13/07/2026
"প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে!"
শিরোনামটা মনে আছে? গত কয়েক বছরে কতবার দেখলাম — সুদর্শন চীনা যুবক প্রেমের টানে দিনাজপুরে, মাদারীপুরে, রাঙ্গামাটিতে। মিডিয়া গল্পগুলো পরিবেশন করল রূপকথার মতো। আমরা শেয়ার দিলাম, বাহবা দিলাম।
আজ সেই রূপকথার পর্দাটা সরে গেছে।
বিয়ের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশি তরুণীকে চীনে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে — এটা আর গুজব নয়, গ্রেফতার হয়েছে পাচারচক্রের সদস্যরা।
আর পেছনের হিসাবটা শুনুন। শুনলে গা শিউরে উঠবে।
চীনে কয়েক দশকের এক-সন্তান নীতি আর কন্যাশিশু হত্যার ফলে আজ ভয়াবহ পাত্রী-সংকট। গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় ৫ কোটি পুরুষ বউ পাবে না। সেই ঘাটতি মেটাতে পাচারচক্রের চোখ এখন বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমারের গরিব ঘরের মেয়েদের দিকে। দাম? ৫ থেকে ২০ হাজার ডলার। দর ঠিক হয় বয়স আর চেহারা দেখে।
এতটাই ভয়াবহ যে ঢাকার চীনা দূতাবাস নিজেই নিজের দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে — আর এই কারবারের নাম দিয়েছে "বিদেশি বউ কেনা।"
ওদের দূতাবাস ওদের সতর্ক করছে। আর আমাদের মিডিয়া? আমাদের মেয়েদের শোনাচ্ছে রূপকথা।
এবার একটা প্রশ্ন করি। কঠিন, কিন্তু জরুরি।
একবার ভাবুন তো — ভিনদেশি একটা মানুষ, যার ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা, ধর্ম আলাদা — সে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ঠিক আপনার জন্যই কেন এলো? আপনার কোন পরিচয়টা সে জানে? কীসের ভিত্তিতে সে জীবন কাটাতে চায় আপনার সাথে?
এই প্রশ্নের সৎ উত্তরটাই আপনাকে বাঁচাবে। কারণ প্রতারক সবার আগে যেটা কেড়ে নেয়, সেটা টাকা না — সেটা এই প্রশ্ন করার ক্ষমতা। স্বপ্ন দেখিয়ে, তাড়াহুড়ো করিয়ে, "এমন সুযোগ আর আসবে না" বলে।
ঘরের মেয়েদের এই খবরটা দেখান। ভয় দেখানোর জন্য না — চোখ খোলার জন্য।
আর যে বোনেরা এই ফাঁদে পড়ে আজ দূর দেশে বন্দি — আল্লাহ তাদের মুক্ত করে ফিরিয়ে আনুন।
আমীন।
muhammad rafiuzzaman