তানহা ইসলাম কনা

তানহা ইসলাম কনা ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕
𝙵𝚕𝚠 𝚔𝚘𝚛𝚎 𝚍𝚒𝚘 𝚜𝚘𝚋𝚊𝚒😇

 #রঙ্গবাহার #তানহা_ইসলাম_কনা পার্ট : ৬ লিভিং রুমের কথাবার্তা শুনে এলেসা একটু সিঁটিয়ে গেল। বাড়ির এই রাগ-ঝগড়া, চিৎকার আর স...
12/08/2026

#রঙ্গবাহার

#তানহা_ইসলাম_কনা

পার্ট : ৬

লিভিং রুমের কথাবার্তা শুনে এলেসা একটু সিঁটিয়ে গেল। বাড়ির এই রাগ-ঝগড়া, চিৎকার আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃশ্য তার একদম ভালো লাগে না। সে চুপিচুপি পিছিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।

চৌধুরী বাড়িতে এখন মাত্র দুজন মহিলাই আছেন — একজন তারা চৌধুরী (আশিক চৌধুরীর স্ত্রী), আরেকজন উমা চৌধুরী (হামিদ চৌধুরীর স্ত্রী এবং রিধিকা-হিমাংশুর মা)। আশিক চৌধুরী তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো। তাই সব সিদ্ধান্তের শেষ কথা তারই।

কিছুক্ষণ পর উমা চৌধুরী সবাইকে খাবার টেবিলে ডাকতে এলেন। কিন্তু এলেসা আর রিধিকা দুজনেই মাথা নেড়ে বলল, “আমরা খাব না মা/বড়ো আম্মু। ফুচকা খেয়ে পেট একদম ভর্তি।”

এলেসা নিজের রুমে ফিরে এসে আরামদায়ক একটা ঢিলা টি-শার্ট আর শর্টস পরে নিল। তারপর বিছানায় শুয়ে পড়ল। মাথার ভিতর অনেক চিন্তা ঘুরছিল।

কাল কলেজে যাবে নাকি?

এমনিতেই সে প্রতি সপ্তাহে মাত্র একদিন কলেজে যায়। বাকি দিনগুলো বাড়িতে থেকে ঘুমায়, ফুলের যত্ন নেয়, নাটক দেখে আর বই পড়ে। কালকে রিটস ভাইয়া আর আরশ ভাই দুজনই আসবে। বাড়িতে হয়তো অনেক হইচই হবে। সে কিছুক্ষণ ভেবে শেষমেশ ঠিক করল — কালকে যাবে না।

এলেসা উঠে বুকশেলফ থেকে তার প্রিয় উপন্যাসটা বের করল। বইয়ের নাম — রিদ মায়ার প্রেমগাথা।

সে বিছানায় শুয়ে বইয়ের পাতা ওলটাতে লাগল। কয়েক পাতা পড়ার পরই মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল,

“হায়্যয়… যতবার এই উপন্যাস পড়ি, ততবারই নেতা সাহেবের উপর উষ্টা খাইয়া প্রেমে পড়ি।”

নেতা সাহেবের চরিত্রটা তার খুব প্রিয়। রাগী, কঠিন, অথচ ভিতরে ভিতরে অসম্ভব ভালোবাসতে পারে। বই পড়তে পড়তে তার চোখ বন্ধ হয়ে এল। হাত থেকে বইটা খসে পড়ল বিছানায়। এলেসা ঘুমিয়ে পড়ল।

পরদিন সকাল, ৭টা।

এলেসার ঘুম ভাঙল সকাল সাতটায়। চোখ খুলে কিছুক্ষণ বিছানায় ডেব মেরে বসে রইল। চুলগুলো এলোমেলো, চোখে ঘুমের আলস্য। এটা তার প্রতিদিনের রুটিন। ঘুম ভাঙার পর অন্তত দশ-পনেরো মিনিট সে কিছু না করে শুধু বসে থাকে।

একটু পর উঠে ফ্রেশ হয়ে নিল। মুখে পানি দিয়ে, দাঁত ব্রাশ করে আবারও কিছুক্ষণ ডেব মেরে দাঁড়িয়ে রইল বাথরুমের সামনে। তারপর ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে লিভিং রুমে চলে এল।

সারা বাড়ি এখনো চুপচাপ। কেউ ওঠেনি। এলেসা সোফায় গিয়ে বসল। রিমোট অন করে টিভিতে টম অ্যান্ড জেরি চালিয়ে দিল।

কার্টুনের মজার দৃশ্য দেখে তার মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল। টম যখন জেরির পেছনে দৌড়াচ্ছে, তখন সে নিজের মনে হাসতে লাগল। কিন্তু মাথার এক কোণে সারাক্ষণ ঘুরছিল — আজ রিটস ভাইয়া আসবে। আর আরশ ভাইও।

দুজনের সাথেই তার সম্পর্ক জটিল। একজনকে ভয় করে, আরেকজনকে মনে মনে অপছন্দ করে।

সে জানে না, আজকের দিনটা তার জীবনের আরেকটা বড়ো মোড় ঘুরিয়ে দিতে চলেছে।

ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕
𐙚𝐅𝐛: তানহা ইসলাম কনাᥫ᭡

 #রঙ্গবাহার #তানহা_ইসলাম_কনা পার্ট : ৫ সাতটা নাগাদ ওরা তিনজন রয়েল ফুচকা সেন্টার থেকে ফিরল। অনেকক্ষণ ঘুরে, ফুচকা, চটপটি, ...
12/08/2026

#রঙ্গবাহার

#তানহা_ইসলাম_কনা

পার্ট : ৫

সাতটা নাগাদ ওরা তিনজন রয়েল ফুচকা সেন্টার থেকে ফিরল। অনেকক্ষণ ঘুরে, ফুচকা, চটপটি, দই ফুচকা খেয়ে পেট ভর্তি করে এসেছে। গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে এলেসা দৌড় দিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকল।

