20/04/2026
“পিনন-হাদি: আমাদের অস্তিত্বের পরিচয়"
পোশাক-পরিচ্ছদ এমন এক পরিচয়, যা বাহ্যিকভাবে মানুষের পরিচয়কে উপস্থাপন করে। আমাদের পিনন-হাদিও তেমনি আমাদের নিজেদের এবং জাতিগত পরিচয়কে প্রকাশ করে। এই পরিচয়কে মুখে প্রকাশ করেতে হয় না।
চাকমা সমাজে নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সবারই পরিধেয় এই পোশাকটি। দূর পাহাড়ের চূড়ায়, জুমে কাজ করা আমাদের নারীরা যেমন পিনন-হাদি পরিধানে স্বচ্ছন্দ, তেমনি দূর প্রবাসে নিজের গ্রেজ্যুয়েশনে আমাদের বোনেরা পিনন-হাদি পরিধান করেই নিজের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তটি উদযাপন করেন।
জীবন আর জীবিকার তাগিদে আমাদের কিছু অংশ আজ ভিনদেশে অবস্থান করছেন। আমাদের ভিনদেশী স্বজনদের নতুন প্রজন্মরা বেড়ে উঠছেন প্রবাসে, যেখানে জীবন বাস্তবতায় হয়ত নিজেদের ভাষাও ফিকে হয়ে এসেছে। কিন্তু সেখানেও আমাদের পিনন ও হাদি তাদের পরিচয় আর অস্তিত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ পিনন-হাদি শুধু সংস্কৃতি নয়, এটি উত্তরাধিকারের কাছে প্রদানকৃত আমাদের আত্মপরিচয়।
একজন প্রবীণ চাকমা নারী, ভারত-নেপালে তীর্থ ভ্রমনে গিয়ে সঙ্গীবিচ্যুত হন। সেখানকার ভাষা তাঁর জানা ছিল না, যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্ত একটা সময় পরেও অনেক ভিড়ের মাঝ থেকেও তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছিল। কারণ তিনি নিজের পরিচিতিকে ধারণ করেছিলেন পরিচ্ছদে, পিনন-হাদিই তাঁকে চিনিয়ে দিয়েছিল।তাই এটি একটি গভীর পরিচয়ের মাধ্যম।
পিনন-হাদি আমাদের কাছে সেই শক্তি, যেখানে ভাষার ব্যবহার রুদ্ধ হলেও ঐতিহ্য নিজেই কথা বলে।
অতীত থেকে বর্তমান, বর্তমান থেকে আগামী প্রজন্ম—এভাবেই পিনন ও হাদি আমাদের গল্প বয়ে নিয়ে চলেছে অবিরাম। যখন আমাদের অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখনো এই পিনন-হাদি হয়ে উঠে আমাদের নিরব প্রতিবাদ। স্মরণ করে দেখুন—২০১০ সালে সাজেক যাওয়ার রাস্তায় উজো বাজারে বুদ্ধপুদি চাকমার আত্মত্যাগ।
তাই, পিনন ও হাদি শুধু আমাদের পরিধেয় নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের পরিচয়।
একটি সুতো, একটি পরিচয়।