05/04/2018
নন টেক টপিক(Topic)!!অত্র গ্রুপের
সন্মানিত মেধাবি মেস্বারদের উদ্দেশ্যে
আজকে একটু ব্যতিক্রমী পোষ্ট করছি কারো
কাছে যদি অফ টপিক(Topic) মনে হয় তবে
ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।আজকে ডিপ্লোমা
প্রকৌশলীদের দুটি অতি প্রয়োজনীয় ডেক্স
ওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা করবো।
# উসপ্র মানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
একজন সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত উপ সহকারী
প্রকৌশলীর কাজ কি?আমরা কম বেশী
জানি সম্ভবত, তবুও অজানাদের জানার জন্য
বলছি একজন উসপ্র কে ২ ধরনের কাজ করতে
হয় ১)ফিল্ডে সুপারভিশন ২)ডেস্কে এষ্টিম্যট
ও বিল প্রস্তুত।যদি বলেন এষ্টিম্যটের জন্য
এষ্ট্যিম্যটর আছে তবে ধারনটা ভুল সময়ের
প্রয়োজনে সবি করতে হবে।আমি স্বনামধন্য
একটি ডেভোলোপার কোম্পানীতে একদিন
কংক্রিট উঠাতে হোয়েষ্ট মেশীন
চালিয়েছি কোম্পানিতো বলেনি চালাতে
চালিয়েছি কারন আমার মেশীন অপারেটর
কাজের মাঝেই গুরুতর অসুস্থ্য হয়েছে এখন
তৈরীকৃত ঢালাইতো বন্ধ রাখা যাবেনা
তাই।সময়ের প্রয়োজনে উসপ্র কে ষ্টোর
কিপার,এসও,কম্পিউটার অপারেটর সবি হতে
হবে তাইতো প্রকৃত কাজ জানা লোকদের
কদর থাকবে সমাদৃত।
# এষ্টিম্যট করতে হলে কি করনীয়?
সর্বপ্রথম জানতে হবে কোন নির্মান
কাজের জন্য কি কি আইটেম লাগবে?কি কি
কাজ করতে হবে? সে মত ড্রয়িং দেখে
এষ্টিম্যট করতে হয়।সরকারি প্রত্যেক
সংস্থ্যায়ই কাজের নাম, বর্ননা,একক,মুল্য
সম্বলিত একটা বই থাকে যার ইংরেজি নাম
"সিডিউল বুক" বাংলায় তরজমা করলে
দাড়ায় "তফসীল বই"।কয়েক বছর পর পর
বাজার মুল্য সমন্বয় করতে প্রয়োজন হলে নতুন
বই প্রকাশ করে অথবা প্রয়োজন মত
আইটেমের রেট এনালাইসিস করে যথাযথ
কতৃপক্ষের অনুমোদন করে নিয়ে থাকে
যাদের নিজস্ব সিডিউল বই থাকেনা তারা
পুর্তকর্ম বিশারদ সংস্থ্যা পিডব্লিউডির
সিডিউল ফলো করে সিডিউল বানায়
সিডিউল বইতে আইটেম থাকে হাজার
হাজার।কাজের বিভিন্ন শ্রেনী অনুযায়ী
সিডিউল বইতে পার্ট থাকে ধর সিভিল
ওয়ার্ক,ইলেকট্রিক্যল,স্যনিটারী,
উড,ইত্যাদি তো তুমি যদি ইলেকট্রিক্যল
আইটেম সিভিলের মধ্যে খুজ তবে তো
কোনদিনই খুজে পাবে না তাই তোমাকে
প্রথমে সিডিউল বইটা পড়ে ধারনা নিতে
হবে কোন আইটেম সিডিউলের কোন অংশে
থাকবে।এবার কম্পিউটারের সামনে বসে
টাইপ শুরু কর এষ্টিমেট আর সিডিউল কিন্তু
এক নয়
#এষ্টিম্যট হল কাজের পরিমাপ,পরিমান,ড
িটেলস লিখে একক,দর,মোট দর এভাবে সব
গুলো আইটেমের হিসেব পাকা ভাবে
লিপিবদ্ধ করা থাকে যা পরবর্তীতে প ও ন
সার্কেল (পরিকল্পনা ও নক্সা
সার্কেল)কতৃক পরীক্ষা করে ফাইনাল করে
এরপর সিডিউল বানায় এরি আলোকে আর এর
মাধ্যমেই কাজের মোট মুল্য জানতে
পারবে।এষ্ট্যিমেট করার সময় আইটেম
লিখার সময় সিডিউল বইয়েরর পৃষ্ঠা
নাম্বার ও সিরিয়াল নাম্বার উল্লেখ করতে
হয়।
# সিডিউল হল কাজের তফসীল।ঠিকাদার
নিয়োজিত করার লক্ষে টেন্ডার বা দরপত্র
অাহব্বানের জন্য এষ্টিম্যটে যে আইটেম
গুলো থাকবে শুধু সেগুলো কাজের বর্ননায়
লিখে কাজের পরিমান একক আর দরের
স্থান ফাকা রেখে কাজের বিভিন্ন
শর্ত,নিয়মাবলী,শাস্তি ইত্যাদি উল্লেখ
করে একটি বই তৈরী করা হয় তাই সিডিউল।
আর এটা ঠিকাদার কে কিনতে হবে আর
এটার দাম অফেরত যোগ্য।
