03/04/2026
আমার প্রিয় বোনেরা, কথাগুলো একটু মন দিয়ে শোনো...
কখনো কোনো পরপুরুষ বা অপরিচিত মানুষকে তোমার ব্যক্তিগত সময় দিও না। মনে রেখো, একটা সময় আসবে যখন সেই মানুষটিই তোমার চরিত্রের দিকে আঙুল তুলবে এবং তোমাকে মানসিক যন্ত্রণার সাগরে ভাসিয়ে দেবে।
ভালোবাসার মতো পবিত্র আবেগের ভুল ব্যবহার কখনো করো না। সবসময় সিরাতে মুস্তাকিম বা সঠিক পথে চলো এবং কেবল বিয়ের পবিত্র বন্ধনকেই গুরুত্ব দাও।
যদি বুঝতে পারো যে পরিবার বা সমাজ এই সম্পর্কের পক্ষে নেই এবং এটি পরিণতির দিকে যাবে না, তবে ভবিষ্যতের বড় কোনো দুঃখ বা লাঞ্ছনা থেকে বাঁচতে আজই সেই সম্পর্কের ইতি টানো। বিশেষ করে মেয়েদের এই সত্যটি গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত।
যৌবনের উন্মাদনায় পুরুষদের কাছে প্রতিটি নারীই আকর্ষণীয় মনে হয়, আর নারীদের কাছে প্রতিটি পুরুষের মায়াবী কথাকেই 'সত্যিকারের ভালোবাসা' মনে হয়।
পুরুষের সামান্য একটু চাহনিও নারীর কাছে বিশেষ কিছু মনে হতে পারে, আর পুরুষের সামান্য সহানুভূতিকে নারী তার ভালোবাসার স্বীকৃতি বলে ভুল করে। এই বয়সটাই এমন—মন কেবল রঙিন স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে।
কারো একটু যত্ন বা খেয়াল পেলেই আমাদের মনে হয় আমরা প্রেমে পড়ে গেছি। কিন্তু এই মোহময় ভালোলাগাগুলো ক্ষণস্থায়ী।
কারো বিশ্বাসের সাথে খেলা করো না। যদি সত্যিই কাউকে ভালোবাসো, তবে সম্মানের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দাও। মনে রেখো, ভালোবাসার জন্য 'সম্মান' অনিবার্য; কেবল শারীরিক আকাঙ্ক্ষাকে ভালোবাসার নাম দিও না।
পুরুষ যখন কোনো নারীকে সত্যিই ভালোবাসে, তখন সে তাকে নিজের সম্মান হিসেবে গণ্য করে এবং আগলে রাখে। সে চায় না তার ভালোবাসার ওপর অন্য কারো নজর পড়ুক।
আর যদি সে তা না করে, তবে বুঝে নিও সেই নারীর স্থান তার হৃদয়ে নেই; সে কেবল বন্ধুদের কাছে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে বা সময় কাটানোর জন্য সেই নারীকে ব্যবহার করছে। সেখানে স্বার্থ আছে, সম্মান নেই!
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন প্রতিটি মেয়ে ও বোনের ইজ্জত-সম্মান হেফাজত করেন এবং তাদের নিজেদের মর্যাদা বোঝার তাওফিক দান করেন।
মনে রেখো বোন, সেই নারীর কোনো সম্মান বাকি থাকে না যে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে একজন গায়র-মাহরামের কথায় চলে। যার জন্য সে আজ সব বিসর্জন দিচ্ছে, সেই মানুষটিই কাল তাকে 'চরিত্রহীন' বা 'বাজে মেয়ে' অপবাদ দিয়ে নতুন কোনো শিকারের খোঁজে চলে যাবে। তখন সেই মেয়ের কাছে আফসোস ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে না।
তাই এই মরিচিকা আর মিথ্যা স্বপ্নের দুনিয়া থেকে বেরিয়ে আসো। একজন গায়র-মাহরাম পুরুষ কখনো তোমার অকৃত্রিম বন্ধু, ভাই, অভিভাবক কিংবা প্রেমিক হতে পারে না।
ভালোবাসার একমাত্র গন্তব্য হলো বিয়ে, জিনা (অবৈধ সম্পর্ক) নয়। স্বামীই হলো নারীর আসল রক্ষক এবং প্রকৃত ভালোবাসার হকদার।
আল্লাহ আমাদের অত্যন্ত ভালোবাসেন, তাই তিনি আমাদের জন্য হালাল রিযিক ও হালাল সম্পর্কের ব্যবস্থা করেছেন এবং হারাম থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। নিজেকে হারাম কাজ ও হারাম সম্পর্ক থেকে বাঁচিয়ে রাখো।”
সম্মান হলো কাঁচের মতো, একবার ভেঙে গেলে তা আর আগের মতো জোড়া লাগে না। নিজের ইজ্জত আর আমলকে আগলে রাখুন কেবল সেই মানুষটির জন্য, যে আপনাকে সম্মানের সাথে নিজের ঘরে তুলে নেবে। আল্লাহ আমাদের যাবতীয় ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
© Salman Farsi
উর্দু থেকে অনূদিত