25/05/2026
A dreamy moment...... ❤️
বাচ্চাকে ডিভাইস বিহীন রাখার ৬ টি নিনজা পদ্ধতি:
(১) সাবানের ফেনা দিয়ে বাবল ফুলাবেন। আপনি ফু দিয়ে বাবল বের করবেন, বাচ্চা একটা একটা করে ফুটাবে। বাতাসে বাবল উড়বে, বাচ্চা পিছে পিছে দৌড়াবে। কি যে আনন্দ পায় আল্লাহু আকবার! বাচ্চার কথা বাদই দেন, আপনার নিজেরই মনটা ভালো হয়ে যাবে।
(২) বাইরে অথবা ছাদে খেলতে নিয়ে যাবেন। যদি ওরকম কোন সুযোগ না থাকে তাহলে অন্তত আপনার বারান্দাতে একটু জায়গা করে দিবেন। অনেক আহামরি খেলনা লাগবে না। আপনি ওকে বলবেন যে দেখো, ঠেলাগাড়িতে করে একটা আঙ্কেল সবজি বিক্রি করছে, ওখানে দেখো ভাইয়াটা স্কুলে যাচ্ছে... দেখো এই তিন চাকার গাড়িটার নাম রিক্সা! দেখবেন আপনার বাচ্চা দারুন বিস্ময় নিয়ে প্রতিটা বিষয় এনজয় করছে। ওদের কাছে সবকিছুই নতুন। ছোট বয়স থেকে এই স্বাভাবিক ছোটখাটো জিনিসগুলো চেনানোর অভ্যাস করলে, ওদের পর্যবেক্ষণ দক্ষতা বাড়বে। এটা ছোট বাচ্চাদের ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ও অসম্ভব কাজে লাগে আলহামদুলিল্লাহ।
(৩) রান্নাবান্না করে আপনাকে খাওয়াতে বলবেন। সেদিন আমার মেয়ে নিজ দায়িত্বে আমাদের রান্নাঘর থেকে প্লাস্টিকের বাটি নিয়ে গেছে। একটু পরে দেখি আমার তসবিটা সেখানে ঢুকায়ে নাড়াচ্ছে আর বলছে, 'ভাত নান্না করি, ভাত!' এখানে একটা নতুন পদ্ধতি শিখিয়ে দিচ্ছি।
'Toy Rotation' পদ্ধতি। সেটা কিভাবে কাজ করে? ধরুন যাইনাবের পাঁচটা খেলনা আছে। পাঁচটা খেলনাই একবারে বের করে দিবো না। পাঁচটা থেকে দুইটা হয়তো এখন দিলাম। বাকি তিনটা উপরে তুলে রাখলাম। একমাস পরে উপরের দুইটা নামিয়ে দিলাম, এখন আগের তিনটা উপরে তুলে রাখলাম। তাহলে তার কাছে প্রতিবারই মনে হবে যেন সে নতুন খেলনা দিয়ে খেলছে। একসাথে অনেক খেলনা একসাথে দিয়ে দিলে তাদের তাড়াতাড়ি শখ মিটে যায়। কিন্তু রোটেশন করে করে দিলে, সে সহজে বোরড হয়ে যাবে না।
(৪) প্রচুর আঁকাবুকি, রং করা, পুরাতন ডায়েরী পুরাতন নোট-খাতা/কাগজ যেগুলো দরকার হয় না, বাচ্চাকে এমনি আঁকতে দিবেন। হাবিজাবি যা পারে আঁকুক। এখনই কোন কিছু পার্ফেক্ট হতে হবে না। যেটাই এঁকে নিয়ে আসবে, এপিসিয়েট করবেন, প্রশংসা করবেন। দেখবেন যে, তার হাতের মোটর স্কিলস গুলো অনেক ভালো হচ্ছে, মাশাআল্লাহ।
(৫) ছোট ছোট হাতে ধরা যায় এমন জিনিস একবার পলিথিন বা, এরকম কোন পুরান ব্যাগে, একবার ঢুকাতে দিবেন এবং বের করতে দিবেন। আমাদের ক্ষেত্রে সে বাসার তসবিহ গুলো সব সাথে একটা ব্যাগে ঢুকায়, আবার বের করে। এরকম অনেকবার করতে থাকে । পুতিপুতি জিনিসগুলো ধরতে মজা পেয়ে যায় মনে হয়। এগুলোও মোটর স্কিলস এর জন্য অনেক ভালো।