ভিতরে ঢুকতেই বড়ো আম্মু তারা চৌধুরীর গলা শুনতে পেল।

“...আজ রাতেই রিটস আসবে। ফ্লাইট ল্যান্ড করার কথা এগারোটার দিকে।”

এলেসার বুকের ভিতরটা লাফিয়ে উঠল। খুশিতে হাসি ফুটে উঠল প্রথমে, তারপরই একটা অজানা ভয়। রিটস ভাইয়া। অনেক রাগী, বদমেজাজি মানুষ। ছোটখাটো ভুলেও কঠিন শাস্তি দিতে পারেন। এলেসা ছোটবেলা থেকেই তার ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত।

তারা চৌধুরী এলেসাকে দেখে হাসিমুখে বললেন,

“এলেসা মা শোন, কালকে রিটসের সাথে তোর ভাই আরশও দেশে আসছে। শুনলাম কিছুক্ষণ আগেই ফ্লাইটে উঠেছে। তুই কিন্তু আরশের সাথে ভালো ব্যবহার করবি। রেগে কিছু বলবি না, ঠিক আছে?”

এলেসার মুখটা কালো হয়ে গেল। তবু মাথা নেড়ে বলল, “আচ্ছা বড়ো আম্মু। কিন্তু আরশ ভাই যদি আবার বকে…”

“কিছু বলবে না ও তোকে। এখন যা, গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়।” তারা চৌধুরী আদর করে বললেন।

এলেসা চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেল। দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়ল। মোবাইলটা হাতে নিয়ে চোখ বন্ধ করল। কিছুক্ষণ পর ইরার কল এল।

“কিরে শাকচুন্নি, কী করছিস?” ইরার চড়া গলা ভেসে এল।

এলেসা হেসে বলল, “শুয়ে আছি। তুই কী করছিস পেত্নী?”

“আমিও। আচ্ছা রিধিকা কইরে? এই শালির জন্য হিমাংশু ভাইয়ের সাথে ঝগড়া লেগেছে।”

এলেসা উঠে বসল, “কী হয়েছে? কী করছে আবার এই মেয়ে?”

ইরা উত্তেজিত হয়ে বলল, “তুই তো জানিস, হিমাংশু ভাই আমার খালাতো ভাই হওয়ার পরেও আমরা রিলেশনে আছি। রিধিকা এইটা ভুলে মানছে না। কে বলে দিয়েছে জানি না, গিয়ে আমার আম্মুকে বলে দিয়েছে। দেখ একটু পরেই না তোদের বাড়িতে কল যায়। তাড়াতাড়ি ছোট চাচুর কাছে যা!”

এলেসা ফোনটা কানে চেপে দৌড়ে লিভিং রুমে চলে এল।

সেখানে বেশ উত্তেজনা চলছে। আশিক চৌধুরী হামিদ চৌধুরীকে চুপ করানোর চেষ্টা করছেন, আর সফিক চৌধুরী হিমাংশুকে বোঝাচ্ছেন।

আশিক চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললেন, “আহ ছোট, এতো রেগে যাচ্ছিস কেন? খালাতো বোনের সাথে প্রেম করা কোনো পাপ তো আর না।”

হামিদ চৌধুরী রেগে বললেন, “পাপ না হোক, তাই বলে নিজের খালাতো বোনের সাথে প্রেম? তাও সাত বছরের ছোট বোনের সাথে! এই শিক্ষা দিয়েছি আমি একে!”

সফিক চৌধুরী হামিদকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “অনেক হয়েছে। এইবার চুপ করো হামিদ।”

আশিক চৌধুরী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলেন,

“কেউ আর কোনো কথা বলবে না। অনেক কথা হয়েছে। আমরা এক সপ্তাহের ভিতর ইরার মা-বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো। যদি ওনারা বিয়ে দিতে রাজি হন, তাহলে ঠিক আছে। নয়তো এই তোমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক সব শেষ।”

সফিক চৌধুরী মাথা নেড়ে বললেন, “ঠিক বলেছেন বড়ো ভাই।”

এলেসা দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে সব শুনল। তার মাথায় অনেক কিছু ঘুরছিল।

একই সময়, আকাশে।

বিজনেস ক্লাসের আরামদায়ক সিটে বসে রিটস আর আরশ গল্প করছিল। তারা চাচাতো ভাই, কিন্তু বেস্ট ফ্রেন্ডের চেয়েও কাছের। দশ বছর পর দুজন একসাথে দেশে ফিরছে।

রিটস জানালার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল, “কী রে, দেশে ফিরে কী করবি ভেবেছিস?”

আরশ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, “আগে তো বাড়ির অবস্থা দেখি। আর এলেসার সাথে… দেখা যাক।”

রিটসের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। এলেসার নাম শুনেই তার মনে সেই সকালের দৃশ্যটা ভেসে উঠল।

দুজনের মধ্যে নীরবতা নেমে এল। বাইরে অন্ধকার আকাশ, আর নিচে ঢাকা শহর ধীরে ধীরে কাছে আসছে।।

ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕
𐙚𝐅𝐛: তানহা ইসলাম কনাᥫ᭡

 #রঙ্গবাহার #তানহা_ইসলাম_কনা পার্ট : 4দুপুরের খাওয়ার পর এলেসা আর নিজেকে সামলাতে পারেনি। ছাদ থেকে নেমে এসে সে সোজা নিজের ...
12/08/2026

#রঙ্গবাহার

#তানহা_ইসলাম_কনা

পার্ট : 4

দুপুরের খাওয়ার পর এলেসা আর নিজেকে সামলাতে পারেনি। ছাদ থেকে নেমে এসে সে সোজা নিজের রুমে চলে যায়। এসি চালিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়তেই ঘুম চোখে নেমে আসে।

বিকেল ঠিক তিনটায় ঘুম ভাঙল। চোখ রগড়াতে রগড়াতে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিল। মুখে পানি দিয়ে, চুল আঁচড়ে একটা হালকা হলুদ টপ আর জিন্স পরে নিল। তারপর সোজা রিধিকার রুমের দিকে চলে গেল।

