে খেয়াল করুন সে তার আশেপাশের নারীদের সাথে কী ধরণের ব্যবহার করে, কীভাবে কথা বলে।
মেয়েদেরকে নিয়ে সে কী ধরণের জোক্স করে।
বিশেষ করে কারো সাথে বিয়ে ঠিক হলে খুব খুব ভালো করে খেয়াল করুন - পরিচিত বা অপরিচিত মেয়েদের সাথে তার কথাবার্তা কেমন। ব্যবহার কেমন।
তার নিজের মা- বোনকে সে শ্রদ্ধা করে কিনা। যে ছেলে নিজের আশেপাশের মেয়েদেরকে শ্রদ্ধা করে না, সে ছেলে আপনার জন্য যদি ভালবেসে দিওয়ানাও হয়ে যায়, সোওওওওজা উল্টা দিকে দৌঁড় দিন! ভুলেও সে ছেলের দিকে ফিরে তাকাবেন না।
মেয়েদেরকে নিয়ে যে ছেলে অশ্রদ্ধামূলক জোক্স করে, সেক্সিষ্ট জোক্স করে, সেই ছেলে কোনোদিন আপনাকে মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করতে পারবে না।
শুরুতে যে আপুর কথা বললাম, উনার ঘটনা এখনো শেষ হয়নি। বাকীটুকু বলি।
তো সে আপুর অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছে। কয়েক বছর পর উনারা মালয়েশিয়া গিয়েছেন ঘুরতে। ওখানে গিয়ে সেই লোকটার সাথে দেখা, যার সাথে আপু বিয়ে করতে অস্বীকার করেছিলেন!
আপুর জামাইয়ের সামনেই সেই লোক এসে জিজ্ঞেস করলো আপু কেনো উনাকে বিয়ে করতে মানা করেছিলেন!
আপু যখন সেই গয়নার দোকানের সেলসম্যানের সাথে উনার ঐ জোক্সের কথা বললেন, তখন লোকটা ভীষণ অবাক হয়ে বললো - ঐ জোক্সে উনি খারাপ কী বলেছেন?!
আপুর জামাই এতক্ষণ চুপ ছিলো।
কিন্তু লোকটা যখন উল্টা জেরা করা শুরু করলো ঐ জোক্সে ভুল কী বলেছে, তখন আপুর জামাই আপুর সামনে এসে আপুকে আড়াল করে লোকটাকে বলেছে- "ভাই, আপনি এই যে বুঝতে পারছেন না আপনার ঐ কথায় ভুল কী আছে, এটাই আপনাকে বিয়ে না করার জন্য যথেষ্ঠ!"
তো, যে কথা বলতে এত কথা বলা- যখন ধর্মের কথা আসবে, একটা বেইস লাইন মনে রাখবেন প্লীজ - আল্লাহ'র সামনে ছেলে হোক বা মেয়ে, মানুষ হিসেবে আপনার মর্যাদা সমান। আপনার ডিগনিটিও সমান।
এবার পৃথিবীর যত বড় ধর্মীয় স্কলার আসুক, দায়ী আসুক, ওয়ায়েজ আসুক, যেইই আসুক, যখনই দেখবেন ঐ লোক বা মহিলা ধর্মের নাম দিয়ে এমন কথা বলছে যা আপনার ডিগনিটিতে আঘাত করছে-
সোওওওওওজা উল্টা দিকে দৌঁড়ান!
এমনভাবে দৌঁড়াবেন যেন আপনি উল্কা!
ভুলেও পিছন ফিরে তাকাবেন না।
উর্ধ্বশ্বাসে উল্টাদিকে জানপ্রান বাজি রেখে দৌঁড় দিবেন।
আল্লাহ্ আপনাকে মানুষ হিসেবে যে সম্মান আর মর্যাদা দিয়েছে, পৃথিবীর কাউকে সে সম্মান আর মর্যাদার সাথে কম্প্রোমাইজ করার সুযোগ দিবেন না। কাউকে না।
©