Seerat Corner

Seerat Corner শিশুর বেড়ে ওঠা, দারুণ সব অভ্যাস গঠন আর পজিটিভ প্যারেন্টিং—সবকিছুই একটু বেশি ভালোবাসার ছোঁয়ায়।

এখনই সচেতন হোন!
13/08/2026

এখনই সচেতন হোন!

একবার এক যুবক শায়েখের দরবারে হাজির হলো। তার চেহারায় বিষাদের ছায়া এবং মনে এক অস্থিরতা স্পষ্ট। সে শায়েখকে অত্যন্ত বিনী...
13/08/2026

একবার এক যুবক শায়েখের দরবারে হাজির হলো। তার চেহারায় বিষাদের ছায়া এবং মনে এক অস্থিরতা স্পষ্ট। সে শায়েখকে অত্যন্ত বিনীতভাবে জানাল যে, সে গভীরভাবে এক তরুণীর প্রেমে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সে চাইলেও তার সেই প্রেমাস্পদকে মন থেকে কিছুতেই মুছে ফেলতে পারছে না। এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সে শায়েখের কাছে একটি নসিহাহ বা সুপরামর্শ কামনা করল।

শায়েখ যুবকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন এবং তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, "আল্লাহর সাহায্য চাও এবং বেশি বেশি তাঁর কাছে দু'আ করো। তিনিই কেবল মনের যেকোনো কঠিন অবস্থা পরিবর্তন করতে পারেন।"

তখন যুবকটি ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল, "হুজুর, এমন কোনো বিশেষ দুআ আছে কি-না, যার সাহায্যে আমি আমার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁড়ে বসা এই ভালোবাসার পরশকে চিরতরে দূরে সরিয়ে দিতে পারব?"

যুবকের আকুলতা দেখে শায়েখ তাকে একটি অত্যন্ত বরকতময় ও পবিত্র দুআ শিক্ষা দিতে শুরু করলেন। শায়েখ বলতে লাগলেন:

اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَفِي بَصَرِي نُورًا، وَفِي سَمْعِي نُورًا...

অর্থ: "হে আল্লাহ, আপনি আমার অন্তরে নূর (আলো) দান করুন, আমার চোখে নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন..."

শায়েখ যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই নূর লাভের বিখ্যাত দুআটি বলছিলেন, তখন হঠাৎ যুবকটি মাঝপথে শায়েখকে বাধা দিয়ে বলে উঠল

"প্লিজ, প্লিজ সম্মানিত শায়েখ! থামুন! থামুন!"

যুবকের এমন আকস্মিক বাধায় শায়েখ তো রীতিমতো ভাবনায় পড়ে গেলেন! তিনি মনে মনে শঙ্কা বোধ করলেন যে, তিনি কি কোনো ভুলভাল বা অপ্রাসঙ্গিক কিছু বলে ফেললেন? নাকি এই দুআয় এমন কিছু আছে যা যুবকের অবস্থার বিপরীত?

শায়েখ কিছুটা থমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কী ব্যাপার? আমি তো তোমাকে অন্তর শুদ্ধ করার এবং আল্লাহর নূর অর্জনের একটি বরকতময় দুআ শিখাচ্ছি। তুমি থামতে বললে কেন?"

যুবকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে অত্যন্ত অসহায় কণ্ঠে জবাব দিল:

"শায়েখ, আমি যে মেয়ের প্রেমে পড়েছি, তার নামই হলো 'নূর'!"

এই কথা শোনার সাথে সাথে শায়েখ আর নিজের হাসি ধরে রাখতে পারলেন না। যুবকের এই অদ্ভুত ও হাস্যকর পরিস্থিতিতে তিনি এতটাই উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করলেন যে, শেষ পর্যন্ত প্রোগ্রাম বন্ধ করে বিরতিতে চলে যেতে হয়েছিল!

স্নেহ এবং আদব দুটাই লাগবে!
13/08/2026

স্নেহ এবং আদব দুটাই লাগবে!

13/08/2026

আদর্শ প্যারেন্টিং পরিচিতি

উস্তাদ তাওসীফ মুসান্না
প্যারেন্টিং কনসালটেন্ট : সীরাত একাডেমি

12/08/2026

সন্তানের এতটা বিশ্বাস অর্জন করুন, যেনো সব কথা আপনাকে নির্ভয়ে বলতে পারে!

