বুনো আখ্যান AranyaLipi

বুনো আখ্যান AranyaLipi Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বুনো আখ্যান AranyaLipi, Mymensingh.

অস্তিত্বের টানে আলপথ ধরে হেঁটে যাওয়া। জল, জঙ্গল আর মাটির নিবিড় মৈত্রীতে বোনা এক চিরন্তন রূপকথা। যেখানে নাগরিক কোলাহল থেমে গিয়ে শুরু হয় বুনো ঘাসের মলাট। সবুজের পাতায় লেখা নিভৃত বাংলার সেই অদেখা পাণ্ডুলিপি।

Voice of the Vernacular 🌼🤍

19/12/2025

#নগরদাহ
#ইমতিয়াজ_শাহরিয়ার_পৃথ্বী

১.
বৃহস্পতিবারের মধ্যরাত। ময়মনসিংহ শহরের আলো কমে গেছে, রাস্তায় গাড়ির শব্দ কমে এসেছে। দিনের ক্লান্তি শেষে শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেছে শহর। হঠাৎ হঠাৎ এক-আধটা মোটরবাইকের হর্ণ ছাড়া আর কোনও শব্দই নেই শহরের কোথাও। সমস্ত শহর ঘুমিয়ে গেলেও গোহাইলকান্দির পাঁচতলা বাড়ির চিলেকোঠায় এখনও জ্বলছে একটা ছোট্ট টেবিল ল্যাম্প।

আনিস বিছানায় হেলান দিয়ে বসে। পায়ের কাছে ছড়ানো খাতা, হাইলাইটার, গণিতের প্রবলেম সলভ করা পৃষ্ঠা। রাত দুটো বাজে। চাকরির পরীক্ষার জন্য ইংরেজি প্র্যাকটিস সেট শেষ করে এখন সে হাতে নিয়েছে হুমায়ূন আহমেদের 'নন্দিত নরকে'। পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে থেমে যায়, জানালার দিকে তাকায়। বাইরে শীতের কুয়াশা। চায়ের কাপটা ঠান্ডা হয়ে গেছে ঘণ্টাখানেক আগে। তার পাশে আরেকটা কাপ, সিগারেটের ছাইয়ে ভর্তি। বৃহস্পতিবারের রাত। ঘুমাবার তাড়া নেই। বইয়ের পাতায় চোখ বুলাতে বুলাতেই টাচস্ক্রীনে বাজিয়ে দিয়েছে তানজির তুহিনের কণ্ঠে “আবার হাসিমুখ”। এই গানগুলো শুনতে শুনতে নস্টালজিক হয়ে যায় সে। কলেজে ভর্তি হয়ে প্রথমবার মাকে ছেড়ে, পল্লী ছেড়ে দূর শহরে এসেছিলো আনিস। থাকতো আকুয়া মসজিদ কোয়াটারে একটা মেসে। মন খারাপ লাগলে শিরোনামহীন, আর্টসেলের গানগুলো ছেড়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে কান্নাকাটি করতো। তারপর? এতো এতো বছর পেড়িয়ে গেছে। কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাও এই শহরে থেকেই করেছে। এই শহরই তার ঠিকানা। “আবার হাসিমুখ” “আভাস” “অনিকেত প্রান্তর” “এই অবেলায়” টাইপ গানগুলো শুনলেই তার মনে পড়ে যায় ফেলে আসা সোনালী দিনগুলো। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত নেমে এলেই সে ডুবে যায় নস্টালজিয়ায়। গানগুলো শুনতে শুনতে কমেন্ট গুলো পড়ে। কথকতা সেখানে। কত হতাশ যুবক, ব্যর্থ প্রেমিক আর আহত কত যোদ্ধার আনাগোনা সেখানে।

