02/12/2025
এক ডক্টর আপুর ওয়াল থেকে 😢
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়েছে। তবে আইসিইউতে নয়, তিনি এখনো সিসিইউতেই আছেন।
একটু সহজ করে বলতে গেলে
একজন রোগীকে যখন মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে নিতে হয়, এর মানে একটাই—তার ফুসফুস আর নিজে নিজে বা নিয়মিতভাবে যথেষ্ট কাজ করতে পারছে না। শরীরের অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, কার্বন ডাই–অক্সাইড জমে যাচ্ছে অথবা শ্বাস নেয়া এতটাই কষ্টকর যে, আর একা সামলানো সম্ভব নয়।
ভেন্টিলেশনে গেলে-
১. শ্বাসের দায়িত্ব মেশিন নিয়ে নেয়।
মেশিন রোগীর ফুসফুসে ঠিক পরিমাণে বাতাস দেয়, আবার বের করতেও সাহায্য করে। এতে শরীরের অক্সিজেন ঠিক থাকে, CO₂ বের হয়।
২. রোগীর শ্বাসের কাজ কমে যায়
ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্বল বা ক্লান্ত হলে শ্বাস নেওয়া নিজেই বড় একটা পরিশ্রম। ভেন্টিলেশন এই চাপটা কমিয়ে দেয়, যাতে শরীর অন্য কাজগুলো সামলাতে পারে।
৩. ভেন্টিলেশন শরীরকে ‘স্ট্যাবলাইজ’ করার সুযোগ দেয়। যেমন: সেপসিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, সিওপিডি, ট্রমা, স্ট্রোক—এমন অবস্থায় অনেক রোগীকে ভেন্টিলেশনে কিছুক্ষণের জন্য নিতে হয়, যাতে ওষুধ ও চিকিৎসা কাজ করতে পারে।
৪. শ্বাসের গতি, বাতাসের চাপ, অক্সিজেন—সব নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
চিকিৎসকরা ঠিক করে দেন কতটা চাপ, কতটা ভলিউম, কত শতাংশ অক্সিজেন রোগীর দরকার। এতে ফুসফুসকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার ঝুঁকি কমে।
৫. এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে “জীবন-মৃত্যুর শেষ ধাপ” নয়।
অনেকে মনে করেন ভেন্টিলেটরে মানেই অবস্থাটা শেষ। ব্যাপারটা সবসময় তা নয়। এটি অনেক সময় রিকভারি প্রক্রিয়ার অংশ। কেউ কেউ কয়েক দিনেই ভালো হয়ে ভেন্টিলেটর ছেড়ে ওঠেন।
সারকথা হলো, বেগম খালেদা জিয়ার শরীর শ্বাস-প্রশ্বাসের লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছে, আর ভেন্টিলেটর সেই লড়াইটা কিছুটা সময়ের জন্য নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে—যাতে মূল রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যায়।
সুতরাং হতাশা নয়, আশাবাদী হওয়ার মত কিছু আছে। আমরা দোয়া অব্যাহত রাখি। আমিন
Sharmin Sharmin
আল্লাহ উনাকে দ্রুত সুস্থতা প্রদান করুন