আধুনিক প্রযুক্তির আশীর্বাদ আজ আমাদের ঘরদোর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে শিশুদের কোমল হাতের মুঠোয়। বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের কাছে খে...
12/08/2026

আধুনিক প্রযুক্তির আশীর্বাদ আজ আমাদের ঘরদোর ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে শিশুদের কোমল হাতের মুঠোয়। বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের কাছে খেতে বসা মানেই চোখের সামনে রঙিন কোনো পর্দার হাতছানি—হাতে মোবাইল তুলে না দিলে যেন তাদের গ্রাসটি মুখে রোচে না। প্রশ্ন জাগে, কেন এমন অদ্ভুত ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়ছে আজকের শিশুরা? এই আসক্তি দূর করার জাদুকরী উপায়ই বা কী? কেবল বাচ্চার হাত থেকে জোর করে স্ক্রিন কেড়ে নিলে কি সমস্যার সমাধান মেলে? যারা নিত্যদিন সন্তান সামলান, কেবল তারাই জানেন এই অদৃশ্য লড়াইয়ের তীব্রতা ও কাঠিন্য।

বয়সের তারতম্য রয়েছে, রয়েছে পারিবারিক আবহাওয়ার ভিন্নতা। কারো মা ঘর সামলান পরম মমতায়, আবার কারো মা কর্মব্যস্ততায় দিন কাটান বাইরের দুনিয়ায়। কিন্তু সব ঘরের দৃশ্যপটেই আজ একটি অদ্ভুত মিল—খাবারের থালার সামনে বসা মাত্রই চাই মোবাইল। মায়েদের মুখে একটাই কথা, স্ক্রিন সামনে না ধরলে সন্তান মুখে খাবার তো তুলতেই চায় না, উল্টো খাবার গালে পুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে। শেষমেশ নিরুপায় হয়ে মায়েরাও হার মানেন এবং সন্তানের হাতে তুলে দেন প্রযুক্তির রঙিন নেশা।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, ঘরে ঘরে এই চিত্র আজ এক চিরন্তন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গান, কার্টুন কিংবা কোনো রিল চালু থাকলেই কেবল তারা আহার সম্পন্ন করে, আর বিনোদনের এই আলো নিভে গেলেই শুরু হয় কান্নাকাটি, চিৎকার ও জেদের আস্ফালন। এই দৃশ্য দেখে আজ গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ও মনোবিদগণ।

সমস্যার মূল শিকড় কোথায়?
শিশুর খাবার খেতে না চাওয়ার পেছনে থাকতে পারে শারীরবৃত্তীয় নানা কারণ—হতে পারে তার পেটে আদৌ খিদে নেই, কিংবা সে কিছুটা অসুস্থ, কিংবা মা-যে খাবারটি সামনে এনেছেন তার স্বাদ বা গন্ধ তার পছন্দ নয়। অনেক সময় মায়েরা সন্তানের বয়স ও চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার থালায় তুলে দেন এবং জোর করে তা খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। শিশু সেই জোরাজুরির প্রতিবাদ জানায় খাবার দীর্ঘক্ষণ মুখে জমিয়ে রেখে, না চিবিয়ে।

তাছাড়া, ব্যস্ত মায়েরাও অনেক সময় সহজ পথ বেছে নেন। সন্তানের সাথে গল্প করে, ছড়া শুনিয়ে বা বুঝিয়ে খাবার খাওয়াতে গেলে যে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়, শহুরে যান্ত্রিক জীবনে তার বড় অভাব। তাড়াহুড়োর সকালে মোবাইলে কোনো কার্টুন বা পছন্দের গান ছেড়ে দিলে যে কাজ দুই ঘণ্টায় শেষ হওয়ার কথা, তা নিমিষেই আধ ঘণ্টায় মিটে যায়।

