21/06/2026
আমাদের ম্যানেজার সাহেব গফুর ভাই। প্রায় সময়ই দেখি ফ্যাক্টরির কর্মচারীদের বলে, “তোমাকে যে আমি কত ভালোবাসি, তুমি সেটা কল্পনাও করতে পারবে না।”
তো একদিন জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, আপনি সবাইকে ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি’ বলেন কেন?”
বল্লো, “গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মচারী পাওয়া অনেক সাধনার বিষয়। তাই যাতে চলে না যায়, এটা বলে রাখতে হয়।”
প্রায় এক মাস সাধনার পর এক সপ্তাহ আগে বাসায় রান্নার জন্য একটা বুয়া খুঁজে পেলুম। ব্যাচেলর বাসায় কেন জানি বুয়ারা আসতে চায় না।
তিন দিন আগে ভাব-সাব দেখে মনে হলো, মেবি হুট করে চলে যাবে, আর আসবে না। তৎক্ষণাৎ মনে পড়ল গফুর ভাইয়ের সেই লাইফ লেসন।
বললাম, “খালা, আপনারে আমি যে কী পরিমাণ ভালোবাসি, তা বইলা বুঝাইতে পারব না...”
খালা মুচকি হাসি দিল। মনে হলো কাজ হয়েছে। খাওয়ার কষ্ট দূর হচ্ছে ভাবতেই আমার মুখেও হাসি ফুটল। খুব চওড়া এক হাসি। আমার মতো মোটা মানুষের সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো সময়মতো খাবার না পাওয়া।
গতকাল খুব ভোর ভোরেই খালা এলো। দেখি হাতে বড় একটা বাজারের ব্যাগ, আর কোলে একটা বাচ্চা ছেলে। বাজারের ব্যাগ ভর্তি কাপড়চোপড়। ভাবলাম, কাজ শেষ করে কোথাও যাওয়ার প্ল্যান আছে হয়তো। অত শত না ভেবে আবার গিয়ে শুয়ে পড়লাম।
“আব্বা, আব্বা... আব্বায়ায়া... আব্বা, উডো!”
পিচ্চিটার চিৎকারে ঘুম ভাঙল। ঘুমভরা চোখে কিছুই ঠাহর করতে পারছি না। খালারে ডাক দিলাম—
— খালা! এই পিচ্চিটাকে রুম থেকে নেন। আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না।
— এখনো আমাকে খালা বলেই ডাকবা?
— মানে! আপনাকে খালা বলেই তো ডাকি। নাকি অন্য কিছু বলে ডাকতাম?
— তুমি কি লজ্জা পাইতাছো আমার নাম ধইরা ডাকতে?
— আজব! আমি আপনার নাম ধরে ডাকব কেন?
— কেন মানে? কালকেই তো কইলা, তুমি আমাকে এত্ত বেশি ভালোবাসো যে বলে বুঝাইতে পারবা না। আমিও বল্টুর বাপের ঘর ছাইড়া আইয়া পড়ছি। শালা খালি জুয়া খেলে আর আমারে মারে। আমিও তোমারে ভালোবাসি।
— মানে কী, খালা!
— আবার খালা কইয়া ডাকতাছো! এই বল্টু, তোর নতুন বাপে মনে অয় আমার নাম জানে না। আমার নাম জরিনা...
কোনোরকমে শার্টটা গায়ে জড়িয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গতকাল থেকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি...
কারও কাছে থাকা এবং খাওয়ার জায়গা থাকলে একটু সাহায্য করবেন প্লিজ।
বিনিময়ে ৩-৪ দিনের মধ্যে বেইজলাইনে সুপার প্রিমিয়াম কিউবান শার্ট আসতেছে। তাও আবার ১১ কালারে! সব কয়টা চুরি করে এনে দেব। 🥹
— ইয়াসিন
মডারেটর, BazeLine