তাই ডেস্ক ওয়ার্ক এর জন্য সিডিউল বইটা
বারংবার পড়বে
২) # MB : Measurement Book বাংলায় হল
পরিমাপ বই।কত সহজ ভাবে লিখে ফেললাম
শব্দটা। একজন উসপ্র এই বইয়ের মাধ্যমেই
সরকারের ফাইনেনসিয়াল
রেসপন্সিবিলিটিতে বাধা পড়ে যায় আর
এই বইয়ের মাধ্যমেই ৮০% দ্বায় বহন করতে
হবে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে।এরি
মাধ্যমে একজন ঠিকাদার কোটি কোটি
টাকার বিল পাবে।তাই এই পরিমাপ বই এত
গুরুত্বপুর্ণ। রিটারমেন্ট এ গেলেও নিস্তার
নেই ১০ বছর পর্যন্ত দায়ভার থাকবে যে
কোন সময় যেকোন কাজের তদন্ত হতে পারে
আর তদন্তের প্রধান আলামত হবে এই
পরিমাপ বই তাই এই বইয়ে হিসাব লিপিবদ্ধ
করার সময় খুবই সতর্ক থাকতে হবে কোন
কাটাছেড়া, ঘষামাজা বিকৃত যাতে নাহয়
খেয়াল রাখতে হবে যদি ভুল হয়ে তবে
কোনক্রমেই সাদা কালি বা ফ্লুয়েড মারা
যাবেনা একটানে কেটে দিয়ে ইনেশিয়াল
সাইন করতে হবে।এই বই হারিয়ে গেলে
জিডি করতে হবে।প্রত্যেক সরকারী
সংস্থ্যায় ই তাদের নিজস্ব পরিমাপ বই
আছে।এটা সহজে বহনযোগ্য সাইজ ৫"*৮"
থেকে ৬"*১০" পর্যন্ত হতে পারে।
লিখার নিয়ম।এখানেও দুটি বই থাকে
১)পাকা বই যেটা এমবি ২)ফিল্ড বুক
(রেফারেন্স বই)।ফিল্ড বুকে বিভিন্ন
কাজের দৈনন্দিন পরিমাপ সমুহ লিপিবদ্ধ
করে সংশ্লিষ্ট কাজের ওয়ার্ক
এসিষ্ট্যন্ট,ঠিকাদার বা তার প্রতিনিধি
এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সন্মিলিত
স্বাক্ষর করতে হয় কাজের শুরুতেই ফিল্ড
বুকটি উর্ধতন প্রকৌশলীর মাধ্যমে উক্ত
কাজের জন্য ব্যবহার মর্মে সার্টিফাই করে
নিতে হয় পৃষ্ঠাংকন উল্লেখ করে।তারপর
সম্পুর্ন কাজ সমাপ্ত হলে ফাইনাল বিল
অথবা ক্ষেত্র বিশেষে রানিং বা চলতি
বিল MB বা পরিমাপ বইতে ফিল্ড বুকের
রেফারেন্সে লিপিবদ্ধ করতে হয় # সর্ব
প্রথমে এমবিতে কাজের নাম,অবস্থ্যান,ঠ
িকাদারের নাম,নোটিফিকেশন এওয়ার্ড
রেফারেন্স সহ তারিখ,এগ্রিমেন্টের
তারিখ,কাজ শুরুর তারিখ,কাজ সমাপ্তির
তারিখ,এবং পরিমাপের তারিখ এই
ডাটাগুলো ধারাবাহিক ভাবে লিখতে হয়
এর পর নীচ থেকে কৃত কাজের সিডিউল
মাফিক বর্ননা ও বাস্তব পরিমাপ(ফিল্ড বুক
অনুযায়ী),দাখিলকৃত দর মোতাবেক টাকা
মোট কাজের পরিমান অনুযায়ী মোট টাকা
এভাবেই শেষে টোটাল টেনে যদি লেস,
এবাব থাকে তা যোগ বিয়োগ করে অবশিষ্ট
টাকা থেকে সিকিউরিটি মানি বিয়োগ
করে যার পরিমান শর্তস্বাপেক্ষে ৫% বা
১০% (ঠিকাদারকে ফেরত যোগ্য জামানত)
রেখে অবশিষ্ট টাকা প্রদানের জন্য
সুপারিশ করা হয় যা এজি থেকে সরকার
নির্ধারিত ভ্যট,টেক্স বিবিধ কর্তন করে
বাকী টাকা চেকের মাধ্যমে ঠিকাদার কে
পরিশোধ করা হয় এবং জামানতের টাকা
যা বিল থেকে কর্তন করেছিল ৫% বা ১০%
তা ৩ বা ৬ মাস পরে কাজের কোন ত্রুটি না
থাকলে কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর
সম্মতি স্বাপেক্ষে ঠিকাদারকে পরিশোধ
করা হয় ।একটি MB তে অনেক নামের
কাজের হিসাব থাকতে পারে কিন্তু ফিল্ড
বুকে কাজ প্রতি একটা ইসু করা হয়। সবাইকে
ধন্যবাদ।মোবাইলে টাইপিং তাই ভুল
থাকতে পারে।পোষ্ট বড় হয়ে গেল সরি কি
করবো লিখার সময় হুশ থাকেনা শুধু আসতে
থাকে আর অামি লিখতে থাকি।ওমরকে
ধন্যবাদ তার জন্যই আজকের পোষ্ট। # সদ্য
নিয়োগ প্রাপ্ত ও সুপারিশ প্রাপ্তদের জন্য
পোষ্ট টি উৎসর্গ করলাম।
to past