28/08/2026
একজন নারী বিয়ের আগে স্বামীকে শর্ত দেন— আমাকে বিয়ে করলে কিন্তু আর দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না!
এটা এখনকার যুগের কথা না। এখন তো ১% ও দ্বিতীয় বিয়ে করে না৷
বলছি, সেই সময়ের কথা, যখন একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকাটা ছিলো স্বাভাবিক। প্রায় ৯৯% পুরুষ একাধিক বিয়ে করতেন।
সেই যুগের একজন নারী বিয়ের আগে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার এই শর্ত নিয়ে ফিক্বহের কিতাবে অনেক লেখালেখি হয় যে, এরকম শর্ত দেয়াও জায়েজ।
সুকাইনা বিনতে হুসাইন রাহিমাহাল্লাহ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতি হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে। তিনি ছিলেন তৎকালীন যুগের সবচেয়ে সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, উচ্চবংশীয় নারী।
অনেকেই তাঁকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। এমনকি একজন তাবেয়ী কা'বাঘরে গিয়ে দুআও করেন।
সুকাইনা বিনতে হুসাইন রাহিমাহাল্লাহকে বিয়ে করতে চান উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাতি যায়িদ ইবনে উমর ইবনে উসমান রাহিমাহুল্লাহ।
যায়িদ ছিলেন অনেক সম্পদশালী। একইসাথে তিনি কৃপণতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
সুকাইনা রাহিমাহাল্লাহ যায়িদকে বিয়ের সময় তিনটি শর্ত দেন।
১. আমাকে বিয়ে করাবস্থায় তুমি আর কাউকে বিয়ে করতে পারবে না, কোনো দাসীর সংস্পর্শে যেতে পারবে না।
২. আমাকে ইচ্ছেমতো তোমার সম্পদ ব্যবহার করতে দিবে।
৩. আমাকে চলাফেরার স্বাধীনতা দিবে, বাধা দিতে পারবে না।
মজার ব্যাপার হলো, যায়িদ ইবনে উমর সবগুলো শর্ত মেনে নেন। তিনি সুকাইনাকে বিয়ে করেন।
সুকাইনা ছিলেন অনেক দানশীল। এজন্য আগে থেকে শর্ত দিয়ে দেন।
একবার যায়িদ ইবনে উমর একটি সফরে যান।
সুকাইনা একজন দাসকে পাঠান স্বামীর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে। তিনি দাসকে বলে দেন, "আমার স্বামী যদি কোনো দাসীর সংস্পর্শে যায়, আমাকে এসে জানাবে।"
সেই সফরে যায়িদ ইবনে উমর দাসীর সংস্পর্শে যান, সফর শেষে আসার পর সেটা ফাঁস হয়ে যায়।
সুকাইনা যখন জানতে পারেন তার স্বামী বিয়ের সময়ের কন্ট্রাক্ট লঙ্ঘন করেছেন, তখন তিনি স্বামীকে নিয়ে আদালতে যান। বিচারকের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
সেইসময়ের অন্যতম ধনী ব্যক্তিকে সুকাইনা রাহিমাহাল্লাহ বিচারকের রায়ে তালাক আদায় করেন। তার ব্যক্তিত্ব এতো স্ট্রং ছিলো, স্বামী যখন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হন, তাকে ছাড় দেননি।
তথ্যসূত্র:
আবুল ফারাজ ইসফাহানী, কিতাবুল আগানী: ১৬/ ১৩৫-১৪০, ইবনে কাল্লিখান, ওয়াফাতুল আইয়ান: ২/৩৯৩-৩৯৭, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৫/২১৩,২৬২,২৬৩।
—আরিফুল ইসলাম