08/08/2026
“আমি আমার শ*ত্রু*কেও বলব না বাংলাদেশ থেকে পায়ে হেঁটে হজে যেতে…” — আলিফ ভাই
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় পৌঁছাতে প্রায় ৪,৫০০–৫,৫০০ কিলোমিটার (রুটভেদে আরও বেশি) পথ অতিক্রম করতে হয়। এই দীর্ঘ যাত্রায় পার হতে হয় একের পর এক দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত হয়ে সৌদি আরব।
আলিফ ভাই, যিনি বাংলাদেশ থেকে পায়ে হেঁটে হজ সম্পন্ন করেছেন, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন—
“আমি কাউকে পায়ে হেঁটে হজে যাওয়ার পরামর্শ দেব না। আমি আমার শ*ত্রু*কেও বলব না এই পথে যেতে।”
কারণ এই পথ মোটেও স*হজ নয়। কোথাও শত শত কিলোমিটার জনমানবহীন মরুভূমি, কোথাও তীব্র শীত ও পাহাড়ি অঞ্চল, কোথাও আবার দীর্ঘ নির্জন সড়ক। কিছু অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁ*কিও থাকতে পারে। প্রচণ্ড গরম, পানির সংকট, ক্লান্তি, অ*সুস্থতা, ভাষাগত সমস্যা, সীমান্ত পারাপারের জটি*লতা এবং দীর্ঘ পথের মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে এটি জীবন-ম*রণের মতো কঠিন এক পরীক্ষা।
আলিফ ভাই আরও বলেন, শুধুমাত্র পকেটে অল্প টাকা বা মানুষের সহযোগিতার ভরসায় পুরো পথ পায়ে হেঁটে শেষ করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে কিছু পথ যানবাহনে অতিক্রম করাও প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহর রহমত ও হেফাজত না থাকলে তাঁর পক্ষে এই যাত্রা সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।
পায়ে হেঁটে হজে যাওয়ার ইচ্ছা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতাও জানা জরুরি। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, বৈধ কাগজপত্র, ভিসা, আর্থিক সক্ষমতা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিয়ম সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ সকল হজযাত্রীর সফর সহজ করুন, নিরাপদ রাখুন এবং কবুল করুন। আমীন।