রিধিকা মাত্র কলেজ থেকে ফিরেছে। ব্যাগটা বিছানায় রেখে হাই তুলছিল। এলেসা চুপিচুপি পেছন থেকে গিয়ে জোরে ধাক্কা দিল।

“আআহ্! কিরে পাগলি! কী হইছে?” রিধিকা চমকে পেছনে তাকাল।

এলেসা মিষ্টি হেসে বলল, “ফুচকা খামু ”

রিধিকা চোখ পাকিয়ে বলল, “এই সময় তোর জন্য ফুচকা কে আনবে? আজব মেয়ে! যা তো, আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।” বলে সে ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।

রিধিকা চলে যাওয়ার সাথে সাথে এলেসা তার ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বের করে নিল। ইনস্টাগ্রাম খুলে নিজের প্রাইভেট আইডি ওপেন করল। ছবিগুলো দেখতে দেখতে মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল। আইডিটা প্রাইভেট, তাই শুধু ফ্রেন্ডরাই দেখতে পায়। তবুও নিজেকে দেখতে তার ভালো লাগে।

এমন সময় রিধিকা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখল এলেসা তার ফোন নিয়ে ব্যস্ত। সে তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে মোবাইলটা কেড়ে নিল।

“কী করছিস তুই?”

এলেসা নির্লজ্জ হেসে বলল, “নিজের আইডি দেখছি অন্য কাছে কেমন লাগে আমার আইডিটা দেখতে।”

রিধিকা বিরক্ত হয়ে বলল, “এইসব ফাজলামোই করতে থাক তুই । ফোন রাখ।”

এলেসা আবার আদুরে গলায় বলল, “ফুচকা খামুুু �”

ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।

“কে?” রিধিকা জিজ্ঞেস করল।

দরজা খুলে ঢুকলেন হিমাংশু—রিধিকার একমাত্র বড়ো ভাই। লম্বা, সুশ্রী, চোখে চশমা। চাচাতো ভাই হিসেবে এলেসারও খুব আদরের।

“কী করছিস তোরা?” হিমাংশু হেসে জিজ্ঞেস করলেন।

এলেসা তৎক্ষণাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে মিষ্টি করে বলল, “হিমাংশু ভাই, ফুচকা খাবো ”

হিমাংশু হেসে ফেললেন, “আচ্ছা, রাতে এনে দিবো।”

“না না! এখনই খাবো ফুচকা!” এলেসা জেদ ধরে বলল।

রিধিকা এবার সাহায্য করল, “ভাইয়া চলো না, ওই নতুন রেস্টুরেন্টে যাই। শুনেছি ওখানে নাকি অনেক ভালো ফুচকা পাওয়া যায়।”

হিমাংশু ভুরু তুলে বললেন, “রয়েল ফুচকা সেন্টার? ওইটা?”

“হে হে, ওইটাই! চলো না ওখানে যাই!” এলেসা উত্তেজিত হয়ে বলল।

হিমাংশু মাথা নেড়ে হাসলেন, “আচ্ছা বাবা আচ্ছা। তোরা রেডি হয়ে নে। আমি নিচে গিয়ে গাড়ির কাছে ওয়েট করছি ”

বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন।

রিধিকা এলেসার দিকে তাকিয়ে চোখ সরু করল, “তোর জন্য আমাদের আজকে বের হতে হচ্ছে।”

এলেসা তার গাল টিপে দিয়ে হেসে বলল, “আমাকে ভালোবাসিস না? চল, ফুচকা খেয়ে আসি।”

দুই বোন হাসতে হাসতে রেডি হতে লাগল। বাইরে সন্ধ্যা নামছে, কিন্তু এলেসার মনের ভিতরের অন্ধকারটা এখনো কাটেনি। তবুও এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাকে সাময়িকভাবে হালকা করে।

ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕
𐙚𝐅𝐛: তানহা ইসলাম কনাᥫ᭡

 #রঙ্গবাহার #তানহা_ইসলাম_কনা পার্ট : 3খাবার টেবিল থেকে উঠে এলেসা হাত ধুয়ে সোজা ছাদে চলে গেল। তার মনটা আজ সকাল থেকেই ভারী...
12/08/2026

#রঙ্গবাহার

#তানহা_ইসলাম_কনা

পার্ট : 3

খাবার টেবিল থেকে উঠে এলেসা হাত ধুয়ে সোজা ছাদে চলে গেল। তার মনটা আজ সকাল থেকেই ভারী। হয়তো ঘুম ভাঙার পর থেকেই একটা অস্থিরতা কাজ করছে।

ছাদটা তার খুব প্রিয় জায়গা। এখানে অনেকগুলো ফুলের চারা সাজানো। লাল-সাদা গোলাপ, সাদা লিলি, রঙিন জুঁই আর কয়েকটা অর্কিড। টিউলিপ এখনো নেই। বড়ো আব্বু আশিক চৌধুরী কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, “আমি তোর জন্য টিউলিপের বাল্ব আনিয়ে দিব। দেখিস, এই ছাদে তোর প্রিয় ফুলও ফুটবে।”

এলেসা প্লাস্টিকের ক্যানটা নিয়ে একে একে প্রতিটা গাছে পানি দিতে লাগল। নরম করে, যেন ফুলগুলোকে আদর করছে। গোলাপের একটা কুঁড়িতে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল। তার চোখে একটা দূরের দৃষ্টি।

সে কখনো তার মাকে দেখেনি।

জন্মের সময়ই মা চলে গিয়েছিলেন। বাবা এলেসাকে দেখতে পারতেন না বলে অনেকে বলাবলি করত। বাবা হয়তো ভালোবাসেন, কিন্তু কখনো প্রকাশ করেননি। এলেসা ছোটবেলা থেকেই শিখে গিয়েছিল—নিজের মনের কথা নিজেকেই বলতে হয়। তাই এই ফুলগুলো তার সঙ্গী।

পানি দিতে দিতে হঠাৎ তার মোবাইল বেজে উঠল।

অচেনা নাম্বার।

প্রথমবার বেজে কেটে গেল। আবার বাজল। এলেসা ভুরু কুঁচকে ফোনটা তুলল না। তৃতীয়বার বাজতেই সে বিরক্ত হয়ে কলটা ধরল।

“হ্যালো? কে বলছেন?”

