Zahra's sign - জাহরা'স সাইন

Zahra's sign - জাহরা'স সাইন Special for salat khimar.

03/11/2024
07/10/2024

Tera mera rishta kya,
La ilaha illallah ❤️

20/09/2024

আত্মশুদ্ধির পথে যাত্রা... ১

হাসপাতালের সামনে এসে দাঁড়াতেই মিশ্র অনুভূতি ঘিরে ধরলো নাবিহাকে। জীবনে অসংখ্যবার এই হাসপাতালে এসেছে সে, কখনো পাপার সাথে, কখনো আদিব্বার সাথে, কখনো বড়মামার সাথে, কখনো মার সাথে। হাসপাতালটাকে নাবিহার দ্বিতীয় ঘর বললেও ভুল হবে না। এখানে তার একটা ব্যক্তিগত ঘর আছে। খেলা করে, পড়াশোনা করে, ঘুমিয়ে যেখানে কেটেছে নাবিহার জীবনের অনেকটা সময়। তবে সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছে পাপার জন্য অপেক্ষা করাতে। ছোটবেলায় তাকে ফাঁকি দিয়ে ডিউটিতে আসাটা পাপার জন্য বিশাল এক পরীক্ষা ছিলো। অধিকাংশ সময়ই পাপা সেই পরীক্ষাতে অনুত্তীর্ণ হতেন এবং তাকে কাঁধে চড়িয়ে হসপিটালে নিয়ে আসতেন। অতীত স্মৃতির স্মরণে ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠার পাশাপাশি চোখে আনন্দাশ্রু চিকচিক করে উঠলো নাবিহার। চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে দু'জন মানুষের অস্তিত্ব অনুভব করার চেষ্টা করবো। যারা তার অস্তিত্বে আসার মূল কারণ। কিন্তু কোথাও পাপা মাকে দেখতে পেলো না নাবিহা। আজকের এই স্পেশাল দিনে তার পাশে পাপা, মা ও আদিব্বা থাকবেন না এমনটা নাবিহা কল্পনাও করতে পারছে না। আদিব্বা অবশ্য তার সাথেই ছিলো এতক্ষণ। বাড়ি থেকে আদিব্বার সাথেই এসেছে। তাকে হসপিটালের সামনে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি পার্ক করতে গিয়েছেন আদিব্বা। কিন্তু পাপা, মা কোথায়? ভাবার পাশাপাশি নজর ঘুরিয়ে চারপাশে দেখছিলো নাবিহা। পেছন থেকে হাতের মাঝে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে খানিকটা চমকে উঠলেও মূহুর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে পেছন ঘুরে হাসি মুখে সালাম দিলো।

সালামের জবাব দেয়ার পাশাপাশি হাসির জবাব দিয়ে মিহির বলল, চমকে দেয়ার জন্য দুঃখিত। আমাকে আশা করছিলে না নিশ্চয়ই!

নাবিহা ভ্রু কুঁচকে বলল, এমনটা বলছো কেন?

মিহির হেসে বলল, মজা করে বলেছিলাম। কিন্তু দুর্বল জায়গায় স্পর্শ করলে কথা যতই মজার হোক মানুষ আনন্দ পাওয়ার চাইতে বিরক্ত অধিক হয়, এটা খেয়াল ছিলো না।

