22/06/2026
এই মেয়ে বাকি দুইজনকে নিয়ে আমার সাথে যে ধরনের আচরন করেছে তা আর কোনো ওনারের সাথে তার স্টাফরা করে কি না আমার জানা নেই।
আমার কোনো কর্পোরেট অফিস না,একটা দোকান সেটা তারা দেখেই জবে জয়েন করতেসে। আমি দোকান না দেখায়ে, কখনো কোনো মেয়েকে জবের জন্য কনফার্ম করতামনা। কোথায় কাজ করতে হবে সেটা সরাসরি এসে দেখুক তারপর জয়েন করুক আমি সেটাই চাই সবসময়।
যখন আসে তখন তাদের একটা জবই দরকার আর কিছু না।
১০০০০-১১০০০ টাকাও তাদের কাছে অনেক হয়ে যায় তখন৷ এ মাসে জয়েন করে, পরের মাস থেকেই তাদের পুরো আচার আচরন পরিবর্তন হয়ে যায়।তখন শুরু হয় বেতন কম, অথচ কিছু দিন আগেও জবলেস ছিলো৷ তখন শুরু হয় আমি টেবিল চেয়ারে বসি তাদের জন্য কেনো এমন ব্যবস্থা করিনা। তাদের কেনো টুলে বসতে হয়৷ ফ্লোরে বসে কাজ করতে হয়। অথচ আমিও তাদের সাথেই ফ্লোরে বসতেছি, আমারতো সম্মান কমে যাচ্ছেনা৷ পেইজে কাজের জন্য যাকে রাখি তার লেখালেখির কাজ আছে তাই তার জন্যতো বসার ব্যবস্থা রাখি কিন্তু সেলসে+ প্যাকেজিং এই কাজ যারা করবে তাদেরকে কি টেবিল এনে দিবো বসার জন্য???
দোকানে যারা সেলসে কাজ করে তাদের জন্য টেবিল+চেয়ারে বসার ব্যবস্থা কোনকোন জায়গায় থাকে???
আমিতো কোনো পশ প্রডাক্টের বিজনেস করিনা, আমার কাজ এক্সেসোরিজ আইটেম নিয়ে৷
তাদেরকে বলেই রাখি রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত ডিউটি,কাজের উপর নির্ভর করে। অনলাইন অর্ডার না থাকলে, শেষের দিকে দোকানে কাস্টমার না থাকলে কখনোই ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখতাম না।
কুরিয়ার থেকে রাইডার এসে পার্সেল পিক করার পরে যদি অর্ডার হতো তখন আর তাদের মুখের দিকে তাকানো যেতোনা৷ পার্সেলতো পিক করেই ফেলসে তাহলে এখন আবার কেনো অর্ডার নিতে হবে বিল তৈরি করতে হবে, অর্ডারের প্রডাক্ট মিলাতে হবে।
যেদিন পার্সেল রেডি করার জন্য বা দোকানে কাস্টমার থাকার কারনে ৯টা বেজে যেতো বন্ধ করতে সেদিন পুরোপুরি ঝগড়া শুরু করে দিতো ওদের যেতে দেরি হচ্ছে।
আর যেদিন ৮টার আগেই সব কাজ শেষ হয়ে যেতো, কাস্টমারও থাকতোনা শেষের দিকে সেদিন আর তারা ৮টায় উঠতোনা যাবার জন্য তারা দিতোনা।সেদিন আমাকে বলতে হইতো শাটার নামাও ৮টা বাজে বন্ধ করবো। তখনও বসেবসে মোবাইলই চাপতো। এটা কেমন ফাজলামো?
কাজ না থাকলে সেদিন যাবার তারা নেই ৮টা বেজে গেলেও৷ আর যেদিন কাজ থাকে সেদিন যাবার জন্য তাড়াহুড়া।
দুপুরের খাবার নিয়েও এমন করতো।দুপুর শেষ হলেও কেউ লাঞ্চ করতোনা। বিকালের দিকে অনলাইন অর্ডারও বেশি আসতে শুরু করে আর দোকানেও কাস্টমার থাকতো। তখন অভিযোগ করতো আমার দোকানে চাকরি নিয়ে ওরা দুপুরের খাবারটাও সময় মত খেতে পারেনা৷ তখন আমি বলে দিলাম তোমরা ২টা-২:৩০ টা এর মধ্যে লাঞ্চ সেরে ফেলবা। বিকাল হলে কাজের চাপ বাড়ে সেটাতো দেখোই৷ সেটাতেতো সমস্যা আরো বেশি হলো, আমি কি ওদের মাথা কিনে নিসি না কি চাকরি দিয়ে?? দুপুরের খাবার কখন খাবে সেটাও আমি ঠিক করে দিবো???