আনিসের দিনরাত্রি এভাবেই কাটে। সকালে দেরি করে ওঠে, মামার বাড়ির নিচে চায়ের দোকানে এক কাপ চা আর দুটো সিগারেট নিয়ে বসে। তারপর ঘরে ফিরে চাকরির পড়া। বিকেলে একটু ঘুম। সন্ধ্যার পর আবার বই। রাত জেগে পড়াশোনা, তারপর সাহিত্য। জীবনটা যেন একটা ধীরগতির নদী, বাঁকে বাঁকে ঘুরছে, কিন্তু কূল খুঁজে পাচ্ছে না।

নন্দিত নরকের পাতায় আনিসের মন খুব বেশি সময় স্থির থাকেনি। বই রেখে টেবিলল্যাম্প নিভিয়ে দিয়ে অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে নস্টালজিয়ায় ডুবে যায় সে। ওদিকে গুলকিবাড়ি ছাত্রী মেসের দোতলায় একটা ছোট্ট ঘরে শেহনাজ বেগম এখনও পড়ছে। টেবিলে ভূগোলের টেক্সটবুক খোলা, ভূ-আকৃতি বিজ্ঞানের চ্যাপ্টার। তার হাতে নীল হাইলাইটার। পাশে একটা খাতায় নোট লেখা চলছে সুন্দর হাতের লেখায়। ঘড়িতে রাত আড়াইটা। কাল শুক্রবার, কলেজ বন্ধ। তাই আজ পড়াশোনা শেষ করতে চায়।

শেহনাজ বেগম। ডাকনাম আলপনা। দিন শুরু হয় সকাল সাড়ে ছয়টায়। অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথে উঠে পড়ে। নামাজ পড়ে, মেসের কমন বাথরুমে লাইন দিয়ে গোসল সেরে নেয়। সালোয়ার কামিজ পরে, চুল বেঁধে, ব্যাগ গুছিয়ে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে কলেজের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে। ক্লাস, লাইব্রেরি, মেসে ফিরে দুপুরের খাওয়া, তারপর আবার পড়া। সন্ধ্যায় মেসের ছাদে একটু হাঁটে, বাড়িতে ফোন করে। রাতে পড়ে। ঘুমায় এগারোটা-বারোটার মধ্যে। জীবনটা যেন একটা সোজা সরল রেললাইন, স্টেশনগুলো ঠিক করা আছে, ট্রেন ছাড়ার সময় নির্দিষ্ট।

আজ পড়া শেষ করে আলপনা একটু রিল্যাক্স হতে ফোনটা হাতে নিল। ফেসবুক ওপেন করল। অনার্সে ভর্তির পর থেকে সে বই পড়তে শুরু করেছে। ক্লাসের ফাঁকে লাইব্রেরিতে হুমায়ূন আহমেদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বই ধার নেয়। ফেসবুকে বেশ কতগুলো বই প্লাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। সেখানে বইয়ের রিভিউ এসব দেখে। তার মধ্যে একটা গ্রুপ সুবিদ্যা স্টেশন। এখন সেই গ্রুপে স্ক্রল করতে করতে একটা পোস্ট চোখে পড়ল।

পোস্ট করেছে সৈয়দ কামরুজ্জামান। প্রোফাইল পিকচারে একটা ছেলে, হালকা দাড়ি, চোখে চশমা, পিছনে বুকশেলফ। পোস্টে লেখা,"রাতের নির্জনতায় 'কালবেলা' পড়তে পড়তে মনে হচ্ছে, আমরা সবাই কোনও না কোনও সময়ের বন্দি। সমরেশ মজুমদারের এই উপন্যাসটা পড়লে বোঝা যায়, বিপ্লব শুধু রাজনীতিতে নয়, মনের ভিতরেও হয়। কে কে পড়েছেন? কোন লাইনটা আপনাকে সবচেয়ে নাড়া দিয়েছে?"