ওপাশ থেকে গম্ভীর, পরিচিত একটা পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এল,

“আমি কি এলেসা চৌধুরীর সাথে কথা বলছি?”

এলেসা সামান্য থমকে গিয়ে বলল, “হুম। বাট আপনি কে? আপনাকে তো চিনলাম না।”

“আমি আরশ চৌধুরী।”

এলেসা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। হাতের পানির ক্যানটা নামিয়ে রাখল। গলায় একটা ঠান্ডা ভাব এসে গেল।

“কী চাই আপনার?”

“এইভাবে কথা বলছিস কেন? ভুলে গেছিস নাকি যে আমি তোর আপন বড়ো ভাই হই?” আরশের গলায় একটা অভিমান মেশানো রাগ।

এলেসা তিক্ত হেসে বলল, “না, ভুলি নাই। কী চাই তাই বলুন আপনি।”

“কিছু চাই না। শুধু এইটা বলতে কল করেছি যে, বাবাকে বলে দিস—আমি কালকে দেশে আসছি।”

এলেসার বুকের ভিতরটা জ্বলে উঠল। “কেন আসছেন দেশে? ভুলে গেছেন ১০ বছর আগে যে আপনি আমাদের সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে চলে গিয়েছিলেন?”

“কেন আসছি তার কৈফিয়ত আমি তোকে দিতে বাধ্য নই।”

এই বলেই আরশ কল কেটে দিল।

এলেসা ফোনটা ছাদের রেলিংয়ে জোরে মারল। “শালা, হারামজাদা! এখন আসতে চায়!” তার চোখে পানি চলে এসেছিল। দুই বছর আগ পর্যন্ত গোপনে তার সাথে কথা হতো। আরশ তখনো কিছুটা যত্ন দেখাত। তারপর হঠাৎ সব বন্ধ। আর আজ এভাবে ফোন!

সে চোখ মুছে বাকি গাছগুলোতে তাড়াতাড়ি পানি দিয়ে দিল। তারপর ছাদ থেকে নেমে সোজা নিজের রুমে চলে গেল। দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়ল।

মায়ের ছবিটা ড্রয়ার থেকে বের করে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। মা চলে যাওয়ার পর থেকে এই বাড়িতে সে কখনো পুরোপুরি “বাড়ি” অনুভব করেনি। বাবার নীরবতা, ভাইয়ের পরিত্যাগ—সবকিছু তার ভিতরে একটা শূন্যতা তৈরি করেছে।

শুধু ফুলগুলো আর এই ছাদটুকুই তার নিজস্ব জগৎ।

কিন্তু কাল আরশ আসছে। আর কয়েকদিন পর রিটস ভাইয়াও ফিরবে। এলেসা বুঝতে পারছিল না—এই বাড়িতে আবার কী নতুন ঝড় আসতে চলেছে।

ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕
𐙚𝐅𝐛: তানহা ইসলাম কনাᥫ᭡

 #রঙ্গবাহার #তানহা_ইসলাম_কনাপার্ট : 2 এলেসা আর ঘুমাতে পারল না। শরীরটা ভারী লাগছিল, কিন্তু পেটের ভিতর অস্বস্তি। অগত্যা বি...
12/08/2026

#রঙ্গবাহার
#তানহা_ইসলাম_কনা

পার্ট : 2

এলেসা আর ঘুমাতে পারল না। শরীরটা ভারী লাগছিল, কিন্তু পেটের ভিতর অস্বস্তি। অগত্যা বিছানা থেকে উঠে চুলগুলো এলোমেলো করে একটা ক্লিপ দিয়ে আটকে নিল। পরনে হালকা গোলাপি টি-শার্ট আর শর্টস। পায়ে স্লিপার টেনে টেনে সে দোতলা থেকে নিচে নামল।

লিভিং রুমের বিশাল সোফায় ধপ করে বসে পড়ল এলেসা। মাথাটা পেছনে হেলিয়ে চোখ বন্ধ করল। সকালের নরম রোদ জানালা দিয়ে এসে তার মুখে পড়ছে। ঝিমুনি আবার চেপে ধরল। একটা হালকা নিঃশ্বাস ফেলে সে আরাম করে বসে রইল।

হঠাৎ—

“বুয়াাাাাাা!!”

একটা তীক্ষ্ণ, চিৎকার করে উঠল দশ বছরের সাফা। পেছনে দাঁড়িয়ে ইরা হাসি চেপে রাখতে পারছে না।

“আআআহ্!”

এলেসা ভয়ে চিৎকার করে সোফা থেকে পড়ে গেল। তার হাত-পা জড়িয়ে গিয়ে কার্পেটের উপর ছড়িয়ে পড়ল। হৃদপিণ্ডটা যেন গলার কাছে উঠে এসেছে।

“ইরা! তুই আবার…” এলেসা উঠে বসে রেগে গর্জন করে উঠল। তার চুল এখন আরও এলোমেলো, চোখে ঘুম আর ভয় মিশে আছে।

ইরা সাফার পেছনে দাঁড়িয়ে ফিকফিক করে হাসছে। সাফা নির্দোষ মুখ করে বলল, “বড়ো আপু, আমি তো শুধু ভয় দেখিয়েছি।”

এলেসা উঠে দাঁড়িয়ে চোখ পাকিয়ে বলল, “আজ তোর বোন রিধিকা আসুক, ওর কাছে এমন বিচার দিব যে আর কখনো এমন করতে পারবি না! দুষ্টু মেয়ে!”