কিন্তু এর পরিণাম অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে শিশুদের স্থূলত্বের সমস্যা আজ চরম আকার ধারণ করেছে এবং ভারতও এর বাইরে নয়। মোবাইলে মগ্ন থেকে যখন একটি শিশু খাবার খায়, তখন তার মস্তিষ্ক খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণ বা পরিমাণের প্রতি পুরোপুরি অচেতন থাকে। সে কী খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছে—তার কোনো হিসেব তার মগজে থাকে না। অভিভাবকেরাও খাসির মতো বাচ্চা খেয়ে নিচ্ছে ভেবে খাইয়েই যান, আর তা থেকেই ডেকে আনেন স্থূলতার মতো মারাত্মক শারীরিক ব্যাধি। বিশিষ্ট মনোবিদদের মতে, সচেতনভাবে খেলেই কেবল শিশু বুঝতে পারে তার পেট ভরেছে কি না। অতিরিক্ত হলে সে নিজেই হাত সরিয়ে নেবে। অভিভাবকরা সেই প্রাকৃতিক ইশারাকে অবহেলা করলেই বিপত্তি ঘোরে।

বাস্তবসম্মত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধানের পথ
"খাওয়ার সময় মোবাইল দেওয়া যাবে না, স্ক্রিন টাইম বেঁধে দিতে হবে"—এই তত্ত্বকথাগুলো আমরা সবাই জানি। কিন্তু বাস্তবে মায়ের পক্ষে তা মানা অনেক সময় অসম্ভব ঠেকে। এই জটিলতা থেকে উত্তরণের জন্য মনো-সমাজকর্মীরা কিছু সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পথ বাতলেছেন:

স্বল্প আহারে সম্মতি: শিশু যদি কোনো বেলায় খুব কমও খায়, তবে সেই ক্ষিদেটুকু বা অনিচ্ছা মেনে নেওয়া ভালো। জোর করে খাইয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অন্যায্য জেদে প্রশ্রয় না দেওয়া: শিশুর প্রতিটি বায়নায় মদত দিলে তা ভবিষ্যতে তার ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। চিকিৎসকদের মতে, প্রকৃত খিদে পেলে শিশু নিজ থেকেই খাবার চাইবে। তার শরীরকে সংকেত দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং বুঝতে হবে সে কেন খেতে চাইছে না।

খাবারে বৈচিত্র্য ও রঙের জাদুকরী ছোঁয়া: শিশুরা স্বভাবতই রংচঙে ও সুন্দর জিনিসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই অমলেট হোক বা সাধারণ ভাত-রুটি—রান্নায় একটু সৃজনশীলতা আনুন। ডিমের পোচকে গাজর ও আঙুরের টুকরো দিয়ে চোখ-নাক বানিয়ে প্লেট সাজাতে পারেন। পালংশাক বা ধনেপাতার সবুজ রস দিয়ে ছোট ছোট সুদৃশ্য রঙিন রুটি তৈরি করতে পারেন। খাবারের স্বাদ এবং রূপ শিশুর মনে আগ্রহ জাগাবে।

রান্নাঘরে খুদে সহায়ক: রান্না করার সময় আপনার ছোট্ট সোনামণিকেও পাশে ডেকে নিন। কী রান্না হচ্ছে, কীভাবে মশলা মিশছে—তা তাকে দেখালে সে কৌতূহলী হয়ে উঠবে। নিজ হাতে তৈরি বা পরিচিত খাবারের প্রতি তার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

গল্প ও রূপকথার সবজি: মাটির নিচের নানা সবজি বা বইয়ের পাতার রঙিন ছবি দেখিয়ে তাদের পুষ্টিগুণ সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিন। এরপর সেই সবজি দিয়ে রান্না করে দিলে শিশু আনন্দের সাথেই তা গ্রহণ করবে।

পারিবারিক ভোজনরসিকতা: এক কোণায় একলা শিশুকে মোবাইল দিয়ে খাইয়ে দেওয়ার চেয়ে পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাবারের প্রশংসা করুন, একে অপরের সাথে গল্প করুন। বড়দের উৎসাহ দেখে শিশুও তখন খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

প্রযুক্তির রঙিন পর্দা দিয়ে শিশুর শৈশবের স্বাভাবিক ক্ষুধাকে দমিয়ে না রেখে, তাকে প্রকৃতির কাছাকাছি আনুন। খাবার টেবিল হোক ভালোবাসার আদান-প্রদান ও গল্পগুজবের এক সুন্দর প্রাঙ্গণ, যেখানে স্ক্রিনের আলো নয়, বরং পারিবারিক উষ্ণতাই শিশুর মন ও দেহকে পুষ্ট করে তুলবে।

