22/12/2025
(রাজ & এনজেলা)
2য় পার্ট
ভার্সিটির দ্বিতীয় দিন।
রাজ ভোর থেকেই জেগে ছিল।
অ্যালার্ম বাজেনি, তবু ঘুম ভাঙে গেছে।
কারণ—
তার মাথার ভেতর ঘুরছিল একটাই নাম— এনজেলা।
সে নিজেই অবাক হচ্ছিল।
এক দিনের পরিচয়, কয়েক মিনিটের কথা—
কিন্তু কেন জানি মনে হচ্ছিল,
এই মেয়েটা অচেনা না।
ক্যাম্পাসে ঢুকতেই রাজ চারপাশে তাকাল।
হাসি, আড্ডা, ব্যস্ততা—সবকিছুর মাঝেও
সে খুঁজছিল একটা পরিচিত মুখ।
হঠাৎ পেছন থেকে কণ্ঠ—
“রাজ?”
সে ঘুরে তাকাল।
এনজেলা।
আজ সে পরেছে হালকা গোলাপি কুর্তি।
চুল বাঁধা, চোখে আত্মবিশ্বাস।
রাজ এক মুহূর্তের জন্য কথা ভুলে গেল।
“হ্যাঁ… এনজেলা,”
রাজ একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললো।
এনজেলা হাসলো।
“আজ ক্লাস একসাথেই, জানো?”
রাজ জানত না।
কিন্তু এই কথাটা শুনে
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত ভালো লাগা ছড়িয়ে পড়লো।
📚 ক্লাসরুম
ক্লাসরুমে তারা পাশাপাশি বসলো।
প্রফেসর কথা বলছেন—
কিন্তু রাজের মন পড়ছে না।
এনজেলা খাতায় নোট নিচ্ছে।
তার হাতের লেখাগুলো পরিপাটি।
রাজ চুপিচুপি তাকিয়ে থাকে।
হঠাৎ এনজেলা ফিসফিস করে বললো,
“তুমি কী হাসছো?”
রাজ লজ্জা পেয়ে বললো,
“না… কিছু না।”
এনজেলা চোখ কুঁচকে বললো,
“মিথ্যা ধরা পড়ে গেছে।”
এই ছোট্ট কথোপকথন
রাজের দিনটা আলাদা করে দিল।
☕ ক্যান্টিনের গল্প
ক্লাস শেষে সবাই ক্যান্টিনে গেল।
বন্ধুরা পরিচয় হলো।
এনজেলার দুই বান্ধবী—
সামিয়া আর নীরা।
রাজের বন্ধু— রিফাত, সায়েম।
ক্যান্টিনে চা, হাসি, গল্প।
রাজ খেয়াল করলো—
এনজেলা খুব সহজে সবার সঙ্গে মিশে যায়।
কিন্তু কথা বলার সময়
সে মাঝে মাঝে রাজের দিকেই তাকায়।
রাজ বুঝতে পারছিল না—
এই তাকানো কি কাকতালীয়?
নাকি এর ভেতরে কিছু আছে?
হঠাৎ নীরা মজা করে বললো,
“রাজ, তুমি খুব চুপচাপ কেন?”
রাজ হেসে বললো,
“নতুন পরিবেশ… মানিয়ে নিচ্ছি।”
এনজেলা শান্ত গলায় বললো,
“কিছু মানুষ চুপচাপ থাকলেই বেশি কথা বলে।”
রাজ তার দিকে তাকাল।
এনজেলা তাকিয়ে ছিল।
এই চোখাচোখি—
দুজনের ভেতর এক অদ্ভুত নীরবতা তৈরি করলো।
🌧️ বিকেলের বৃষ্টি
বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি নামলো।
ক্যাম্পাস ভিজে গেল।
সবাই ছাতা খুঁজছে।
রাজ দাঁড়িয়ে ছিল একা।
ঠিক তখনই এনজেলা এসে বললো,
“আমার ছাতা আছে। একসাথে যাবো?”
রাজ একটু থমকে বললো,
“যদি তোমার সমস্যা না হয়…”
এনজেলা হেসে বললো,
“সমস্যা হলে আমি জিজ্ঞেস করতাম না।”
ছাতার নিচে দুজন।
বৃষ্টি পড়ছে টুপটাপ।
কথা কম।
নীরবতা বেশি।
কিন্তু এই নীরবতা অস্বস্তিকর না।
বরং শান্ত।
রাজ হঠাৎ বললো,
“তুমি কেন এই ভার্সিটিতে ভর্তি হলে?”
এনজেলা একটু ভেবে বললো,
“নিজেকে প্রমাণ করার জন্য।”
রাজ চুপ করে গেল।
এই উত্তরটা যেন তার নিজের গল্পও।
সে বললো,
“আমিও তাই।”
এনজেলা তাকিয়ে বললো,
“তাহলে আমরা একরকম।”
🌙 দিনের শেষ
হোস্টেলের সামনে এসে তারা থামলো।
এনজেলা বললো,
“আজ ভালো লাগলো।”
রাজ বললো,
“আমারও।”
একটু থেমে এনজেলা বললো,
“কাল দেখা হবে?”
রাজ এবার আর দ্বিধা করলো না।
“অবশ্যই।”
এনজেলা চলে গেল।
রাজ দাঁড়িয়ে রইলো।
বৃষ্টি থেমে গেছে।
কিন্তু তার ভেতরে শুরু হয়ে গেছে অন্যরকম ঝড়।
সে বুঝে গেল—
এটা শুধু বন্ধুত্ব না।
কিন্তু সে ভয় পাচ্ছে।
কারণ রাজ জানে—
ভালোবাসা সহজ না।
আর সে চায় না
এই সুন্দর শুরুটা
তাড়াহুড়ায় নষ্ট হোক।
কিন্তু ভাগ্য তার নিজের মতোই এগোচ্ছে।
রাজ জানত না—
এই নীরব টান
একদিন গভীর প্রেমে রূপ নেবে,
আর সেই প্রেমই
তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।