ইরা হাত নেড়ে বলল, “এ্য্য্য্য আইসে হুহ! আমি ভয় পাইনি বড়ো আপুকে। তুমি নিজেই তো ভীতু।”

এলেসা হতাশ হয়ে মাথায় হাত দিল। “ধুর যা তো! গিয়ে বড়ো আম্মুকে বল, আমাকে খাবার দিতে। খিদেয় পেট জ্বলে যাচ্ছে।”

ইরা চোখ ঘুরিয়ে বলল, “তুমি তো ঘুম থেকে উঠলেই মাএ খাবার চাও। ক্লাসও যাও না, সারাদিন ঘুমাও আর খাও।”

“তো কী হয়েছে? যা বললাম কর।” এলেসা সোফায় আবার বসে পা তুলে দিল।

“আচ্ছা যাচ্ছি।” ইরা সাফার হাত ধরে হাসতে হাসতে কিচেনের দিকে চলে গেল।

কিচেনে ব্যস্ত ছিলেন তারা চৌধুরী। পঞ্চাশের কাছাকাছি, এখনো সুন্দরী, চেহারায় একটা মার্জিত আভা। তিনি রান্নার লোকেদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন।

ইরা দৌড়ে এসে বলল, “বড়ো আম্মু, এসু আপু বলছে খাবার দিতে। উঠেই খিদে পেয়েছে।”

তারা চৌধুরী মৃদু হেসে মাথা নাড়লেন। “ঠিক আছে। টেবিলে খাবার সাজিয়ে দাও। এলেসাকে বল, টেবিলে এসে বসতে।”

ইরা “জি” বলে ফিরে গেল।

কয়েক মিনিট পর এলেসা টেবিলে এসে বসল। তারা চৌধুরী নিজে তার সামনে গরম ভাত, ডাল, মুরগির মাংস আর সালাদ সাজিয়ে দিলেন।

“খা মা। আজকেও কলেজ যাসনি?” তারা চৌধুরী স্নেহের সাথে জিজ্ঞেস করলেন।

এলেসা মাথা নিচু করে খেতে খেতে বলল, “শরীর ভালো লাগছিল না বড়ো আম্মু।”

তারা চৌধুরী কিছু বললেন না। শুধু মৃদু হাসলেন। কিন্তু তাঁর চোখে একটা চিন্তার ছায়া পড়ল। এলেসা বড় হয়ে যাচ্ছে। আর কয়েকদিন পর রিটসও দেশে ফিরবে। এই বাড়িতে নতুন কোনো ঝড় আসছে কি না, কে জানে।

এলেসা খেতে খেতে হঠাৎ একবার থেমে গেল। তার মনে পড়ল, সকালে সিঁড়িতে নামার সময় মনে হয়েছিল কেউ তাকে দেখছে। কিন্তু কে?

সে জানে না, ইতালিতে বসে রিটস এখনো তার সেই ছবিটা মাথা থেকে সরাতে পারছে না।

ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕
𐙚𝐅𝐛: তানহা ইসলাম কনাᥫ᭡

 #রঙ্গবাহার #তানহা_ইসলাম_কনা পার্ট : 1সকালের নরম সোনালি রোদ চৌধুরী বাড়ির বড় বড় জানালা দিয়ে ভিতরে এসে পড়েছে। বাড়িটা সত্যি...
12/08/2026

#রঙ্গবাহার

#তানহা_ইসলাম_কনা

পার্ট : 1

সকালের নরম সোনালি রোদ চৌধুরী বাড়ির বড় বড় জানালা দিয়ে ভিতরে এসে পড়েছে। বাড়িটা সত্যিই বিশাল। ঢাকার পুরনো অভিজাত এলাকায় অবস্থিত এই তিনতলা প্রাসাদের মতো বাড়ির চারপাশে আম-জামরুল-কাঁঠালের বাগান, সামনে বিশাল লন আর পেছনে ছোট্ট একটা পুকুর।

দোতলার শেষ প্রান্তের ঘরে, এয়ারকন্ডিশনারের ঠান্ডা হাওয়ায় এলেসা চৌধুরী গভীর ঘুমে মগ্ন। তার লম্বা কালো চুল বালিশের চারপাশে ছড়িয়ে আছে, গালে হালকা লাল আভা, ঠোঁট সামান্য ফাঁক হয়ে আছে। আঠারো বছরের এই তরুণীকে দেখলে মনে হয় যেন সকালের ফুলটি এখনো পুরোপুরি ফোটেনি।

“ওই এসু! উঠ না রে!”

রিধিকা দরজা ঠেলে ঢুকল। তার পরনে হালকা নীল সালোয়ার কামিজ, চুল ঘোড়ার লেজ করে বাঁধা। সে এলেসার চাচাতো বোন এবং কলেজের সঙ্গী। হাতে ফোন, অন্যদিকে ইরারা বারবার কল করছে।

“এসু উঠ! কলেজে দেরি হয়ে যাবে তো। ইরারা বারবার কল করছে, তাড়াতাড়ি যেতে বলছে। আজকের ক্লাস মিস করলে হিমাংশু ভাইয়া অনেক বকা দেবে। চল না!” রিধিকা বিছানার কাছে এসে এলেসার কাঁধ ঝাঁকাল।

এলেসা বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরে শুলো, চোখ না খুলেই বলল,

“ধুর যাইবো না আমি। সর বেডি… ঘুমাইতে দে আমারে।” তার গলায় ঘুমের আদুরে জড়তা।

রিধিকা হতাশ হয়ে মাথায় হাত দিল। “তুই আবার শুরু করলি! গতকালও মিস করছিস। আজকে কিন্তু সিরিয়াস ক্লাস আছে।”

“আমার শরীর ভালো লাগতেছে না। তুই যা।” এলেসা কম্বলটা মাথার উপর টেনে দিল।

রিধিকা আর পারল না। “ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি। বড়ো আব্বুকে বলে যাবো।” বলে সে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে গেল।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে রিধিকার পায়ের শব্দ মার্বেলের উপর প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। নিচের বিশাল ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে চা খাচ্ছিলেন আশিক চৌধুরী—এলেসা ও রিধিকার বড়ো চাচা। পঞ্চাশোর্ধ্ব, সুঠাম চেহারা, চোখে চশমা।

