01/05/2026
ডিগ্রী (পাশ) ২য় বর্ষের পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলাম আজ। কক্ষে প্রবেশ করে দেখলাম ছোট এই বাবুকে নিয়ে রুমেই এক পরীক্ষার্থী। তার পাশে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, বাবুকে বাইরে রেখে আসেননি কেন? উনি বললো আসলে আমার বাসা ঠাকুরগা। ডিগ্রি ভর্তির সময় চাকুরী জনিত কারণে এখানে ভর্তি হয়েছি। এখন আর এখানে থাকা হয়না। পরীক্ষার জন্য আপত বাসা ভাড়া নিয়ে আছি। আমার সাথে পরীক্ষা কেন্দ্রে কেউ আসেনি। তাই বাবুকে আমার সাথেই রাখি, স্যার। তাতে কোন সমস্য হয়না। পরীক্ষা শুরু পর লক্ষ্য করলাম বাবুটি তার মায়ের পাশে শান্তভাবে বসে আছে। একটু পরপর বেঞ্চের আসপাশে হাটতেছে, বিস্কিট ও পানি খাচ্ছে আবার এসে ওর মায়ের পাশে বসছে, ওর মা লিখতেছে তা দেখছে। কাউকে কোন রকম ডিস্টার্ব করছে না। কিছুক্ষনের মধ্যে ঘুমায় গেল বেঞ্চে। মাথাটা ওর মায়ে উরুতে। প্রায় দু-ঘন্টা পর ঘুম থেকে উঠে কোন কান্নাকাটি কিছুই নাই। একটু কান্নার মতো ভাব করলেই ওর মা মাথাটা টেনে একটু চুমু খেলেই আবার ঠিক। বর্তমান যুগে এ বয়সের বাচ্চা এতো শান্ত আর মায়ের অনুগত,অনেকটা অবাক হওয়ার মতোই।
আমি মা ও মেয়ের ভালবাসা দেখে মুগ্ধ।
ছবিটি পরীক্ষার একদম শেষ মুহূর্তের, বাবুটি দরজার পাশে এভাবে শান্তভাবে বসে ছিল।
সংগৃহীত