19/06/2025
সময়টা প্রায় ৪,০০০ বছর আগের কথা —
খ্রিস্টপূর্ব ১৫৩০ সালের মিশরে,
যখন ফারাওরা রাজত্ব করত,
তাদের দেহে জড়ানো থাকত এক ধরনের পাতলা লিনেন কাপড়।
এই কাপড়ের ফোল্ডিং, ভাঁজ, আর বাঁধনে
ছিল একধরনের সৌন্দর্য, ছিল ক্ষমতা আর শৃঙ্খলা।
তবে তখনও এই বস্তুটার নাম ছিল না "শার্ট",
তবু সে ছিল “শারীরিক পরিচ্ছদের প্রথম ভাষা”।
⏳ খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সাল, ইউরোপের দিকে
গ্রিক এবং রোমানরা পরতে শুরু করলো একধরনের পোশাক —
নাম ছিল "টিউনিক"।
🧥 এটা ছিল একটা লম্বা, সেলাইবিহীন, গলার দিকে কাটা জামা —
পুরুষ হোক বা নারী, সবাই পরত এই টিউনিক।
গরীবদের হতো সাদা বা বাদামী,
আর ধনী আর সেনাপতির হতো রঙিন, এমব্রয়ডারি করা।
তখন শার্ট ছিল না ফ্যাশন — ছিল স্তর আর শ্রেণির পরিচয়।
🏰 তারপর আসে মধ্যযুগ (৫ম-১৫শ শতক)
সেই সময় “Chemise” নামে একধরনের সাদা সুতির জামা ছিল যা শুধুমাত্র ভেতরে পরা হতো —
একদম আন্ডারগারমেন্ট।
এই Chemise টাই ধীরে ধীরে "শার্ট"-এ রূপ নেয়।
বাইরের লোক দেখতো না,
কিন্তু অভিজাত লোকেরা গর্ব করত এই আভ্যন্তরীণ কাপড় নিয়ে —
কারণ শার্ট মানে তখন পরিচ্ছন্নতা, সম্মান আর রুচি।
👑 তারপর আসে রেনেসাঁ যুগ (১৪০০-১৬০০)
শার্ট ধীরে ধীরে বাহিরে আসতে শুরু করলো —
Ruffles, Frills, Puff sleeves যুক্ত শার্ট যেন একেকটা রাজকীয় ক্যানভাস!
এটা পরা মানে হচ্ছে —
“আমার আছে রুচি, আমি শিক্ষিত, আমি শ্রেণিসম্পন্ন।”
________________________________________
⚙️ ১৮০০–১৯০০, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিপ্লব এল।
✂️ মেশিনে তৈরি শার্টের জন্ম হলো।
কোনো রাজা না, কোনো কবি না — এখন কর্মজীবী মানুষরাও পরতে পারছে শার্ট।
কিন্তু তখনো —
সাদা শার্ট মানে “Gentleman”
আর রঙিন শার্ট? "শ্রমজীবী"।
👨💼 এখানেই “White Collar vs Blue Collar” শব্দদুটোর জন্ম!
________________________________________
🎬 ১৯০৪ সাল —
T-shirt-এর জন্ম!
একটি কোম্পানি আন্ডারশার্ট তৈরি করলো,
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে
WWI আর WWII তে সৈনিকরা যখন এই T-shirt পরে যুদ্ধ করলো,
তখনই এই সাধারণ জিনিসটা "আইডেন্টিটির প্রতীক" হয়ে উঠলো।
________________________________________