“আরে রিধিকা মা, এলেসা কই? আজও কলেজে যাবে না নাকি?” আশিক চৌধুরী চায়ের কাপ নামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।

রিধিকা কাঁধ ঝাঁকাল, “বড়ো আব্বু, এসু আজও উঠবে না। বলছে শরীর ভালো না। আমারও দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি এখন যাই।”

“আচ্ছা মা, সাবধানে যাও। ড্রাইভারকে বলে দিয়েছি।” আশিক চৌধুরী হাসিমুখে বললেন।

রিধিকা “আচ্ছা” বলে দ্রুত বেরিয়ে গেল।

ইতালি, একই সময়।

রোমের বাইরে একটা বিশাল ভিলায় বসে জেসবার্ন চৌধুরী রিটস তার মায়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিল। আটাশ বছরের এই যুবকের চেহারায় একটা পরিণত পুরুষালি আকর্ষণ। চওড়া কাঁধ, ধারালো চোয়াল, গভীর চোখ।

“উফফ মা, বলেছি তো আর মাত্র দুই দিনের মধ্যে আমি দেশে ফিরে আসবো। এতো চিন্তা করো না।” রিটস হেসে বলল।

তার মা তারা চৌধুরী অন্য প্রান্ত থেকে চোখ মুছলেন। “তোকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই রে। দশটা বছর হয়ে গেল। একবারের জন্যও দেশে আসলি না। আমার কি মন চায় না তোকে প্রাণ ভরে দেখতে?”

“আচ্ছা মা, আমি খুব শিগগিরই চলে আসছি। এতো চিন্তা করো না।” রিটস আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিল।

ঠিক তখনই তার চোখ গেল ভিডিওর পেছনের সিঁড়ির দিকে।

সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে এক যুবতী। লম্বা কালো চুল, সাদা টপ আর শর্টস পরা, চোখে ঘুমের আলস্য। এলেসা।

রিটসের নিঃশ্বাস আটকে গেল। দুই সেকেন্ড সে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। এলেসা এখন আর সেই ছোট্ট মেয়েটি নেই। শরীরে একটা নতুন পরিণতি এসেছে, চলার ভঙ্গিতে এক অজানা আকর্ষণ।

রিটস দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। তার বুকের ভিতর হৃদপিণ্ড ধুকপুক করে উঠল। গলা শুকিয়ে গেল।

“আচ্ছা মা, কলটা রাখি। আমি এখন অফিসে যাবো। বাই।”

বলেই সে কল কেটে দিল। ফোনটা টেবিলে রেখে চেয়ারে হেলান দিল। চোখ বন্ধ করে ফেলল।

“এলেসা…”

ফিসফিস করে নামটা উচ্চারণ করতেই তার শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল। দশ বছর পর সে প্রথম তার প্রিয় চাচাতো বোনকে দেখল। আর দেখামাত্রই বুঝতে পারল—এবার দেশে ফেরাটা আর সাধারণ কোনো ফেরা হবে না।

ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕
𐙚𝐅𝐛: তানহা ইসলাম কনাᥫ᭡

   𝐏𝐚𝐫𝐭:-𝟐𝟎এলেসা রুমে ফিরে ড্রেস চেঞ্জ করল। মেরুন গাউনটা খুলে একটা আরামদায়ক কালো শার্ট আর ঢিলেঢালা প্যান্ট পরে নিল। চুলগ...
12/08/2026




𝐏𝐚𝐫𝐭:-𝟐𝟎

এলেসা রুমে ফিরে ড্রেস চেঞ্জ করল। মেরুন গাউনটা খুলে একটা আরামদায়ক কালো শার্ট আর ঢিলেঢালা প্যান্ট পরে নিল। চুলগুলো খুলে দিল। নীল মুকুট আর নেকলেস টেবিলের উপর রাখল। তারপর সোফায় বসে একটা মোটা বই হাতে নিল। বইয়ের নাম গুপ্ত রাজ্য। ভ্যালুরিয়ার সকল রহস্য, লুকানো ইতিহাস, প্রাচীন শপথ আর হারিয়ে যাওয়া রাজ্যগুলোর কথা লেখা আছে এতে। পৃষ্ঠাগুলো হলুদাভ, অক্ষরগুলো সূক্ষ্ম। এলেসা এক পাতা এক পাতা করে উল্টাতে লাগল। তার অলিভ গ্রিন চোখ মনোযোগ দিয়ে পড়ছিল। বাইরের রাতের নীরবতা রুমের ভিতরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। শুধু পাতা ওল্টানোর শব্দ আর দূর থেকে কোনো পাখির ডাক মাঝে মাঝে ভেসে আসছিল।

সময় যেন থেমে গিয়েছিল। দেখতে দেখতে রাত একটা বেজে গেল। ভ্যালুরিয়ায় তাদের ঘুমের কোনো প্রয়োজন নেই। শরীর ক্লান্ত হয় না, চোখ ভারী হয় না। কিন্তু পৃথিবীতে অনেক বছর কাটানোর কারণে অভ্যাস হয়ে গেছে রাতে শান্ত হয়ে বসার। এলেসা বইয়ের মধ্যে ডুবে ছিল। প্রাচীন এক রাজবংশের পতনের কাহিনি পড়ছিল, যখন হঠাৎ তার মোবাইলটা বেজে উঠল।

স্ক্রিনে দেখা গেল — আননোন নাম্বার। এলেসা ভ্রু কুঁচকে তাকাল। ভ্যালুরিয়ার যেকোনো রাজ্যই পৃথিবীর চেয়ে অনেক আধুনিক। এখানকার নেটওয়ার্ক, ডিভাইস, সবকিছুই উন্নত। তবুও আননোন নাম্বার দেখে তার মনে সন্দেহ জাগল। সে কল পিক করল না। মোবাইলটা সোফায় রেখে আবার বইয়ে মন দিল। কিন্তু ফোনটা বারবার বাজতে লাগল। একবার, দুবার, তিনবার… বিরক্তি বাড়তে লাগল। শেষ পর্যন্ত সে মোবাইল তুলে কল পিক করল।

ওপাশ থেকে ভেসে এল এক রাগান্বিত কণ্ঠ।

“কই ছিলি তুই এতক্ষণ? কতগুলো কল দিয়েছি, চোখে পড়ে না?”