কমেন্টে অনেকে লিখেছে। কিন্তু আলপনার কৌতূহল হলো। সে 'কালবেলা' শুনেছে, কিন্তু পড়েনি। প্রোফাইলটা দেখল। নিকনেম আনিস। আনিসের পোস্টগুলো সব বই নিয়ে, গভীর রিভিউ, কবিতার লাইন, কখনও রবীন্দ্রনাথ, কখনও নজরুল। মনে হলো এই মানুষটা বইয়ের সাথে সত্যি জীবন কাটায়।

হাত কাঁপল একটু। তারপর মেসেঞ্জারে গিয়ে টাইপ করল, "হ্যালো! আপনার পোস্টটা পড়লাম। 'কালবেলা' আমি পড়িনি। কিন্তু আপনার রিভিউ পড়ে খুব ইচ্ছে হচ্ছে পড়তে। নতুন পাঠক আমি। শুরু করলে বুঝতে পারব তো?" লিখে মেসেজটা সেন্ড করল। রাত তিনটে বাজে। আলপনা ভাবল, এত রাতে হয়তো দেখবে না। কিন্তু মিনিট দুয়েকের মধ্যে টাইপিং দেখা গেল।

আনিসের ঘরে ল্যাম্পের আলোয় ফোনটা কেঁপে উঠল। অচেনা একটা নাম শেহনাজ বেগম। প্রোফাইল দেখে বুঝল কলেজ স্টুডেন্ট। হাসল। রিপ্লাই করল, "জ্বি! অবশ্যই পারবেন। 'কালবেলা' পড়তে গেলে একটু ধৈর্য লাগে, কিন্তু শেষ হলে মনে হবে নিজের জীবনেরই কোনও অংশ পড়েছেন। লাইব্রেরিতে পান কি? না হলে আমার কাছে আছে।"

দুই প্রবাহের মানুষ, দুই রকমের রাত। একজন রাত জেগে সাহিত্যে হারায়, অন্যজন পড়াশোনা শেষে একটু নিশ্চিন্ত হয়। কিন্তু এই বৃহস্পতিবারের মধ্যরাতে বইয়ের পৃষ্ঠা তাদের একটা সূক্ষ্ম সেতু বেঁধে দিল।

দিনগুলো কাটে আনিসের জন্য একই রকম ধোঁয়াশায়। সকালে দেরি করে ওঠা, বাড়ির নিচের চায়ের দোকানে দুটো সিগারেট আর এক কাপ চা। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সে তাকিয়ে থাকে রাস্তার দিকে। শহরের আরো একটা ব্যস্ত দিনের শুরু। রিকশার ঘণ্টি, স্কুলের বাচ্চাদের হইচই, অফিস যাত্রীদের তাড়াহুড়ো। সবাই যেন কোথায় যাচ্ছে। কিন্তু আনিসের কোথাও যাওয়ার নেই। বিসিএসের প্রিলির অপেক্ষায় রাতজাগা পড়া, কিন্তু তার মধ্যে একটা অদ্ভুত শৈথিল্য। পড়তে বসে, কিন্তু মন থাকে না।

দুপুরের দিকে বেরিয়ে পড়ে সে। একা। শহরের পথে পথে হাঁটে। স্টেশন রোড ধরে ব্রহ্মপুত্রের দিকে। নদীর ধারে বসে। পকেটে একটা পুরনো নোটবুক, কলম। টুকটাক লেখে। কখনও একটা কবিতার লাইন, কখনও শহরের মানুষদের দেখে মনে আসা চিন্তা। দেখে একজন রিকশাওয়ালা যাত্রী নামিয়ে ঘাম মুছছে। পাশ দিয়ে যাচ্ছে একটা প্রাইভেট কার, ভিতরে এসি চলছে, গান বাজছে। একই শহর, দুই জগৎ। আনিসের মনে পড়ে শ্রেণীসংগ্রামের কথা, যে কথাগুলো সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে, কিন্তু এখন নিজের চামড়ায় অনুভব করে। তার পাশ ঘেঁষে একটা ট্রাক গেলো, ট্রাকের ইঞ্জিনে লেখা “জন্ম থেকেই জ্বলছি”। কথাটাকে নিজের মধ্যে উপলব্ধি করে নোটবুকে টুকে নিলো। আনিস নিজেও জন্ম থেকেই জ্বলছে। সে চুপচাপ মানুষ। কারো সাথে কথা বলে না। মামার বাড়িতে খায়, ঘুমায়, পড়ে। মামী কখনও জিজ্ঞেস করেন, “চাকরি হবে তো?” আনিস শুধু মাথা নেড়ে বলে, “ভাগ্যে থাকলে হবে।” আর কিছু বলে না।

