31/03/2026
আমার গার্লফ্রেন্ড আমার মেসেজ সিন করে না! কল দিলে ধরে না।
নুসরাতের এলাকায় গিয়ে ওকে রাস্তায় ধরলাম। আমার গার্লফ্রেন্ডের নাম নুসরাত।
আমি একটু রেগে বললাম, "কী হয়েছে বলো তো?"
নুসরাত অবাক হওয়ার ভান করে বলল, "কী হবে আবার!"
"তাহলে মেসেজের জবাব দাও না কেন?"
"তুমি মেসেজ দিয়েছ! মোবাইল দেখার সময়ই পাইনি!"
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, "কীসের এত ব্যস্ততা! তোমার তো মাস্টার্স শেষ।"
নুসরাত একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, "আগে পড়াশোনার জন্য বাড়ীর কাজ করা লাগত না। এখন সবকিছু আমাকে সামলাতে হয়। মেয়েদের কষ্ট তোমরা কোনদিন বোঝবা না!"
আমার খুব খারাপ লাগল! আহারে বেচারিকে কত কাজ করতে হয়
আমি ভুল বুঝে বসে আছি! আমি বললাম, "স্যরি বেবি! "
নুসরাত বলল," ঠিক আছে। মেয়ে হয়ে জন্মাইছি এ সব তো মানতে হবেই!"
নুসরাতের সাথে এখন খুব একটা যোগাযোগ হয় না! বেচারি আছে নানা ঝামেলার মধ্যে। মেয়ে মানুষের কত কাজ।
আমার বন্ধু সোহেল ফোন দিয়ে বলল, "নুসরাত কে দেখলাম একটা ছেলের সাথে শপিং করছে!"
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, "কী সব বলিস! গেছে হয়ত ওর ভাইয়ের সাথে। "
বন্ধু বলল," আমি নুসরাতের ভাইকে চিনি না?"
আমি কিছু বললাম না। আবার একদিন নুসরাতের এলাকায় গিয়ে ওকে ধরলাম।
নুসরাত কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, "বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে রায়হান!"
"তুমি এ কথা আমাকে জানাবা না?"
"কী করে জানাব? বাবা আমার মোবাইল নিয়ে গেছে! মেয়ে মানুষের কত জ্বালা তুমি বোঝবা না! আমি তোমাকেই ভালোবাসি রায়হান।"
সত্যিই তো মেয়ে মানুষের কত জ্বালা! নুসরাত তো আমাকেই ভালোবাসে। বিয়ের আগে ঠিকই পালিয়ে আসত আমার কাছে। আমি আবারও নুসরাতকে ভুল বোঝলাম!
"ঠিক আছে বেবি! তুমি কোন চিন্তা করো না আমি সব ব্যবস্থা করছি। তুমি বিয়ের দিন ঠিক হওয়ার সাথে সাথে আমাকে জানাবা।"
সোহেল কে ফোন দিয়ে বললাম," দোস্ত পোলাপান খবর দে।"
"কেন রে?"
"নুসরাতকে বিয়ের আসর থেকে তুলে নিয়ে আসব। "
সোহেল বলল, "শালা! নুসরাতের তো গতকাল রাতেই বিয়ে হয়ে গেছে! "
আমি নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে দেখলাম ও শশুর বাড়ি চলে গেছে!
কয়দিন পরে নুসরাত বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসল। আমি সুযোগ বুঝে ওকে ধরলাম।
"তুমি এমন করতে পারলা নুসরাত! তুমি বিয়ে করে ফেললা আমাকে জানালা না!"
নুসরাত কাদঁতে কাদঁতে বলল, "কী করে তোমাকে জানাব রায়হান। বাবা কী আমাকে কোন সুযোগ দিয়েছে! সব সময় পাহারা দিয়ে রেখেছে। তুমি বোঝবা না মেয়ে মানুষের কত যন্ত্রণা! ভালোবাসে একজনকে আর বিয়ে করতে হয় আরেকজনকে! আমি তোমাকেই ভালোবাসি রায়হান। তুমি চিন্তা করো না সুযোগ পেলেই তোমার কাছে চলে আসব তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমার কষ্টটা তুমি বুঝবা না! "
আসলেই মেয়ে মানুষের কত কষ্ট! নিজের অনিচ্ছায় বিয়ে করতে হয়!
বছর কাটতে লাগল। আমি নুসরাতের অপেক্ষায় বসে আছি। মা বিয়ের কথা বলে আমি রাজি হই না। নুসরাত হঠাৎ একদিন চলে আসবে। ও তো আমাকেই ভালোবাসে। আহা মেয়েদের জীবন কত কষ্টের!
সোহেল একদিন বলল, "তোর ইয়ের খবর জানিস?"
আমি একটু বিরক্ত হলাম।
সোহেল একটু বাঁকা হাসি দিয়ে বলল, "একবারে দুইটা একসাথে! "
"আমি নুসরাতের সাথে দেখা করতে গেলাম। নুসরাত কেঁদে কেটে বলল, তুমিও আমাকে বুঝলা না রায়হান! আমি কী ইচ্ছে করে বাচ্চা নিয়েছি! তোমরা ছেলেরা মেয়ে পেলেই তো ও সব শুরু করে দাও! মেয়েদের কষ্ট তোমরা বোঝ না! "
আসলেই মেয়েদের জীবনটা বড়ই কষ্টের! নিজের অনিচ্ছায় কত কী সহ্য করতে হয়!
নুসরাত বলল, তুমি চিন্তা করো না বাবু! বাবুরা একটু বড় হলেই আমি তোমার কাছে চলে আসব। এখন তো আমাকে ছাড়া বাঁচবে না। ওদের নিয়ে আসলে তোমার বাবা মা মানতে পারবে না! মেয়েদের যে কত জ্বালা তোমরা ছেলেরা বোঝবা না!
নুসরাত মারা গেছে গতবছর! আমার চুল পেঁকেছে! ঠিকমত হাঁটতে পারি না! বিয়ে আর করা হয়নি। নুসরাত কবে চলে আসবে অপেক্ষায় কেটে গেছে সময়। নুসরাতের কবর জিয়ারত করতে যাই মাঝেমধ্যে। নুসরাতের নাতনির সাথে দেখা হলেই বলে, নানী আপনার কথা সবসময় বলত! আপনাকেই ভালোবাসত! মেয়েদের জীবনটা বড়ই কষ্টের নানা! ও আপনারা ছেলেরা বুঝবেন না!
সত্যিই মেয়েদের জীবনটা বড়ই কষ্টের!