02/03/2026
🌿 নিভারোহ — ৩য় পর্ব
বিকেলের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছে।
রূপকথা, রাইমা আর মাহনূর তিনজন একসাথে হাঁটছে। দুজন সমবয়সী— রূপকথা আর রাইমা— ওড়না দিয়ে ভালো করে নিজেকে ঢেকে নিয়েছে।
মাহনূর দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল—
— “আপু, আজকে তোরা এত সাজুগুজু করছস ক্যান? কাহিনি আছে নাকি?”
রূপকথা মুচকি হেসে বলল—
— “চুপ কর, পাগলি!”
সাথে জেসমিন, গ্রামের টানে বলছে—
— “বড় আপারা, বেশি দূর যাইয়েন না কইলাম কিন্তু…”
হাসতে হাসতে তারা গ্রামের একটু নির্জন দিকে চলে আসে।
একটা বড় বটগাছের নিচে কয়েকজন ছেলে বসে আছে। সামনে তাস।
তাদের মধ্যে জুলহাস।
তারা প্রথমে চুপ করে তাকিয়ে রইল।
তারপর একে অন্যের কানে কিছু বলল।
চোখগুলো ধীরে ধীরে স্থির হয়ে গেল রূপকথার দিকে—
অস্বস্তিকর, হিসেবি, খারাপ এক দৃষ্টি।
রূপকথা থমকে গেল।
রাইমা তার কনুইয়ে চাপ দিল—
— “চল, অন্য দিক দিয়া যাই।”
কিন্তু ততক্ষণে জুলহাস দাঁড়িয়ে গেছে।
— “এই যে, কই যাস? এত তাড়া কিসের?”
মাহনূর ফিসফিস করে বলল—
— “আপু, আমার ভালো লাগতাছে না…”
জেসমিন এগিয়ে এসে বলল—
— “জুলহাস ভাই, পথ দ্যান। আমরা বাড়ি যামু।”
জুলহাস হেসে বলল—
— “পথ তো বন্ধ করি নাই। কথা কইলেই কি দোষ?”
তার বন্ধুদের মধ্যে একজন বলল—
— “এইডা তো জমিদার বাড়ির মাইয়া না? বেশ তো বড় হইছে!”
কথাটা শুনে রূপকথার বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
সে চোখ নিচু করে ফেলল।
জুলহাস এক পা এগিয়ে এসে ধীরে বলল—
— “ডরাইছো নাকি? আমরা তো কিছু করি নাই…”
তার চোখে এমন এক দৃষ্টি— যেন কথা নয়, অন্য কিছু বলছে।
রাইমা এবার দৃঢ় গলায় বলল—
— “চল রূপ, দেরি হইতাছে।”
জেসমিন কড়া স্বরে বলল—
— “ভাই, আর দাঁড়াইয়েন না। গ্রামের মানুষ দেখলে ভালো হইব না।”
জুলহাস একটু হেসে সরে দাঁড়াল, কিন্তু তার চোখ রূপকথার ওপরই রইল।
সেই দৃষ্টি যেন গায়ে বিঁধে থাকল।
তিনজন দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।
পেছন থেকে ভেসে এলো চাপা হাসি।
বাড়ি ফিরে রূপকথা চুপচাপ।
মা জাহানারা জিজ্ঞেস করলেন—
— “এত চুপ কেন রে?”
রূপকথা চোখ না তুলে বলল—
— “কিছু না মা…
জাহানারা বেগম কিছুটা সময় চুপ করে রুপথার দিকে তাকিয়ে রইলো
জাহানারা বললো_.....
জানিস রুপ তুই আমার কোল আাসার পর থেকে ওনেক ঝড় ঝাপটা পেরিয়েছি কখনো পিছুপা হয়নি,,,,,,,
~_রুপকথা তার মাথাটা জাহানারার গায়ে এলিয়ে দিল