হাসি ফুটে উঠলো নাবিহার মুখে। বিয়ের পর থেকে মিহিরের একটাই এজেন্ডা, নাবিহার জীবনের সবচেয়ে স্পেশাল মানুষ হতে চায়। মিহির দাবী করে জীবনের যে কোন আনন্দে, যে কোন বেদনায় নাবিহা সর্বপ্রথম তাকে স্মরণ করবে। কিন্তু কারো জীবনের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়াটা কি এতই সহজ? অর্ডার অব রেসপন্সিবিলিটি অনুযায়ী হয়তো মিহিরের হক সবার প্রথমে। কিন্তু অর্ডার অব রিলেশনশিপে পাপা, মার আগে তো অন্য কারো হওয়ার কোন সুযোগই নেই। থাকলেও সেই হিসাব নাবিহার ঠিক বোধগম্য হয়না। নাবিহার জীবনের আনন্দ বেদনার কাব্যের প্রথম ধ্বনি তাই পা মা আ ভা অর্থাৎ পাপা, মা, আদিব্বা ও ভাই। আর সেই ধ্বনি পরিবর্তন করার মিশন হাতে নিয়েছে মিহির। নাবিহার জীবনের সবার চেয়ে প্রিয়, সর্বাপেক্ষা আপনজন হয়ে নাকি দেখাবেই। নাবিহাও দেখতে আগ্রহী মিহিরের উড়ে এসে জুড়ে বসার ক্ষমতা। পাপা, মা, আদিব্বা ও তার ভাইদের স্থান নেয়া এতটাও সহজ নয় যতটা মিস্টার মিহির ভাবছে। মেঘে মেঘে আকাশ করেছে ধূসর বর্ণ ধারণ, দেখা যাক কবে তুলতে পারে মিহির হৃদয়ে ভালোবাসার তুমুল বর্ষণ।

মিহিরের দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে নাবিহা বলল, মা কখনোই মেডিকেলে পড়তে চায়নি। মা সবসময় স্বপ্ন দেখতো ছোট ছোট বাচ্চাদের টিচার হবার। এরপর মার স্বপ্ন কিভাবে বদলে গিয়েছিলে জানো? পাপার সাথে পত্রমিতালির অধ্যায়ে পাপা মার সাথে হাসপাতালের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন। সেসব পড়তে পড়তে মার মনেও জেগে উঠেছিলো মানুষের সেবা করার আকাঙ্ক্ষা। মার ভীষণ শখ ছিলো পাপার আন্ডারে ইন্টার্নশিপ করার। কিন্তু পাপা মার বিচ্ছেদের কারণে সবকিছু অন্যরকম হয়ে গিয়েছিলো। হোয়াইট এপ্রোন আর গলার স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে পাপার সাথে কদমে কদম মিলিয়ে চলতে চেয়েছিলো মা। পাপার হাত ধরে পথ চলা সম্ভব হবে না বিধায় মা এই স্বপ্নটাকেই মন থেকে মুছে ফেলেছিলো। আমি যেদিন মার এই স্বপ্নের কথা জেনেছিলাম যেদিন স্বপ্নটাকে তুলে নিয়েছিলাম সযতনে নিজের করে। আলহামদুলিল্লাহ আজকে মার হয়ে আমার সেই স্বপ্নপূরণের দিন এসে গিয়েছে। পাপার আন্ডারে ইন্টার্নশিপ করবো, পাপাকে অ্যাসিস্ট করবো ভাবতেই সুখানন্দে ভরে উঠছে মন। আমি আমার এই সুখানন্দ মার সাথে শেয়ার করতে চাই। আমি তো ভেবেছিলাম হাসপাতালে ঢুকেই মাকে দেখতে পাবো। কিন্তু কোথায় গেলো আমার মা?

আমিও তো এমন একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। মিহিরের কথা শুনে নাবিহা বলল, কি স্বপ্ন?

মিহির বলল, আনন্দবাড়ির আকাশে সবচেয়ে উজ্জল নক্ষত্র দম্পতি হওয়ার স্বপ্ন। যাদের ভালোবাসা জোছনার শিশির রূপে ঝরবে পরবর্তী প্রজন্মদের উপরে। তাদেরকে জানাবে, সখী ভালোবাসা কারে কয়।

কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি, বলে মিহিরের কথাতে উড়িয়ে দিয়ে নাবিহা হাঁটতে শুরু করলো পাপা, মার সন্ধানে। অর্ধাঙ্গিনীর গমন পথের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো মিহিরের বুকের ভেতর থেকে।

