12/03/2026
কাক ডাকা ভোরে দুধের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো আসলে কতটা যৌক্তিক? ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা যে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সকালে ফযরের নামায পড়লে / প্রার্থনা বা মেডিটেশন করলে সারাদিনটা ভালো যায়। তাই বাচ্চাদেরও সকাল সকাল ওঠার অভ্যাস থাকা দরকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আপনার বাচ্চার সাউন্ড স্লিপ হচ্ছে?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ শিশু মা বাবার সাথেই ঘুমায়। রাতে মা বাবা ফোন স্ক্রল করেন, রিলস বা টিকটক দেখেন, আর বাচ্চাও তাদের সাথে জেগে থাকে। সন্ধ্যার পর বাচ্চার জন্য ওভারস্টিমুলেটিং কাজ বা খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু বাস্তবে আমরা কি সেটা এনশিওর করছি? আমাদের দেশে অনেক ছোট বাচ্চাই সন্ধ্যার পর মা বাবার সাথে চা কফি খায়, রাত জেগে টিভি দেখে, দেরিতে খাবার খায়। সবকিছু মিলিয়ে শিশুর ব্রেন গভীর রাত পর্যন্ত অ্যাক্টিভ থাকে।
একবার ভেবে দেখুন, রাত ১টায় ঘুমানো একটা বাচ্চাকে যদি সকাল ৫টা বা ৬টায় উঠানো হয়, তার মনমেজাজ কেমন থাকবে? ভাবছেন দিনের বেলা ঘুমালেই এই ঘাটতি পুষিয়ে যাবে? মনে রাখবেন, রাতের ডেল্টা স্লিপের কোনো অলটারনেটিভ নেই। নিরবিচ্ছিন্নভাবে অন্তত ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা না ঘুমালে শিশুর ব্রেন পরদিন ঠিকভাবে কাজ করে না। ফলশ্রুতিতে বাচ্চা মনোযোগ দিতে পারে না, ধৈর্য কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে।
বর্তমান শহুরে বাস্তবতায় বেশিরভাগ শিশু সকাল ৯ বা ১০টার আগে ঘুম থেকেই ওঠে না। এই বাচ্চাটাই যখন ৪ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়, তখন মা বাবা জোর করে তাকে ভোরবেলা স্কুলের জন্য ডেকে তোলে। এই পরিবর্তিত অভ্যাস আর শর্ট স্লিপ সাইকেলের সাথে বেশিরভাগ শিশুই খাপ খাওয়াতে পারে না। এর মধ্যে নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, নতুন অথোরিটি (শিক্ষক)... সব মিলিয়ে শিশুটি যেন হঠাৎ করেই অথৈ সাগরে পড়ে যায়। সে না পারে পড়ায় মন দিতে, না পারে টিচারকে ঠিকমতো রেসপন্স করতে, না পারে বন্ধুদের সাথে মিশতে। তার ওপর যদি অ্যাসেম্বলি থাকে, সেটি বাচ্চার জন্য আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। এই জায়গাটায় আমাদের সিস্টেম নিয়ে ভাবা দরকার।
বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করার আগে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা আপনার দায়িত্ব। প্রথমত, তাকে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে অভ্যস্ত করুন। নিজের শার্টের বোতাম লাগানো, প্যান্টের জিপার আটকানো, জুতার ফিতা বাঁধতে পারা, শেয়ারিং এর মানসিকতা, টিচার সম্পর্কে সঠিক ধারণা, ওয়াশরুম অ্যাক্টিভিটি জানা এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পরই বাচ্চাকে স্কুলে দেওয়া উচিত। একই সাথে স্কুলগুলোরও উচিত নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের ক্লাস টাইমিং নিয়ে ভাবা। মর্নিং শিফটে ছোট বাচ্চাদের মনোযোগ ধরে রাখা সত্যিই কঠিন, কারণ ঘুম থেকে ওঠার পর স্বাভাবিক হতে তাদের একটু বেশি সময় লাগে।
সবশেষে একটা কথাই বলবো... অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব আপনার সোনামণিকে স্কুল জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। দরকার হলে বাসায় প্রিস্কুলিং করান। তবুও ৩ বা ৪ বছরের একটা অবুঝ বাচ্চাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঠেলে দেবেন না।