14/05/2025
আপনার বয়স কি পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই করছে?আপনার পা দুটো কি এখনো সচল আছে,কিন্তু মর্নিং ওয়াক,অথবা বিকেলে হাঁটতে যেতে কোনোটাই আপনার ভালো লাগেনা?শরীরে আগের মত শক্তি পান না,মন খারাপ লাগে, সামান্য কাজ করে হাঁপিয়ে ওঠেন?
ইচ্ছা করে আগের দিনগুলোর মতো প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠতে,ইচ্ছা করে শাড়ি পড়ে খোঁপায় বেলী বা রজনীগন্ধা জড়াতে কিন্তু কিছুই আর করে উঠতে পারেন না,কারণ আপনার শরীর, মন আপনাকে ঘরে বন্দী করে রেখেছে।
কিন্তু আপনি কি বাঁচতে চান আরও অনেক বছর,হাসি আনন্দের মাঝে?নাকি তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দিয়ে নিজেকে মৃত্যুর হাতে সমর্পণ করে দিতে চান?
নিশ্চয়ই চান না। হ্যাঁ এটা একদম ই চাননা।এটা কেউই চায়না। ফুটপাতে শুয়ে থাকা বিকলাঙ্গ ভিখারি ও এটা চায়না।
আপনি কি সেই ভিখারির চাইতেও খারাপ অবস্থায় আছেন? নিশ্চয়ই না? আপনি তো শরীর টাকে মনের জোরে বিছানা থেকে টেনে তুলতেই পারেন।
আর তুলতে তো আপনাকে হবেই ! তা না হলে আপনি হেরে যাবেন বার্ধক্যের কাছে।আপনি বলি রেখাকে ডাকবেন হাতছানি দিয়ে। মেদ যুক্ত শরীর নিয়ে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে দেখতে চাইবেন, মানুষ আপনাকে দেখে এখন কিভাবে রিয়েক্ট করছে।
আপনি কি তাদের চোখে দেখতে পাচ্ছেন আপনাকে বাতিলের দলে ফেলে দেয়ার ইঙ্গিত? আপনি কি হাতছানি দিয়ে ডাকছেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ইত্যাদি ইত্যাদি রোগবালাই কে?
তাহলে কে আপনাকে সাহায্য করবে,এই শিকল ছিঁড়ে ফেলতে?এই থেমে যাওয়াকে আবার নতুন করে গতি ফিরিয়ে আনতে?
কেউ করবেনা। আপনাকে,আপনার নিজেকে সাহায্য করতে হবে। থেমে গেলে চলবে না। এখন ই উঠে না দাঁড়ালে হয়তো আপনি দেরী করে ফেলছেন। উঠুন, উঠে পড়ুন। আজকে হয়তো বাড়ির বাইরে বেরোনোর জোর নেই, আজকের দিনটা,আপনার নিজের বারান্দায়, অথবা ঘরেই হাঁটুন।
দুইদিন পর নিজের থেকে ই জোর পাবেন,বের হবার। সুন্দর পোশাকের প্রয়োজন নেই, আপাতত ঘরের মলিন পোশাকেই, একজোড়া স্লিপার পায়ে দিয়েই বের হয়ে পড়ুন।
থামবেন না, আটকে যাবেন না। চলতে থাকুন।একটু একটু করে আগে বাড়তে থাকবেন। বয়স বেড়ে যাওয়া মানে থেমে যাওয়া না। এখন ই শুরু করুন চলতে নতুন গতিতে।তা না হলে,কে জানে একদিন হয়তো মনে হতে পারে, আপনি মনে প্রাণে চাইছেন মানুষের স্রোতে মিশে যেতে, কিন্তু আপনি অসহায়, কারণ আপনার পা দুটো আপনাকে কোনো সাহায্য করতেই পারছেনা।
🏘️কন্যাঘর 🏃