হাসপাতাল এরিয়াতে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড বিসর্জন দণ্ডনীয় অপরাধের মধ্যে সামিল হলেও হতে পারে। মন্তব্য শুনে ঘুরে তাকালো মিহির। নূহা হেসে বললেন, সুপ্রভাত জামাই বাবাজ্বি। আপনার অবস্থা দেখে মনেহচ্ছে আপনার বঁধুয়া আজকেও আপনাকে ছেড়ে প্যা প্যা করতে করতে তার পাপার কাছে ছুট লাগিয়েছে।

মিহির চেহারাতে করুণ ভাব ফুটিয়ে বলল, আজকে অবশ্য মার স্বপ্নের স্মরণে ম্যা ম্যা বেশি করছে।

হেসে ফেললো নূহা। মিহিরও হাসতে হাসতে বলল, ফুমা, তুমি কিন্তু বলেছিলে বৌকে বশ করতে সাহায্য করবে আমাকে। বলে দাও না কি করবো আমি। কি করলে আমার বৌ পা মা আ ভা সুর ভুলে শুধু মিহির মিহির করবে?

নূহা হেসে বলল, তোমার নাম মিহির আমরা কেন রেখেছিলাম? যাতে সূর্যের মতো আলো বিকিরণ করতে পারো। নামের হক আদায়ে সচেষ্ট হও। বৌয়ের জীবনের সূর্যরশ্নি হয়ে যাও। তোমার সংস্পর্শে জীবন হবে আলোকিত, তোমার ছহবতে মুছে যাবে মনের ক্ষত। শোনাবে আশায় গান, জুড়াবে অতৃপ্ত প্রাণ। খুলে অন্তর রাজ্যের দোর, হয়ে যাও সুহাসিনী ভোর।

মিহির হেসে বলল, ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবো। কদমে কদমে তোমার দিক নির্দেশনা লাগবে ফুমা। এখন চলো তোমাকে উপহার স্বরূপ হাজির করবো আমার বৌয়ের সম্মুখে। খুশি হয়ে যাবে তোমাকে দেখে। অস্থির হয়ে আছে তোমার জন্য।

সেজন্যই পালিয়ে বেড়াচ্ছি তোমার বৌয়ের নজর থেকে। আমাকে দেখলেই নাবিহার মনের অস্থির অবস্থাতে পানি পড়ে যাবে। সেই পানি বেরিয়ে আসবে দুচোখ ছাপিয়ে অশ্রু রূপে। এত সুন্দর একটা দিনে কন্যার চোখে অশ্রু দেখতে চাইনা। স্বপ্ন পূরণের আনন্দ ভরপুর উপভোগ করতে দেখতে চাই ওর পাপার সাথে। সেজন্য আমার দূরে থাকাটা এখন সময়ের দাবী। নূহা হাসি মুখে কথাগুলো বললেও মিহিরের বুকের ভেতরে চিনচিন করে উঠলো। হাত বাড়িয়ে ফুমাকে কাছে টেনে নিয়ে বলল, তাহলে আমিও আজকে পাশে দাঁড়িয়ে আনন্দে শরীক না হয়ে, দূর থেকে দাঁড়িয়ে আপনজনদের আনন্দিত দেখে আনন্দিত হওয়ার চেষ্টা করবো। আমিও আজকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করে দেখি দূর থেকে প্রিয় প্রিয় মানুষদের সুখানন্দে ভাসতে দেখার প্রশান্তিকে। নাস্তা করেছো ফুমা?

উহু।

মিহির হেসে বলল, তাহলে চলো তোমাকে নাস্তা করাবো। পাঁচ মিনিটের মতো পথ হেঁটে গেলেই একটা টার্কিশ ক্যাফেটেরিয়া পাওয়া যাবে। গত সপ্তাহেই উদ্বোধন হয়েছে। এখনো ট্রাই করা হয়নি ওদের নাস্তা। যাবে?

