21/09/2026
তুহিনের মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার ধারাবাহিকতা ছিল এমন:
শুক্রবার দুপুরে:
জুমার নামাজের পর তুহিন বাসায় আসে। বাসায় এসে খাবার খেয়ে আবার বাইরে বের হয়ে যায়।
মাগরিবের আগে:
সে আবার বাসায় ফিরে আসে। এরপর মাগরিবের নামাজের পর ভার্সিটি থেকে ঘুরতে বের হয়।
রাতে:
রাত সাড়ে ৯টার দিকে তুহিন আবার বাসায় ফিরে আসে। বাইরে থাকাকালে তার বাবা যেন দুশ্চিন্তা না করেন, সে জন্য তুহিন আমাকে ফোন করে বলে,
"আম্মু, টেনশন করো না, আমি কাজ সেরে দ্রুতই বাসায় আসছি।"
তুহিন বাসায় ফেরার পর আমরা স্বাভাবিকভাবেই গেটে তালা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
এরপর রাতের কোনো একসময়:
ডিবির লোকজন সিভিল পোশাকে আমাদের বাসায় আসে এবং তল্লাশি চালায়।
তল্লাশির একপর্যায়ে তুহিন যে ঘরে ঘুমায়, সেখান থেকে একটি কালো শপিং ব্যাগের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি আইফোন উদ্ধার করা হয়।
আমি আগে থেকে এই ফোনের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। ফোনটি আমি স্পর্শও করিনি। পুলিশ যখন ব্যাগটি দেখতে চায়, তখন আমি শুধু তাদের সহযোগিতা করি।
আইফোন উদ্ধারের পর:
তুহিন পুলিশের উপস্থিতিতে জানায়, মোবাইলটি সে তার ভাইয়ের কাছে রেখেছিল।
এরপর পুলিশ ফোনটির মেসেজ, কল হিস্ট্রি ও কন্টাক্ট লিস্ট পরীক্ষা করে দেখে, গত কয়েকদিনে এই ফোনের মাধ্যমে কার কার সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছিল।
তুহিনের বিষয়ে:
তুহিনের বয়স এখন ১৯ বছর। স্কুলে পড়ার সময় একবার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঝগড়ার পর সে পড়াশোনা ও পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করতে শুরু করে।
তুহিনের মায়ের বক্তব্য, আইফোনটি যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে, সেখানে আরও কোনো বিষয় বা অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে কি না, সেটিওনিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি বলেন,
"অন্য একটি পরিবার যেমন তাদের সন্তান হারিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, আমাদের পরিবারও একইভাবে কষ্টে বুক ভাসাচ্ছে। আমি কোনো সত্য আড়াল করছি না বা পালিয়ে যাচ্ছি না। আমার সন্তানের ভুল বা নির্দোষিতা, সবকিছুই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক।"
একজন সাধারণ মা হিসেবে প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে তার আকুল আবেদন,
এই ঘটনার যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না হয়। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হোক।
~ অপ্রীতম হ/ত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত তুহিনের মায়ের বক্তব্য