এখন বলেন শুনি, দুপুরের খাবারের একটা নির্দিষ্ট টাইম করে দেয়া কি অন্যায় কিছু? আমার দোকানে আমি কি এই সময় নির্ধারনের রাইট রাখিনা??
ওদেরকে স্নেহ আমি কম করিনি কিন্তু কখনো ওদের মন জয় করতে পারিনি।ওদের জিজ্ঞাসা করে গিয়ে,ওদের পছন্দের খাবার এনেও ওদের খুশি করতে পারিনি৷এমন কোনো অকেশন নাই যেটাতে ওদের জন্য বাইরের খাবারের ব্যবস্থা করিনি৷ সাথে করে রেস্টুরেন্টে নিয়েও খাওয়াইসি৷
রাতে যেতে দেরি হইলে অনেক দিনই রিকসা ভাড়ার টাকা দিসি৷ মালপত্র আনলে ওরা উঠাতো সেটার জন্যও আলাদা টাকা দিতাম। আর ওই চোরকেতো আমার জুতা, জামাও দিসি।
প্রতি মাসেই ছুটি আছেই৷ ফ্যামিলি ইস্যুজ প্রতি মাসে থাকবেই সবার। ছুটি দিতে না চাইলে বলে বেতন কেটে দিয়েন। একজনে স্টাফের বেতন কেটে দেয়া কি ওনারের জন্য কোনো সমাধান?? কাজ আছে বলেইতো লোক রাখি তাইনা? কাজ না থাকলেতো পয়সা খরচ করে লোক রাখতামনা৷আর এই যে ছুটি গুলো নেয়, না কল করবে না জানাবে। হুটহাট নাই, ফোন বন্ধ যোগাযোগ নাই। কবে আসবে না কি আসবেনা সেটাও জানায়না৷
কিছু বললে ডিরেক্ট বলে বসে আপনি যে আপনার ফ্যামিলির কাজে যান। আমার মা'কে চোখের ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেসি, সেটাও তারা আমাকে বলে আপনার মা'কে নিয়ে যে আপনি ডাক্তার দেখাতে গেলেন, রিপোর্ট নিয়ে কয়দিন দৌড়ালেন৷
আমি কি এই কৈফিয়তও ওদেরকে দিবো??
আমি কি খাই, আমি কি পরি সবকিছুতে ওদের সমস্যা।মানে এমন একটা অবস্থা যে ওরা আমার ফ্যামিলি মেম্বার আমি বাসায় ভালো খাবার রান্না করে ওদের রেখে খেয়ে ফেলতেসি।
সবাই স্টাফ রাখে, বেতন দেয়, স্টাফ দুপুরে কি দিয়ে ভাত খাবে সেটাতো ওনার ঠিক করে দেয়??
আপনাদের যাদের দোকান আছে স্টাফ আছে আপনি দুপুরে যা দিয়ে ভাত খান দোকানে সেটা কি স্টাফদের জন্যও নিয়ে যান??
আপনি যে ড্রেসটা পরেন সেটা স্টাফকেও কিনে দেন না কি ওর বেতন দিয়ে দেন ও কিনে নেয়???
বেতন কত দিবো সেটাতো বলেই রাখতেসি, জেনেই আসতেছে। ওদের বেতন ৩-৫ তারিখের মধ্যে দিচ্ছি কি না সেটা নিয়ে ওরা কথা বলতে পারে সেই রাইট ওদের আছে কিন্তু আমার ইনকাম দিয়ে আমি কি পরবো কি পরবোনা এটা নিয়ে কথা বলার ওরা কে??
আমার ড্রেসের কোনো নির্দিষ্ট পছন্দের যায়গা নেই, রেগুলার পরার ড্রেস আমি যখন যেখান থেকে ইচ্ছা কিনি তাতে ফুটপাথ আর দোকান বাছিনা। কোনো অনুষ্ঠানাদি, ঈদ এই সময় যেকোনো মানুষ রেগুলার ইউজের চেয়ে একটু ভালো মানের ড্রেসই পরে থাকে। এই ক্ষেত্রে অনলাইন থেকে বেশি কিনি৷ ড্রেসের পার্সেল দেখলেই ওদের মাথা খারাপ হয়ে যেতো যেনো আমি মহাপাপ করে ফেলসি ড্রেস কিনে।আর সাথে আলাপতো আছেই এখান থেকে কেনো কিনি ওখান থেকে কেনো কিনি৷ মানে আমি কোথা থেকে ড্রেস কিনবো সেটাও আমার স্টাফরা ঠিক করে দিবে??