নূহা হেসে বলল, হু, চলো।

দু'জন তখন ক্যাফেটেরিয়ার উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলো।

20/09/2024

আমার মেয়ে তখন কেবল কথা বলা শিখেছে। প্রতিদিন রাতে ঘুমোনোর সময় আমি তাকে একটাই গল্প শোনাতাম—ইবরাহিম আলাইহিস সালামের।

প্রতিদিন একই প্যাটার্নে, একই শব্দচয়নে গল্পটা বলতাম। গল্পের প্যাটার্নটা ছিল এরকম—

‘এক দেশে এক বালক ছিল। বালকের নাম ছিল ইবরাহিম। একবার রাতের আকাশে চাঁদ মামা দেখে ইবরাহিম খুব অবাক হলো। ইবরাহিম বললো, ‘বা! বা! বা! কী সুন্দর চাঁদ! কী সুন্দর এর আলো! এটাই আমাদের রব মনে হয়’।

তারপর আরো কিছু সময় পার হলো। এক সময় সেই চাঁদকে আর আকাশে দেখা গেল না। এতে ইবরাহিমের খুব মন খারাপ হলো। ইবরাহিম বললো, ‘যেটা ডুবে যায়, যেটা অস্ত যায় সেটা আমাদের রব হতেই পারে না’।

প্রতিদিন একই গল্প, একই প্যাটার্ন আর শব্দচয়নে শুনতে শুনতে সেটা আমার মেয়ের মুখস্ত হয়ে যায়। মা শা আল্লাহ। কিন্তু, সে যে মুখস্ত করে ফেলেছে গল্পটা সেটা আমি জানতাম না। একদিন গল্পটা বলতে গিয়ে আনমনে গল্পের প্যাটার্ন থেকে একটু বিচ্যুত হতেই মেয়ে আমাকে শুধরে দিয়ে বললো, ‘হয়নি হয়নি’।
আমি বললাম, ‘কী হয়নি?’

-‘গল্প তো এরকম। ‘বা! বা! বা! কী সুন্দর চাঁদ! কী সুন্দর আলো! এটাই আমাদের রব মনে হয়’।

আমি চমকিত হলাম। শুনতে শুনতে গল্পটা যে তার হুবহু মনে গেঁথে যাবে, সেটা আমি কল্পনাও করিনি। আল্লাহুম্মা বারিক লাহা।

যেকোনো কিছু আত্মস্থ করা ছোটদের জন্য যতোখানি সহজ, বড়দের জন্য ততোখানিই কঠিন। ছোটদের মস্তিষ্কের নিউরো সেল যতোদ্রুত কানেকশান তৈরি করতে পারে, বড়দের মস্তিষ্ক সেটা পারে না। ফলে, নতুন জিনিস শেখা আর ধারণ করার বিষয়ে ছোটদের মস্তিষ্ক বড়দের চেয়ে অনেকগুণে এগিয়ে। তাই, সন্তানকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে হলে ছোটবেলাতেই তার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা চাই।

নবি রাসূলদের জীবনের দিকে তাকালে আমরা জিনিসটা আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবো।

নবি মুসা আলাইহিস সালামের ছোটবেলা কেটেছে আছিয়া আলাইহাস সালামের মতো বিদূষী, আল্লাহর অতি প্রিয় এক বান্দীর যত্ন, ভালোবাসা আর পরিচর্যায়। ঈসা আলাইহিস সালাম বড় হয়েছেন বায়তুল মুকাদ্দাসের ভেতরে—মাতা মারইয়াম আলাইহাস সালাম এবং নবি যাকারিয়া আলাইহিস সালামের তত্ত্বাবধানে। আমাদের রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জন্মের পর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পাঠিয়ে দিয়েছেন হালিমা নামের এক বেদুইন নারীর ঘরে যেখানে মজুদ ছিল তাঁর চিন্তা, কৌতূহল আর ভাবনার ডালপালা মেলার উপযুক্ত পরিবেশ।

