21/01/2026
আব্বাস খানের বিরুদ্ধে কেসটা সাজিয়া বানু কেন জিতেছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সাজিয়া বানুর সতিন,সায়রা।
সায়রা তার স্বামী আব্বাসকে বলেছিলেন, ও তোমার চে ভালো শরীয়া জানে, ভালো কুরআনও জানে।
ইয়েস। দিস ইজ দ্য মেসেজ।
বহুদিন পর এক সেকেন্ড ব্রেক না নিয়ে একটা হিন্দি মুভি দেখে শেষ করেছি।
চমৎকার কিছু মেসেজ এই সিনেমা থেকে পেয়েছি।
যেমন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্কুলের নাম পরিবার।
আব্বাস খান এত শিক্ষিত হয়েও যে শিক্ষা পান নাই, সাজিয়া কম শিক্ষিত হয়েও সেই সাহস আর শিক্ষা পেয়েছিলেন বাবার কাছে থেকে।
আব্বাসের সমস্ত শয়তানির সাপোর্টার ছিল তার মা।
সাজিয়ার সমস্ত সাহসের উৎস ছিল তার বাবা।
ভালো একটা পরিবার আমাদের জীবনে এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দুই, জাস্ট পরিবার পাশে থাকলে সন্তানদের আর কাউকে লাগে না। বাবার একটা কথা, সাজিয়া, তুমি ঠিক, এইটুক পেয়েই সে দুনিয়া জয় করে আসছে।
তিন, ঠিক ভুল নির্ধারণের সবচেয়ে বড় প্যারামিটারের নাম, নিজের সন্তান। আব্বাস শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নাই যে সে অন্যায় করসে, বাট সাজিয়া যখন বলসে তার মেয়ের সাথে যদি এমন হয়, সে মাইনা নিতে পারবে কি না?
ঐ মুহুর্তে আব্বাসের মাথা নিচু হয়ে গেছিল।
যদি কখনও কোন মেয়ের সাথে ঠিক করছেন নাকি ভুল করছেন বুঝতে না পারেন, জাস্ট চোখ বন্ধ করে কল্পনা করবেন, সেইম কাজটা কেউ আপনার মেয়ের সাথে করতেসে।
কাজটা করা ঠিক নাকি ভুল, বুইঝা যাবেন।
সাজিয়ার ফিউচার প্ল্যান ছিল, সে মেয়ে বাচ্চাদের কুরআন পড়াতো।
আব্বাস ধর্মের নামে তার সাথে এতবড় অন্যায় করলো, তাকে হুজুররা একঘরে করলো বাট সে ধর্মের সাথে বিদ্রোহ না করে, স্টাডি করলো আরও বেশি।
বাচ্চাদের পড়ানো শুরু করলো। সে সবাইকে বলত কুরআনের সেই প্রথম শব্দ, ইকরা। পড়ো।
যত যাই করেন, পড়া থামানো যাবেই না।
মানুষের জন্য সে ধর্মকে ত্যাগ করে নাই।
খোদার সাথে তার বোঝাপড়া সে ঠিক রাখছিল, যতই মানুষ তাকে কাফের বলুক।
ভালোবাসা সাজিয়া পায় নাই। ভালোবাসা পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের কপালেই জোটে না, এটাই নির্মম সত্য।
কে আপনাকে ভালোবাসবে কে বাসবে না, এটা আপনার হাতে নাই। একজনের জন্য জীবন দিয়ে দিলেন, সে আপনাকে ভালোবাসলো না। কী করবেন?
বাট, সম্মান জিনিসটা আদায় করে নিতে হয়।
সাজিয়া বানু যেটা আদায় করে নিয়েছিলেন।
ভালোবাসা ছাড়াও মানুষ বাঁচতে পারে, বাট সম্মান ছাড়া পারে না।