07/07/2026
সেশন ২৭০
ব্যাচ ৩৪
আপনার জীবনে টাকার ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করলে আপনি কখনো অর্থনৈতিক সংকটে পরবেন না?
মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল “মানি ম্যানেজমেন্ট”। এটা না জানার কারনে অনেকেই সব সময় অভাবে থাকে। তাঁর হাতে টাকা থাকে না। এর অন্যতম প্রধান কারণ বেহিসেবি চলাফেরা।
কেউ কেউ ভাবতে পারেন, টাকার রোজগারই নেই, মানি ম্যানেজমেন্ট দিয়ে কি করব? কিন্তু আপনার দিন তো চলছে, সপ্তাহ পার হচ্ছে, মাস যাচ্ছে… যে টুকু টাকা আছে তারও ম্যানেজমেন্ট জানা দরকার।
আপনি চাকরিজীবী হউন ব্যবসায়ি বা উদ্যোক্তা হউন, আপনার টাকার ম্যানেজমেন্ট না জানলে, আপনি সব সময় অভাবে থাকবেন এমনকি অনেক টাকা রোজগার করলেও আপনি টাকা খুঁজে পাবেন না বা আপনার হাতে টাকা থাকবে না।
নিজের অর্থ সামলানো মানে শুধু টাকা জমানো না, বরং সেটাকে বুদ্ধিমানের মতো ব্যবহার করা শেখা।
কিভাবে করবেন মানি ম্যানেজমেন্ট ?
১। মাসিক বাধ্যতামুলক সঞ্চয় ঃ আপনার আয়ের ১০% বাধ্যতামুলকভাবে সঞ্চয় করবেন প্রতি মাসে। বাৎসরিক সঞ্চয়ের একটা টার্গেট থাকতে হবে।
২। আয়ের চেয়ে ব্যয় কমানো ঃ কোন অবস্থাতেই আয়ের চেয়ে বেশী খরচ করা যাবে না। অনেকেই দেখি মাসের ১৫ তারিখ না যেতেই টাকা শেষ! এটা ভুল জীবন যাপন। টাকা নাই খাবো কম, চলব কম।
৩। খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করাঃ এটা নিয়ে আমার আলাদা একটা ভিডিও আছে, তবে অনেক অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে সঞ্চয় করা যায়।
৪। কারো থেকে ধার নেবেন নাঃ যতটুকু টাকা আছে ঠিক তত্তুকু টাকা দিয়ে মাস চলবেন। টাকা ধার চাওয়া একটা বাজে অভ্যাস। একবার এই অভ্যাস হয়ে গেলে আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না। ধারেই জীবন কাটবে এর মানুষের কথা শুনবেন ও লুকিয়ে লুকিয়ে চলবেন।
৫। কাউকে ধার দেবেন নাঃ “না” বলা শিখতে হবে। আপনার হাতে টাকা থাকলে বিশেষ প্রয়োজনে এককালীন সাহায্য করে দিবেন, তবুও ধার দিবেন না। ধার দিয়েছেন মানে আপনার সাথে তাঁর সম্পর্ক শেষ।
৬। প্রাতিষ্ঠানিক লোণ নিলে, ফেরত দিতে পারবেন তা আগে নিশ্চিত হয়ে নিবেন ঃ মাসিক ইন্সটলমেন্ট ঠিক মত দিতে পারবেন কিনা আপনার আয় থেকে, সেটা আগে নিশ্চিত হয়ে নিবেন, না হয় আবার একটা বড় ঝামেলায় জড়িয়ে যাবেন এবং আপনার জীবনে টেনশন ও অনিশ্চয়তা শুরু হবে।
৭। মাসিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব লিখা ঃ প্রতিদিন আপনার আয় ও ব্যয়ের হিসাব লিখবেন। মাস শেষে কত আয় হল, কত ব্যয় হল ও কত সঞ্চয় হল তা হিসাব করবেন।
৮। খরচের প্লান আগে থেকে ঠিক করা ঃ আমাদের সাধারণত ৩ ধরনের খরচ হয়ে থাকে – বাধ্যতামুলক খরচ, বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় খরচ এবং বিনিয়োগ। এই মাসে কি কি খরচ করবেন, কোন টা করবেন না, আয় বুঝে সেটা আগে থেকেই করতে হবে।
৯। আয় বাড়তে থাকলে সঞ্চয়ও বাড়ানোঃ সবার আগে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে প্রতি বছর। আয় বাড়লে খরচও বাড়ে, তেমনি সঞ্চয়ও বাড়াতে হবে।
১০। আয়ের একটা অংশ দাণ করা বা সামাজিক কাজে ব্যয় করা ঃ আয়ের কমপক্ষে ১% সব সময় দাণ করবেন অথবা সামাজিক কাজে ব্যয় করবেন। আপনার আয়ে মানুষের হক আছে। এই হক পূরণ করলে আপনার আয়ও বাড়বে।
১১। চিকিৎসা, হজ্জ, বিয়ে বা বিশেষ কোন কাজের জন্য মাসিক সঞ্চয়ঃ আয় বাড়লে আলাদা করে ডিপিএস করে এই সব কাজের জন্য সঞ্চয় করবেন।
১২। বিনিয়োগের জন্য মাসিক সঞ্চয়ঃ আয় বাড়তে থাকলে নতুন ব্যবসা, জমি, বাড়ি বা ফ্লাট, গাড়ি ইত্যাদির জন্য সঞ্চয় শুরু করবেন।
পরিকল্পনা ছাড়া জীবনে কোন কাজ সুন্দরভাবে ও গুছিয়ে করা যায় না। আপনার জীবনে ফিনাসিয়াল ফ্রিডম পেতে হলে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে হলে, আপনাকে মানি ম্যানেজমেন্ট জানতেই হবে।
- ইকবাল বাহার
#স্বপ্নদেখুন_সাহসকরুন_শুরুকরুন_লেগেথাকুন
#উদ্যোক্তা
#নিজের_বলার_মতো_একটা_গল্প_ফাউন্ডেশন