সুতরাং, সন্তানের ছোটবেলা কোনোভাবেই হেলাফেলা করে পার করে দেওয়ার অবকাশ নেই।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জেনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল। আর তোমরা নিজ অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে’।

আমাদের সন্তান যদি আমাদেরই অবহেলার কারণে বিপথগামী হয়, যদি আমরা তাদের সঠিক পরিচর্যা না করি—তাদের ঈমানের, আমলের, তাকওয়ার, যদি আমাদেরই গাফিলতিতে তারা আল্লাহকে ভালোভাবে চিনতে না পারে, এই সমস্তটার জন্যে আমাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে, যেভাবে সন্ধ্যেবেলা রাখালকে জবাবদিহি করতে হয় তার মেষের পাল সম্পর্কে।

সন্তানের সঠিক পরিচর্যা মানে তার যথেচ্ছ আবদার পূরণ নয়। তার যাবতীয় আস্কারাকে প্রশ্রয় দেওয়াও নয়। তার সঠিক পরিচর্যার অনেকখানি জুড়ে আছে তাকে তার শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

যে সহজাত বিশ্বাসের প্রবৃত্তি নিয়ে সে জন্মায়, সেই বিশ্বাসের পথে তাকে দৃঢ়চিত্তে চলতে শেখাবার নামই হলো পরিচর্যা। যে সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম খুঁজে নিয়েছিলেন তাঁর প্রকৃত ইলাহকে, সেই সুমহান রবের সাথে বুনিয়াদি সম্পর্ক বিনির্মাণের পথে সন্তানকে অগ্রসর করে দেওয়ার নামই—তারবিয়াহ।

তারা যেন তাদের রবকে চিনতে পারে, ভালোবাসতে পারে এবং ভয় করতে পারে—এই উদ্দেশ্য থেকেই আমি আমার সন্তানদের পরিচর্যা করি। কুরআন থেকে, হাদিস থেকে, ইসলামের ইতিহাস আর ঐতিহ্য থেকে আমি তাদের গল্প শোনাই। তারা শুনে। শুনতে শুনতে ঘুমোয়।

আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, আজ থেকে বেশ অনেক বছর পর, এমনই নিশীথে তারাও বিছানায় শুয়ে শুয়ে গল্প শোনাবে তাদের অনাগত উত্তরসূরীদের। হয়তো—আমি তখন অনন্ত আখিরাতের বাসিন্দা হয়ে যাব। কিন্তু আমার রোপন করে আসা ছোট্ট চারা-বীজ যে মহিরুহ হয়ে আকাশে মেলে দেবে অসংখ্য ডালপালা, সেই ছায়া কি আখিরাতে আমার নাযাতের উসিলা হয়ে যাবে না? আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন—অবশ্যই তা হবে।

আমার সন্তানদের আমি যেভাবে শেকড়ের গল্প বলি, ঠিক সেই একই গল্পগুলো আমি শোনাতে চাই আরো অনেক অনেক ছোট্ট সোনামণিদের। গল্পের মাধ্যমে একটা আস্ত প্রজন্মকে শেকড় চেনাবার অদম্য বাসনা থেকে আমি তাদের জন্য গল্প লিখতে শুরু করেছি। আমার সেই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার প্রথম সংকলনের নাম ‘পবিত্র মাসজিদের গল্প’ যা ইতোমধ্যে প্রকাশের দ্বারপ্রান্তে আছে, আলহামদুলিল্লাহ।

‘পবিত্র মাসজিদের গল্প’ সিরিজে আমি ছোট্ট সোনামণিদের পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের তিনটি পবিত্রতম মাসজিদের সাথে যেগুলো নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের অস্তিত্বের সাথে। ছোটদের জন্য করা আমার এই প্রথম কাজ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার যাবতীয় তথ্য প্রথম কমেন্টে দেওয়া থাকলো। ওয়ামা তাওফিক্বী ইল্লাবিল্লাহ।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Zahra's sign - জাহরা'স সাইন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share