বিকেলে লাইব্রেরিতে যায়। বই নেয়। ফিরে এসে চিলেকোঠায় বসে পড়ে। টাচস্ক্রিনে প্রিয় গানগুলো বাজায়, আর্টসেলের “অনিকেত প্রান্তর”, শিরোনামহীনের “হাসিমুখ”। গান শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ করে। মনে পড়ে ছোটবেলার পল্লী, মায়ের হাতের রান্না, বাবার সাথে মাঠে যাওয়া। এখন সব দূর। শুধু এই শহর, এই বেকারত্বের ভার।

সেই বৃহস্পতিবার রাতের মেসেজটা সে আর রিপ্লাই করেনি। একটা রিয়েক্ট দিয়ে কথার ইতি টেনেছিলো। আলপনা নামের মেয়েটির কথা মনে পড়ে কখনও কখনও। কিন্তু কী বলবে? “আমি বেকার, রাত জেগে বই পড়ি, চাকরির পড়া করি কিন্তু হচ্ছে না কিছু”? লজ্জা করে। চুপ করে থাকে।

সেই রাতের পর দুদিন কেটে গেছে। রবিবার রাত। শহর আবার নিস্তব্ধ। আনিস বিছানায় শুয়ে আছে। ফোনটা হাতে। ইউটিউবে গান চলছে। হঠাৎ নোটিফিকেশন। মেসেঞ্জার। শেহনাজ বেগম।

“হ্যালো! কেমন আছেন? অনেকদিন কোনও খোঁজ নেই। ব্যস্ত ছিলেন নাকি?” আলপনার মেসেজ। এক রকম অধিকারবোধ নিয়েই লিখেছে মেয়েটি। আনিস একটু অবাক হলো। দুদিন প্রায়। কিন্তু হাসি পেল। বই রিভিউ করার কারণে অনেকেই তাকে মেসেজ করে। বই সম্পর্কে জানতে চায়। এরপরই লাপাত্তা। আর কোনদিন মেসেজ আসে না সচরাচর। এই অল্প সময়ের মধ্যে এই প্রথম কেউ দ্বিতীয়বার তাকে মনে করে মেসেজ দিয়েছে।

আনিস মুহুর্তেউ রিপ্লাই করল, “জ্বি, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? হ্যাঁ, একটু ব্যস্ত ছিলাম। পড়াশোনা।”

আলপনাও মৃদু হাসলো। কাঁপা হাতে লিখলো, “এইতো চলছে। সেমিস্টার সামনেই। আচ্ছা, আপনি তো রিপ্লাই করলেন না আর। ভাবলাম হয়তো বিরক্ত করেছি।”

আনিস একটা সিগারেট ধরালো। টান দিয়ে নীলাভ ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে লিখলো, “ আরে না না, বিরক্ত করেননি। আসলে আমি একটু চুপচাপ টাইপের। কারো সাথে তেমন কথা বলি না। রাগ করবেন না।”

ওপাশে আলপনা একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে লিখলো, “রাগ করব কেন? আমিও তো নতুন কারো সাথে কথা বলতে একটু লজ্জা পাই। আপনার পোস্টগুলো দেখি মাঝে মাঝে। খুব ভালো লাগে।”

