22/10/2025
গত এক দশকে বাংলাদেশে ইন্টারনেটে অ্যাপভিত্তিক একটি নতুন শ্রমখাত তৈরি হয়েছে। অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ শিক্ষিত যুবক- উবার, পাঠাও, ফুড পান্ডা ও পার্সেল ডেলিভারী মত বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা নানাবিধ শোষণ, নিপীড়ণের শিকার হচ্ছে।
এই খাতের কর্মরত শ্রমজীবীদের সাথে কথা বলে তাদের অনেক অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগ গুলোর ভিত্তিতে অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের ন্যায্য মুজুরি, শ্রম অধিকার, শোষন ও বৈষমহীন শ্রম ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের কিছু দাবি উপস্থাপন করছিঃ-
১) অ্যাপভিত্তিক সেবা খাতের সব শ্রমিককে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে এই পেশার শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে হবে।
২) “বাহনগুলো আমাদের নিজস্ব, এর জ্বালানি খরচও আমাদের। রাস্তায় যত সমস্যা হয় তা আমাদেরই মেটাতে হয়। তারপরও এইসব কোম্পানিকে চার ভাগের এক ভাগ দিয়ে দিতে হয়।” এই অ্যাপস নির্ভর রাইড পরিষেবা প্রদানকারী অপারেটিং কোম্পানিগুলো রাইডারের আয়ের ২৫% পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ গ্রহন বন্ধ করে ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করতে হবে।
৩) দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় প্রতিটি রাইডে ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি অ্যাপ বেইজড কিলোমিটার ও মিনিট অনুযায়ী ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।
৪) অপরাধ প্রমাণ ব্যতীত কোনো পেশাজীবী চালকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে কর্মহীন করার মতো ঘৃণিত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অনতিবিলম্বে সকল বন্ধ অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে হবে।
৪) অপরাধ প্রমাণিত না হলে প্রতিটি বন্ধ অ্যাকাউন্টের বিপরীতে প্রত্যেক চালককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি দিনের জন্য এক হাজার টাকা হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৫) কোম্পানির অ্যাপে রাইডে থাকা অবস্থায় যেকোনো দুর্ঘটনায় চালকের অঙ্গহানির ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা ও প্রাণহানির ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা হারে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৬) অ্যাপ ভিত্তিক পরিষেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান গুলোর আওতায় সকল রাইডারেরর একটা ডাটা বেইজ করে সবাইকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনাতে হবে।
৭) অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর স্বার্থে সুনির্দিষ্ট স্থানে পাবলিক টয়লেটসহ যানবাহন পার্কিংয়ের স্থান দেওয়া।
৮। অ্যাপস-ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর পরিপূর্ণ তদারকি না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাণিজ্যিক লাভের আশায় বিভিন্ন পলিসি নিচ্ছে। তা আমাদের রাইডারদের জন্য অমানবিক এবং একই সাথে আমাদের কর্মপরিবেশকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিচ্ছে। তাই অ্যাপ ভিত্তিক সকল প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালার আওতায় এনে শ্রমিক বান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৯) ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা,রাইড শেয়ারিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস এলাকায় অফিস থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অফিস তো দূরের কথা সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান উবারে যাত্রীদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর কোনও সুযোগই নেই। তাই অ্যাপভিত্তিক সকল প্রতিষ্ঠানে সার্ভিস এলাকায় অফিস রাখতে হবে এবং যাত্রী ও রাইডারের অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখতে হবে।
১০) বিচ্ছিন্ন ভাবে নিজ উদ্দ্যোগে পরিচালিত বাইক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বন্ধ করে নিবন্ধিত এ্যাপের আওতায় বাইক রাইড সেবা দেওয়ার ব্যাবস্থা করে রাইডার ও যাত্রীর নিরাপত্বা নিশ্চিত করতে হবে।
অ্যাপস নির্ভর রাইড পরিষেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্বশীল আচরনের মাধ্যমে
এই পরিষেবার সাথে সংশ্লিষ্ট চালকদের শ্রমিকের স্বীকৃতি প্রদানের এবং তাদের সকল ধরনের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে এই শিল্পকে একটি টেকসই শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করবে, যা টেকসই এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।