(৬) বই বই এবং বই প্রচুর পরিমাণে বই।
৬ মাস বয়স থেকেই বোর্ডবুক/ক্লোথবুখগুলো ধরতে দিতে পারেন। সব সময় পড়ে শোনানোর অভ্যাস করবেন। ছোটবেলা থেকেই পড়ে শোনালে বড় হলে সন্তানের ভাষারীতির বিকাশ অনেক ভালো হবে।
হয়তো ৬ মাসের একটা বাচ্চা আপনি ওকে কি বলছেন বই থেকে পড়ে, কিছুই বুঝবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে বাচ্চাটা পিকআপ করা শুরু করবে যে, মা এক একটা শব্দ বলে কতক্ষণ থামে, একটা বাক্য কোন টোনে শেষ হয়, শব্দের উচ্চারণ আসলে কেমন? এগুলো তার শব্দমালা সমৃদ্ধ করবে এবং স্পিচ ডিলে জাতীয় সমস্যা গুলো থেকে তাকে অনেক দূরে রাখবে ইনশাআল্লাহ।
আর আপনার সাথে যদি ইসলামিক বই থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। মা হিসেবে প্রতিদিন আপনি এক্সাইটেড থাকবেন, আরে আজকে আমার বাচ্চার বইটা থেকে আমি ইসলামের নতুন কোন গল্পটা জানবো? আজকে বাচ্চার বইয়ের মূল চরিত্রের নায়ক তার আখলাক উন্নতির জন্য কি কি করবে? আজকে সাহাবীদের কোন মজার ঘটনাটা পড়ে বাচ্চার সাথে হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়বো?
অবশ্যই একটা পর্যায়ে বই পড়ে শোনাতে শোনাতে আপনার চোয়াল ব্যাথা হয়ে যাবে। মনে হবে চাপা আর ব্যথায় নড়ছে না! তখন আর কি করবেন?
বাচ্চাকে বাবার কাছে পাঠিয়ে দিবেন,
না হলে আবারো রোটেট করে কালার পেন্সিল হাতে দিয়ে দিবেন,
না হলে হয়তো দেখবেন তখন খাওয়ানোর, গোসলের অথবা ঘুমানোর সময় হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ...
আসলে সত্যি কথা জানেন?
অনেকে খুব ভয় পায় যে, ডিভাইস না দিলে তো বাচ্চা সামলানো অনেক বেশি কঠিন হয়ে যাবে! কিভাবে শান্ত রাখবো? কিভাবে খাওয়াবো? আসলে সত্য কথা জানেন, ডিভাইসে আসক্ত না হলেই বাচ্চার সাথে প্যারেন্টিং টা আপনি সবচেয়ে নির্মল ভাবে এনজয় করতে পারবেন সুবহানআল্লাহ।
ক্ষণস্থায়ী কতক্ষণের তথাকথিত স্বস্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি অনেক ক্ষতি না হোক আমাদের বাচ্চাদের...
তাহলে দেখবেন, প্যারেন্টিং টা আপনি যেন সত্যিই অনেক এনজয় করতে পারছেন ইন শা আল্লাহ!
প্যারেন্টিং হবে ডিভাইস বিহীন ...
প্যারেন্টিং হবে সুন্নতি লাইফ স্টাইলের অংশ ...
প্যারেন্টিং হবে কুরআনের আয়াতের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি....