04/05/2026
আমার মধ্যে এক রকম আড়ং প্রীতি আছে বলেই জানে আমার বন্ধুমহল!!
আমার প্রচন্ড মন খারাপ হলে আগে আমাকে ২/৩টা জায়গায় পাওয়া যেত! যখন সেগুনবাগিচার ওদিকটায় থাকতাম তখন যেতাম রমনা পার্কে, যখন ক্রিসেন্ট রোডে থাকতাম তখন যেতাম রবীন্দ্র সরোবরে, আর দুনিয়ায় যেখানেই থাকিনা কেন, মন খারাপ হলে চলে যাই আড়ংয়ে!!
না আমি জামাকাপড় বা শাড়ি সেকশনে দাঁড়াইনা বেশিক্ষণ!! আমি সোজা চলে যাই ৩ তলা হোমডেকর সেকশনে আর না হয় গয়নাগাটি, পার্লের অর্নামেন্টের সেকশনে। খুটে খুটে লোকজ ঐতিহ্য দেখি, ন্যাচারাল জিনিস দেখি, আমার খুবই ভাল্লাগে!!
হাতের কাজের নকশা করা ওয়াল হ্যাংগিং, কাঠের পাত্র, মাটির জিনিস, সিরামিকের বাহারী প্রিন্ট, পাপোশের বৈচিত্র্য , বেডশিট, পর্দা, কুশন, মিরর, টেবিল রানার, ফটোফ্রেম, ব্রাসের কারুকার্য, আয়রনের জিনিসপত্র প্রত্যেকটা জিনিস আমার মুখস্থ। এতো ভালো লাগে কেন জানিনা!! এসবের অনেক কিছুই আমার ঘরে আছে এখন!
পার্স বা ব্যাগ সেক্টরও বেশ ভালো লাগে। আবার জুতার মধ্যে হাতের কাজও অবাক হয়ে দেখি!! ওদের গয়নাগাটির সুক্ষ্ম কাজ আমাকে খুব টানে। একই জায়গায় এতো বাহার, এতো বৈচিত্র্য আমি আগে কখনোই দেখিনি। প্রথম ঢাকায় গিয়ে আড়ংয়ে গিয়ে আমি তো অবাক 😀
তারপর থেকে আস্তে-ধীরে কেনা কাটা শুরু তখন থেকেই!
আমার প্রত্যেকটা প্রেগন্যান্সির সময় ওদের ম্যাটারনিটি ড্রেস, প্যান্ট খুবই কাজে লেগেছে। এই জিনিসগুলো আমি আর কোথাও পাইনি। অনলাইনে দু'একটা শপ আছে, ডিজাইন বা মেকিং ফিনিশিং আমার পছন্দ হয়না!!
মাঝেমধ্যে বাইরে বের হই পা থেকে মাথা পর্যন্ত সবই আড়ং থাকে আমার। নাহ আমি কখনো ওদের এক্সক্লুসিভ শাড়ি বা জামা কিনিনি। ওই সাধ্য আমার হয়নি বা অপচয় লাগে, তবে নিজের সাধ্য অনুযায়ী সুন্দর জিনিস আমি পেয়ে যাই ওখানে।
অনেক অনেক সমালোচনার ভীড়েও আমার মতো কিছু মানুষের আড়ংয়ে যাওয়া থামবে না কারন, হাতের কাজের অল্টারনেটিভ নেই ☺️