এলেসা চমকে গেল। কণ্ঠস্বরটা চিনতে তার এক সেকেন্ডও লাগল না। রিটস। সে মাথায় হাত দিয়ে মনে মনে বলল, “এ্যহহেহহহে… এই রিটসের জন্য নতুন সিম নিয়েছিলাম, ও এইটারও নাম্বার খুঁজে বের করেছে। আল্লাহ, আমাকে উঠায়ে নাও তোমার কাছে।”

সে গলায় যতটা সম্ভব শান্ত সুর এনে বলল, “কেন? কী হয়েছে? এতবার কল দেওয়ার কারণ কী?”

রিটসের কণ্ঠ এবার একটু নরম হলো। “পিছনের বাগানে আয়।”

এলেসা ভ্রু কুঁচকে বলল, “কেন? কী জন্য এখন আমি পিছনের বাগানে যাবো?”

হঠাৎ ওপাশ থেকে মিহিদের কণ্ঠ ভেসে এল। চেনা, জোরে, আর একটু রাগান্বিত।

“শালি, তুই তাড়াতাড়ি পিছনের বাগানে আয়! ঘুরতে যাবো থরি শিকার করতে যাবো। তাড়াতাড়ি আয়। নয়তো আমি যদি তোর কাছে যাই, তাহলে বেদম মার খাবি তুই। বলে দিলাম।”

এলেসা হেসে ফেলল। মিহিদের এই সুর শুনলেই তার রাগ উবে যায়। সে বলল, “দোস্ত, তুই ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন? আসতেছি, একটু ওয়েট কর।” বলেই কল কেটে দিল।

মোবাইলটা সোফায় রেখে সে উঠে দাঁড়াল। বইটা বন্ধ করে টেবিলে রাখল। জুতো পরল। চুলগুলো হালকা করে বেঁধে নিল। রুম থেকে বেরিয়ে করিডোর দিয়ে হেঁটে পিছনের দিকে গেল। প্রাসাদের ভিতরটা এখন নীরব। দাসীরাও কেউ নেই। শুধু মাঝে মাঝে দেওয়ালের টর্চের আলো কাঁপছে।

পিছনের দরজা খুলে সে বাগানে বেরোল। রাতের বাতাস ঠান্ডা আর সতেজ। ফুলের গন্ধ মিশে আছে। দূরে নদীর শব্দ ভেসে আসছে। চাঁদের আলোয় বাগানটা রূপকথার মতো লাগছে। এলেসা একটু দূরে গিয়ে দেখল — মিহিদ আর রিটস দাঁড়িয়ে আছে। মিহিদ হাতে একটা ছোট ব্যাগ নিয়েছে, রিটস চুপচাপ পাশে দাঁড়িয়ে।

মিহিদ তাকে দেখে হাসল। “আরে শেষমেশ এলি তো! আর একটু দেরি করলে আমি নিজে গিয়ে তোকে টেনে আনতাম।”

এলেসা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, “এত তাড়া কেন? রাত একটা বাজে। কোথায় যাবি?”

মিহিদ চোখ টিপে বলল, “শিকার করতে যাবো। অনেকদিন হয়নি। তোরও দরকার। পৃথিবীতে এতদিন বসে থেকে হাড় জমে গেছে নিশ্চয়ই।”

রিটস কিছু বলল না। শুধু এলেসার দিকে তাকিয়ে রইল। তার কালো চোখে আগের সেই নরম ছায়া এখনো আছে। এলেসা তার দিকে তাকাল, আবার মুখ ফিরিয়ে নিল। সন্ধায় রিটসের বলা কথাগুলো এখনো তার কানে বাজছে। কিন্তু এখন সে সেসব নিয়ে ভাবতে চায় না।

তিনজনে একসাথে বাগানের গভীরে হেঁটে চলল। গাছের ছায়া আর চাঁদের আলো একে অপরের সাথে মিশে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছে। এলেসার মনে হচ্ছিল, অনেকদিন পর আবার নিজের জগতের রাতের বাতাস নিচ্ছে সে। তার পায়ের নিচে ঘাস নরম। দূরে কোনো প্রাণীর ডাক শোনা যাচ্ছে।

মিহিদ সামনে সামনে হাঁটছিলো। রিটস পিছন থেকে হালকা গলায় বলল, “সাবধান থেকো। এখানকার জঙ্গল পৃথিবীর মতো নয়।”

এলেসা পিছনে তাকিয়ে বলল, “জানি। তুমি চুপচাপ হাঁটো।”

তিনজনে গভীর জঙ্গলের দিকে এগিয়ে চলল। রাতের অন্ধকারে তাদের ছায়া লম্বা হয়ে পড়ছিল। এলেসার বুকে একটা উত্তেজনা কাজ করছিল — শিকারের উত্তেজনা, আর রিটসের উপস্থিতির অদ্ভুত টান। সে জানে না আজ রাতটা কেমন কাটবে।

ওরা হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলে পৌঁছে গেল। প্রাসাদের পিছনের এই জঙ্গলটা ঘন, অন্ধকার আর রহস্যময়। গাছের ডালপালা একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে, মাটি নরম আর স্যাঁতসেঁতে। চাঁদের আলো মাঝে মাঝে পাতার ফাঁক দিয়ে ঝিলিক দিচ্ছে। মিহিদ এলেসাকে একটা তির-ধনুক দিয়ে দিল। ধনুকটা হালকা কিন্তু শক্তিশালী, তিরগুলো ধারালো আর জাদুময় আভাযুক্ত।

“লক্ষ্য চার থেকে ছয়টা হরিণ,” মিহিদ নিচু গলায় বলল। “বেশি নয়। শুধু প্রয়োজনমতো।”

