31/12/2025
৩১শে ডিসেম্বর: আধুনিক প্রথা বনাম পৌত্তলিক উৎস
থার্টি ফাস্ট নাইট" বা ৩১শে ডিসেম্বরের উদযাপন আমাদের কাছে আধুনিক মনে হলেও এর শিকড় অনেক গভীরে। বর্তমানের আতশবাজি, পার্টি বা কাউন্টডাউনের প্রতিটি প্রথার পেছনেই রয়েছে প্রাচীন পৌত্তলিক (Pagan) বিশ্বাস, দেব-দেবীর পূজা এবং অশুভ শক্তি তাড়ানোর আচার।
নিচে ৩১শে ডিসেম্বরের উৎসবের পেছনের ঐতিহাসিক এবং 'প্যাগন' বা পৌত্তলিক বাস্তবতা তুলে ধরা হলো:
১. তারিখ নির্বাচন "দুই মুখের দেবতার পূজা"
১লা জানুয়ারিকে বছরের শুরু হিসেবে বেছে নেওয়াটা বিজ্ঞানের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি ছিল ধর্মীয়।
- জেনাস (Janus) দেবতা: জানুয়ারি মাসের নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা 'জেনাস'-এর নামানুসারে। এই দেবতার দুটি মুখ ছিল—একটি পেছনের দিকে (অতীত) এবং অন্যটি সামনের দিকে (ভবিষ্যৎ)।
- আচার: রোমানরা বিশ্বাস করত, বছরের প্রথম দিনটি যেভাবে কাটবে, সারা বছর তেমনই যাবে। তাই তারা জেনাস দেবতাকে খুশি করতে উপহার আদান-প্রদান করত এবং আমোদ-প্রমোদে মেতে উঠত।
- পরিবর্তন: মূলত রোমানদের বছর শুরু হতো মার্চ মাসে। জুলিয়াস সিজার সূর্য দেবতার আবর্তনের সাথে মিল রেখে ১লা জানুয়ারিকে বছরের শুরু হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং পৌত্তলিক দেবতা জেনাসকে বছরের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
২. হই-হুল্লোড় ও পার্টি: "স্যাটার্নালিয়া উৎসবের প্রতিধ্বনি"
আজকের দিনে ৩১শে রাতে যে মদ্যপান, নাচ-গান এবং উদ্দাম পার্টির আয়োজন দেখা যায়, তা মূলত রোমান উৎসব 'স্যাটার্নালিয়া' (Saturnalia)-এর আধুনিক সংস্করণ।
- উৎসবের ধরণ: কৃষি দেবতা 'স্যাটার্ন'-এর সম্মানে ডিসেম্বরের শেষে এই উৎসব হতো। এটি ছিল বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার সময়। এই উৎসবে দাস-মনিব সবাই সমান হয়ে যেত, জুয়া খেলা বৈধ ছিল এবং অতিরিক্ত মদ্যপান ও ভোজন ছিল উৎসবের প্রধান অংশ।
- আধুনিক রূপ: খ্রিস্টধর্ম ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার পর চার্চ এই বুনো উৎসবগুলো বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা এই রীতিগুলোকে 'নিউ ইয়ার' বা নববর্ষ উদযাপনের সাথে মিশিয়ে দেয়।
৩. আতশবাজি ও বিকট শব্দ: "অশুভ শক্তি তাড়ানো"
মধ্যরাতে কেন বাজি ফোটানো, হর্ন বাজানো বা চিৎকার করা হয়? প্রাচীনকালে এটি আনন্দের জন্য করা হতো না, বরং সুরক্ষার জন্য করা হতো।
- কুসংস্কার: প্রাচীন অনেক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হতো যে, পুরোনো বছর এবং নতুন বছরের সন্ধিক্ষণে পৃথিবী এবং আত্মাদের জগতের মাঝখানের পর্দা পাতলা হয়ে যায়। ফলে অশুভ আত্মা বা শয়তান পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারে।
- প্রতিকার: মানুষ বিশ্বাস করত যে বিকট শব্দ (Loud Noise) এবং আগুন বা আলো এই অশুভ আত্মাদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেবে। আজকের আতশবাজি মূলত সেই প্রাচীন ঝাড়ফুঁক বা ভূত তাড়ানোর রীতিরই একটি মার্জিত রূপ।
৪. নিউ ইয়ার রেজোলিউশন: "দেবতাদের সাথে চুক্তি"
নতুন বছরে প্রতিজ্ঞা বা 'রেজোলিউশন' করার প্রথা ৪,০০০ বছর আগে প্রাচীন ব্যাবিলনীয়দের মধ্যে প্রচলিত ছিল।
- আকিতু উৎসব: ব্যাবিলনীয়রা তাদের নববর্ষের উৎসবের (আকিতু) সময় দেবতাদের কাছে প্রতিজ্ঞা করত যে, তারা ধার নেওয়া কৃষি যন্ত্রপাতি ফেরত দেবে এবং ঋণ শোধ করবে।
- উদ্দেশ্য: যদি তারা কথা রাখত, তবে দেবতারা সারা বছর তাদের ওপর কৃপা করতেন। আর কথা না রাখলে অভিশাপ নেমে আসত। আজ আমরা নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করি (যেমন: জিম করা, ডায়েট করা), কিন্তু এর মূল ধারণা সেই প্রাচীন ধর্মীয় প্রথা থেকেই এসেছে।
#অপসংস্কৃতি #2026
Collected: from Mahmud Alam vai
Image Credit : same