ওরা দোকানে কখনো অসুস্ত হলে নিজে সাথে করে ফার্মাসীতে নিয়ে যেতাম,ওষুধ এনে দিতাম। কিন্তু কখনোই কোনো কিছুতে আমি ওদের মন জয় করতে পারিনি।সমস্যা একটা অন্য কোনে সুবিধাই ওদের কাছে ভালো লাগতোনা, কাজ রেখে মোবাইল চাপতে না পারা আর ঘনঘন ছুটি না পাওয়া এটাই ওদের বড় সমস্যা। আর যখন থেকে চুড়ির পথ কম গেসে তখন থেকেতো আমি ওদের জন্ম শত্রুরে কাতারে চলে গেসি।
ওরা সবসময় বলতো আমি দেখতে পেঙ্গুইনের মত। আমি বুড়ি, শুধু সং সেজে থাকি। অথচ সারা বছর আমি মেকাপ, সাজগোজ ছাড়াই খুব স্বাভাবিকভাবে কাটাই শুধুমাত্র কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়া ছাড়া।আমি বুড়ি না কি সেটা তাদের দেখার দরকার আছে কি??
তারা দেখবে আমি তাদের ঠিকমত বেতন দিচ্ছি কি না,যে সকল সুযোগ সুবিধা দিবো বলে রেখেছি তা দিচ্ছি কি না।
আমি বুড়ি হই, কুৎসিত হই, আমার মাথায় চুল পরে টাক হয়ে যাক এগুলো সবইতো আমার ব্যক্তিগত বিষয় তাইনা???
এসব নিয়ে কথা বলাও কি জায়েজ ওদের জন্য??
আমি আমার বোনকে, ভাগনিকে প্রডাক্ট দেই কেনো টাকা ছাড়া৷ আমার কাজিন বা রিলেটিভ কেউ নিলে প্রডাক্টের দাম কম রাখি কেনো এসব নিয়েও ওরা তর্ক করতো।আমার প্রডাক্ট আমি যদি সব টাকা ছাড়াও দিয়ে দেই সেটা নিয়ে ওরা কেনো কথা বলব?
মানুষ যে প্রডাক্ট নিয়ে বিজনেস করে সেটা সে নিজের জন্য নেয়না?
শাড়ি, চুড়ি গয়না,জামা,জুতা,ফল,সবজি ব্যাবসায়ী তার দোকানের জন্য কেনা প্রডাক্ট থেকে নিজের প্রয়োজনে নেয়না???
আমি আমার নিজের জন্য কোনো জিনিস রেখে দিলে সেটা নিয়ে পর্যন্ত ওরা কথা বলতো আমি কেনো এগুলো রেখে দেই, বিক্রি করলেতো এগুলো থেকেও লাভ হতো।
এই মেয়ে এত বেশি হিংসা,শক্রতা পুষে রাখার মত মেয়ে যে ও দোকান থেকে বের হয়ে যেয়েও আমাকে শান্তি দেয়নি।রোজায় যে মেয়ে গুলোকে রেখেছিলাম তাদের সাথেও যোগাযোগ করতো। ৮ম রমজানে আমার মা মারা যায়, আমার বাবা মারা যায় ২০১৮ তে, একটা সন্তান তার মা-বাবাকে সারা জীবনের জন্য হারানো এটা কত বড় ধাক্কা তা শুধু যারা হারিয়েছে তারা বোঝে৷
ইফতারের সময় আমার কান্না চলে আসতো কারন আমার মা পুরো রোজা জুরে ইফতার শেষ না হতেই কল দিতো উফতার করলাম কি না, আমি এই রোজায় আর এই ভাগ্যে পাইনি। সন্ধ্যায় আমি বসে বসে কোরআন শরীফ পড়তাম, আমার চোখ বেয়ে পানি পরতো। এরা এটা নিয়ে পর্যন্ত হাসাহাসি করতো।
মানুষের প্রতি মানুষের মায়া আসে আচরনে আবার মানুষ মন থেকে উঠেও যায় নিজের আচরনের জন্যই৷
আমি ওদেরকে বেশি আদর দিয়ে মাথায় তুলছিলাম। এরপর ওরা বাদর হয়ে আমার মাথায় বসে নাচছে।