তিনজনে জঙ্গলের গভীরে এগোতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা হরিণের পদশব্দ শোনা গেল। প্রাণীটা তাদের গন্ধ পেয়ে খুব জোরে পালাতে শুরু করল। মিহিদ আর রিটস এক নজরে একে অপরের দিকে তাকাল। তারপর তিনজনেই ডানা মেলে আকাশের দিকে উঠে গেল। গাছের উপর দিয়ে উড়তে উড়তে হরিণটাকে খুঁজতে লাগল।

এলেসা উপর থেকে একটা হরিণ দেখতে পেল। সে দ্রুত তির ছুড়ল। তিরটা সঠিক জায়গাতেই বিঁধল। হরিণটা নিচে পড়ে গেল। মিহিদ উপরে থেকে চিৎকার করে বলল, “তুই ওই হরিণটার কাছে যা। আমরা ওইদিক থেকে অন্য হরিণগুলো ধরে আনছি।”

এলেসা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। সে দ্রুত উড়ে জঙ্গলের ভিতরে নেমে গেল। উড়তে উড়তে হরিণের কাছে যাওয়ার সময় তার ডানা একটা মোটা গাছের ডালের সাথে লেগে গেল। তীব্র ব্যথায় সে ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেল।

“আহ…” সে উঠে বসতে গিয়েই থমকে গেল।

তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত প্রাণী। অর্ধেক ঘোড়া, অর্ধেক মানুষ। শরীরের নিচের অংশ ঘোড়ার মতো, উপরের অংশ মানুষের। চোখ দুটো লালচে, চুলগুলো এলোমেলো আর কালো। সে এলেসার দিকে তাকিয়ে আছে।

এলেসা উঠে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকাল। গলায় শক্ত সুর এনে বলল, “কী চাও? কে তুমি?”

মানুষরূপী ঘোড়াটি গম্ভীর গলায় বলল, “আমি লুসিফ। এই জঙ্গল আমার রাজ্য।এই জঙ্গলে পশু শিকার করা বারণ।”

এলেসা এমন কথা শুনে হেসে ফেলল। তার হাসিটা স্পষ্ট বিদ্রূপময়। লুসিফ ওকে এভাবে হাসতে দেখে আরও ক্ষেপে গেল।

“তোমার সাহস তো কম না,” লুসিফ রেগে বলল। “এই জঙ্গলের রাজার সামনে দাঁড়িয়ে তার কথার উপর হাসছো?”

কথা শেষ হতে না হতেই লুসিফ এলেসার দিকে আক্রমণ করতে গেল। কিন্তু এলেসা এক ঝটকায় তার পিছনে চলে গেল। সে হাসতে হাসতে বলল, “আমি ভ্যাম্পায়ার কুইন। আমাকে আঘাত করা এত সহজ না, লুসিফ। আর এই জঙ্গল আমার রাজ্যের, নাকি তোমার মতো একটা ঘোড়ার?”

বলেই এলেসা তার দিকে তির ছুড়ে মারল। লুসিফ দ্রুত সরে গেল। তিরটা গাছের গুঁড়িতে বিঁধল। লুসিফ তখন তার কোমর থেকে একটা ম্যাজিক হান্টিং বেল্ট বের করল। বেল্টটার মাথায় নীল রশি জ্বলছে, বিদ্যুতের মতো লাফাচ্ছে। সে সেটা এলেসার দিকে ছুড়তে শুরু করল।

এলেসা এক সেকেন্ডের মধ্যে একটা গাছের উপর উঠে বসল। তার এক হাতে নিজের হান্টিং বেল্ট এনে ফেলল। দুজনের বেল্ট বাতাসে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। নীল আলো আর বিদ্যুতের ঝলক জঙ্গলের অন্ধকারে ছড়িয়ে পড়ল।

লুসিফ রেগে গর্জন করে বলল, “তুমি কে? এই জঙ্গলে এসে আমার আদেশ অমান্য করছো?”

এলেসা গাছের ডালে বসে হাসল। “আমি মাহি এলেসা ইভলব। মেলিসা রাজ্যের রাজকন্যা। আর এই জঙ্গল আমার পরিবারের অধীনে। তুমি কে যে আমাকে আমার শিকার আটকাচ্ছো?”

লুসিফের চোখ আরও লাল হয়ে গেল। সে বেল্টটা আরও জোরে ছুড়ল। এলেসা দ্রুত সরে গিয়ে নিচে নেমে এল। দুজনের মধ্যে দূরত্ব কমে এল। জঙ্গলের পাতাগুলো তাদের লড়াইয়ের বাতাসে কেঁপে উঠল।

লুসিফ হঠাৎ থেমে গিয়ে বলল, “ইভলব…? তুই সেই মেলিসা রাজ্যের পবিত্র্য রক্তের মেয়ে?”

এলেসা তির এঁকে ধরে বলল, “হ্যাঁ। এখন বলো, তুমি এখানে কী করছো এই জঙ্গল এ শুধু নরমাল পশু থাকার অধিকার আছে নাকি কোনো আমাদের মতো অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক প্রানী?”

দুজনের চোখে চোখ পড়ল। জঙ্গলের রাত যেন আরও গভীর হয়ে গেল। লুসিফের মুখে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল। যে এগিয়ে আসতে আসতে বললো...

To be continued...

ᥫ᭡𝐓𝐭: 𝚗𝚊𝚍𝚒𝚢𝚊.𝚚𝚞𝚎𝚗𝚗𝟶𔓕

𐙚𝐅𝐛: তানহা ইসলাম কনাᥫ᭡

12/08/2026

যারা বলছিলা My dear Devil উপন্যাস ভয়েসে শুনতে চাও তাদের জন্য । যদিও ফাস্ট টাইম ভয়েস দিয়েছি বলে প্রথম পার্ট এর অর্ধেক দেওয়া হয়েছে বাট কালকে দুইটা পার্ট দেওয়ার চেষ্টা করবো সবাই YouTube channel টা subscribe করে রেখো 🙆🏻‍♀️

Address

Kapasiya
Gazipur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তানহা ইসলাম কনা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share