17/04/2026
ছবিতে জাদু - ২০২২ সালে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী দিনে জন্ম, অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা ফিরে জাদু-পিউ নামে দুটি বিড়ালছানার সারপ্রাইজ পাই। এরপর ওরা ধীরে ধীরে পরিবারের অংশ হয়ে উঠে। মায়ার সুতায় বাঁধা পরি আমিও। যদিও বিড়ালছানা দুটির যাবতীয় টেক কেয়ার করতো আসমা ও নাজমা। প্রথম দিকে আমি ওদের ধরলে বারবার হ্যান্ডওয়াশ করতাম। অথচ এরপরের গল্প সম্পূর্ণ ভিন্ন! বাসা যেখানেই শিফট করি ওরা প্রায়োরিটি ছিল। পেট এলাউ না হলে আমাদের পছন্দের বাসাও ভাড়া নিইনি। ওরা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ওদের ছেড়ে কোথাও গিয়ে থাকতে মন চায় না। নিতান্তই বাধ্য না হলে ওদের ছেড়ে আমি কখনো থাকিনি। ২০২৫ সালে জানুয়ারি ১৬ তারিখ আমাদের কাঁদিয়ে জাদুকে একা করে না ফেরার দেশে পাড়ি দেয় ছোট্টসোনা পিউ। যে ছিল আমার সবচেয়ে আদরের। আমার কোল ও গা ঘেষে ঘুমাতে পছন্দ করা পিউ চলে যাবার পর আমরা প্রচন্ড ভেঙ্গে পরি, এমনকি দিনের পর দিন ওর সমাধিস্থলে গিয়ে কান্না করেছি হাউমাউ করে! পিউ না থাকায় জাদুকে সামলানো কঠিন ছিল, জাদু ডিপ্রেশনে চলে যায়, ওর ডিপ্রেশন কাটাতে কিছুদিন পর এডপ্টশনে করি বল্টু নামক পিউয়ের অবিকল কপি! এর কিছুদিন পরই আমি জেলে যাই সেখানে গিয়ে আমি আমার বিড়াল দুটির জন্য একা একা প্রচুর কষ্ট পেতাম। এরপর আসমা কে দিয়ে বিড়ালের ছবি কারাগারে নিলাম। প্রায় রাতেই ওদের দেখে ঘুমাতে যেতাম। ৯ মাস পর জেল থেকে বের হয়ে যখন বাসায় আসি দেখি সেই জাদু বল্টু সোনার ৩ টি বাচ্চা! আর জাদুর পাশে পোজ দেয়া এই বাচ্চাটা অবিকল পিউ! মনে হচ্ছে পিউয়ের পুনর্জন্ম হয়েছে। ওর চেহারা, গায়ের রং, খেলার ধরন সবই যেন পিউকে প্রতিমুহূর্তে মনে করিয়ে দেয়৷ এবং অবশেষে "পিউ" নামেই তাকে ডাকা শুরু করেছি। পৃথিবীর সবচেয়ে আদুরে প্রাণী সম্ভবত বিড়াল। ওদের মায়ায় এমনভাবে জড়িয়েছি যে এখন প্রচন্ড পারিবারিক জটিলতায় ওদের ছাড়তে হবে তবুও পারছি না। তবে সকল মায়ার বাঁধন ছিন্ন তো একদিন না একদিন করতেই হয়। হয়তো প্রচন্ড কষ্ট যন্ত্রণা সয়ে যেতে হবে।
বি:দ্র: ক্যাটলাভার কারো বাসায় পুষতে চাইলে আমার আদরের জাদু বল্টু ও ওদের কিটেনসহ নিতে পারেন।