“ফুল”- এর গল্পটা একটু ভিন্ন। পেশায় আমি শিল্পী (ভিস্যুয়াল আর্টিস্ট), কখনো ভাবিনি ব্যবসা করবো। ২০০৬-২০১৯ বিগত ১৪ বছর ধরে চারুকলার পদার্পন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্টক্যাম্প ও রেসিডেন্সির জন্য অংশগ্রহণ করতে করতে ভ্রমন করাটা আমার রন্ধ্রে মিশে গেছে। ২০১৯ সালে গর্ভধারনের তৃতীয় মাসে ACC (Asian Cultural Center)-এর আন্ডারে আর্ট এক্সচেন্জ প্রোগ্রামে অংশ নিতে কোরিয়াতে যাই এবং সপ্তম মাসে দেশে ফিরে আসি। মানসিকভ
াবে প্রস্তুত হতে থাকি যে বেবী হওয়ায় মাস কয়েক পর আমস্টারডাম যাব পুনরায় চার মাসের জন্য। এভাবেই বিগত ১৪ বছর কেটেছে কাজের উদ্দেশ্যে ভ্রমন করে। আমি এই দীর্ঘ সময়ে কখনো ছয় মাস একটানা ঘরে থাকিনি। এরই মাঝে মার্চ,২০২০ হতে শুরু হয় কোভিড ১৯ এর জন্য লকডাউন।
এই লম্বা সময়ের পর এই প্রথম নয় মাস ঘরে থাকা। একে তো নতুন সন্তান এর মা তার উপর “করোনা” সব মিলিয়ে দুর্বিষহ লাগছিল জীবন; কোন কিছুতেই ভালো যাচ্ছিল না। তারপর শুরু করি মেয়েকে ১০০% মনোযোগ দেয়া। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মেয়ের যত্নের পাশাপাশি শুরু করি মেয়ের জন্য জামা তৈরী করা, সেই সাথে কাঁথা। যেহেতু আমি শিল্পচর্চার সাথে জড়িত তাই আমার নিজের জামা-কাপড়ের ডিজাইন নিজেই করতাম তাই সুই সুতার কাজটা মোটামুটি ভালই জানা ছিল। এগুলো করতে করতে ২ মাস আগে উই এর সাথে পরিচিত হই। নানা জনের নানা গল্প, উদ্যোগ আর চেষ্টা দেখে আমারও মনে হলো বসে না থেকে কিছু একটা শুরু করি। ছবি এঁকে বিক্রি করা বা চারুকলায় শিক্ষনীয় কোন কিছু নিয়ে আগাতে ইচ্ছে করলো না, কেননা শিল্পের এ চর্চাটা আমার কাছে একদমই ভিন্ন মাত্রার। তাই যে জিনিষটা এই পেনডেমিক এর সময় আমার কন্যাকে আর আমাকে সবচেয়ে বেশী সময় দিয়ে ভাল রেখেছে তা নিয়ে একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস এর ফলস্বরুপ “ফুল” এর সূচনা।
চারুকলায় পড়তে না গেলে বা শিল্পচর্চা শুরু না করলে হয়তো কখনো জানা বা বোঝা হতো না - যে কোন কর্মই শিল্প হয়ে উঠতে পারে। আমার কন্যা “উহি” আমাকে সাহায্য করেছে নতুন আমাকে জানতে। “ফুল” নতুন আমাকে জানার অভিপ্রায়...
আজ আমার কন্যার ষষ্ঠ মাস পূর্ণ হওয়ার সাথে আমার কাজের নতুন ধারার সূচনা করলাম। সকলের ভালবাসা আর দোয়া কামনা করছি।
২৫ আগষ্ট, ২০২০
সরকার নাসরিন টুনটুন
স্বত্তাধিকারী:ফুল