10/12/2025
ক্ষুদ্রঋণে আসছে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা
০৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ব্যাংকঋণের আদলে ক্ষুদ্রঋণ খাতে চালু হতে যাচ্ছে মাইক্রো ফাইন্যান্স ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (এমএফ–সিআইবি)। এই সিস্টেম চালু হলে ক্ষুদ্রঋণের একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের ঋণ ইতিহাস বিশ্লেষণ করে যোগ্য গ্রাহককে ঋণ দিতে পারবে এবং ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ডিসেম্বর কিংবা আগামী জানুয়ারি থেকে সিআইবি কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কারিগরি সহায়তায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) সিস্টেমটি বাস্তবায়ন করছে। এ বিষয়ে এমআরএর এক্সিকিউটিভ ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের আর্থ–সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, কিন্তু এতদিন এই খাতে কোনো কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার না থাকায় গ্রাহকের প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন ছিল। সিআইবি চালু হলে ঋণগ্রহীতা ও ঋণের সঠিক চিত্র জানা যাবে এবং নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিআইবির মাধ্যমে জানা যাবে—একজন গ্রাহক কতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, মোট ঋণের পরিমাণ, কিস্তি, পরিশোধ, বকেয়া, খেলাপি অবস্থাসহ সার্বিক ঋণ চিত্র, এতে ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হবে।
এমআরএ কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে একজন ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতার কোথা থেকে কত টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে–এর সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে ভালো গ্রাহক অনেক সময় সুবিধা পান না, আর মন্দ গ্রাহক সহজেই ঋণ নিয়ে ফেলেন—যা প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি বাড়ায়। সিআইবি চালু হলে এই সমস্যা কমবে।
এ বিষয়ে এমআইএস, সিআইবি ম্যানেজমেন্ট ও অফসাইট মনিটরিং বিভাগ–এর পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সিস্টেম বাস্তবায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতেই এটি চালু করা সম্ভব হবে।
সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক কোটি গ্রাহকের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। মোট ১৪৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ গ্রাহকের এনআইডি যাচাই শেষ হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণে এনআইডিই গ্রাহকের পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সিআইবি বাস্তবায়ন হলে ভুয়া আইডি বা অন্যের আইডি ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে। খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়বে—যা গ্রাহকের ওপর চাপানো উচিত নয়।
এমআরএ সূত্র জানায়, দেশে সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আছে ৭৪৬টি এবং মোট গ্রাহক প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ। সিআইবি পুরোপুরি চালু হলে এটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্রঋণ তথ্যভাণ্ডার। বর্তমানে প্রথম স্থানে আছে ভারতের ক্রিফ হাইমার্ক, যেখানে প্রায় আট কোটি গ্রাহকের তথ্য রয়েছে।