কথা এগোতে লাগল। আনিস বুঝতে পারে খুব নম্র স্বভাবের মেয়ে আলপনা। একটু ছেলেমানুষও বটে। সাহিত্যে পড়াশোনা করতে গিয়ে বিভিন্ন চরিত্র বিশ্লেষণ করেছে সে। কারো সাথে কথা বললেই তার সম্পর্কে ধারণা জন্মে যায়। আনিসের মনে হলো মেয়েটি খুব অভিমানী এবং লাজুক টাইপের। এই ধরনের মেয়েদের বিশেষত্ব হলো, ওরা অল্প কথাতেই মন খারাপ করে ফেলে। চোখে পানি টলমল করতে শুরু করে।

আলপনা জানতে চায়, “আপনি কোথায় থাকেন? কী করেন এখন?”

আনিস সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে লিখলো, “গোহাইলকান্দি। শানকিপাড়া শেষ মোড়। গ্র্যাজুয়েশন শেষ। মামার বাসায় থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
“ওহ, তাই। কোন সাবজেক্ট ছিল?”
“বাংলা। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর আপনি অনার্সে পড়ছেন, তাই না? ভূগোল?”
“হ্যাঁ, আনন্দমোহন কলেজ। ফার্স্ট ইয়ার। বাড়ি ভালুকায়। মেসে থাকি।”

কথা বলতে বলতে আনিসের মন হালকা লাগল। অনেকদিন পর এমন কারো সাথে কথা বলছে যে তার বইয়ের কথা বোঝে।

আলপনা জিজ্ঞাসা করে, “আচ্ছা, 'কালবেলা' পড়া শুরু করেছি। আপনার কথা মনে পড়ে গেল। খুব ভালো লাগছে। কিন্তু কিছু জায়গা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। সেই সময়ের রাজনীতি...”

“হ্যাঁ, সেই সময়টা জটিল। নকশাল আন্দোলনের কথা বলছে। আমিও প্রথমবার পড়ার সময় বুঝিনি। পরে আরও বই পড়ে বুঝেছি। কোন জায়গাটা?”

ধীরে ধীরে কথোপকথন বইয়ের আলোচনায় ডুবে গেল। সমরেশ মজুমদারের চরিত্র, সময়ের প্রতিফলন, মানুষের ভিতরের বিপ্লব। আলপনা বলল সে হুমায়ূন আহমেদের 'হিমু' পড়ছে এখন। আনিস বলল তার প্রিয় রবীন্দ্রনাথের 'চতুরঙ্গ'। কথা বলতে বলতে রাত গভীর হলো।

আলপনা মুগ্ধচিত্তে লিখলো, “আপনার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগছে। এই প্রথম কারো সাথে বই নিয়ে কথা বলছি। স্মার্টফোনের এই যুগে বই নিয়ে কথা বলার মতো মানুষ বিরল। আমার ফ্রেন্ড-সার্কেলের মধ্যে একেকজন একেক চিন্তায় মগ্ন। বইপড়ুয়া কেউ নেই। অথচ বইআলাপের মধ্যে কত প্রশান্তি এবং ভালোলাগা।

আনিস হেসে ফেললো। সত্যিই। এখন আনন্দ লাভের জন্য কেউ বই পড়ে না। লিটারারিতেও যারা পড়ে, তারাও একপ্রকার বই গিলে ফেলে সিজিপিএ’র জন্য। সে লিখে “আমারও ভালো লাগছে। ধন্যবাদ আপনাকে আবার নক করার জন্য।”

রাত দুটো পার হয়ে গেল। কিন্তু কেউ ঘুমাতে চাইছে না। যেন এই মেসেজের সূক্ষ্ম সেতুটা ভাঙতে ভয় করছে দুজনেরই।

চলবে….

18/12/2025

াহ
#ইমতিয়াজ_শাহরিয়ার_পৃথ্বী

Address

Mymensingh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বুনো আখ্যান AranyaLipi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share