ছবিটি উম্মুল মুমিনিন আম্মাজান আয়েশা (রাযি.)-এর ঘরের অনুচিত্র। ডানপাশে কব*রের মতো যে অংশগুলো দেখছেন, এগুলো নবীজি ﷺ, তাঁর ...
12/08/2026

ছবিটি উম্মুল মুমিনিন আম্মাজান আয়েশা (রাযি.)-এর ঘরের অনুচিত্র। ডানপাশে কব*রের মতো যে অংশগুলো দেখছেন, এগুলো নবীজি ﷺ, তাঁর প্রিয় সাথিদ্বয় আবু বকর সিদ্দিক এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-গণের কবর।

এখানে যে অরিয়েন্টেশনে সাজানো, বাস্তবে কবরগুলো ঠিক সেভাবেই আছে। পাশের বিছানাটায় আমাদের মা আয়েশা (রাযি.) থাকতেন। আল্লাহর রাসূল ﷺ এবং তাঁর পিতা আবু বকরকে কবর দেওয়ার পরও।

আয়েশা (রাযি.) বলেন, ‘আমার যে ঘরে আল্লাহর রাসূল ﷺ এবং আমার বাবা আবু বকর (রাযি.)-কে দাফন করা হয়েছে, আমি সেই ঘরে প্রবেশ করতাম। পর্দা ছাড়াই প্রবেশ করতাম এবং নিজেকে বলতাম, এখানে শুধু আমার স্বামী আর বাবা আছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন উমার (রাযি.)-কেও এখানে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম, আমি পর্দা ছাড়া একদিনও প্রবেশ করিনি। আর এটা ছিল উমারের প্রতি আমার ল*জ্জা।’

এই বানানো অনুচিত্রটি মদিনায় দর্শনার্থীদের প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। সত্যিকার ছবি পাওয়া দুর্লভ। কারণ, আয়েশা (রাযি.)-এর ঘরের অনেকগুলো দেয়ালে চারদিক ঘিরে রাখা হয়েছে।

অনেক কার্টুন ও গেমে জাদু, অলৌকিক ক্ষমতা এবং শিরকী উপাদান খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়। শিশুরা স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয়। তা...
12/08/2026

অনেক কার্টুন ও গেমে জাদু, অলৌকিক ক্ষমতা এবং শিরকী উপাদান খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়। শিশুরা স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয়। তারা সাহাবীদের বীরত্ব বা নবীদের কাহিনীর পরিবর্তে স্পাইডারম্যান, সুপারহিরো বা হ্যারি পটারের প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলে।

তারা কাল্পনিক চরিত্রের অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস করতে শুরু করে, যা অনেক সময় আল্লাহর একক কুদরত ও তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। ফলে তাদের মধ্যে আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা) এর বিশুদ্ধ আকীদা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাদের রোল মডেল হয় কাল্পনিক নায়ক, অথচ তাদের রোল মডেল হওয়ার কথা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম।

স্ক্রিনের নেশা শিশুকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আজান হয়, সালাতের সময় চলে যায়, কিন্তু গেমের লেভেল বা ভিডিওর উত্তেজনায় তারা তা টেরও পায় না। এই গাফলাহ (উদাসীনতা) মুমিনের অন্তরের সবচেয়ে বড় রোগ।

আল্লাহ তাআলা সূরা আল-মুমিনুন-এ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: ‘যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে নিজেদের বিরত রাখে...’ (সূরা আল-মুমিনুন: ৩)
ডিজিটাল আসক্তি শিশুকে এই অসারতার সাগরে ডুবিয়ে রাখে। ফলে তাদের অন্তর ইবাদতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়। সালাত তাদের কাছে বোঝা মনে হয়, কুরআন তিলাওয়াত বিরক্তিকর লাগে এবং জিকির তাদের মনে কোনো প্রভাব ফেলে না।

11/08/2026

পারমিসিভ প্যারেন্টিং পরিচিতি

উস্তাদ তাওসীফ মুসান্না
প্যারেন্টিং কনসালটেন্ট : সীরাত একাডেমি

সন্তানের সামান্য একটি অর্জন—সে হতে পারে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ঝকঝকে ফলাফল, কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে পদক গলায় ...
11/08/2026

সন্তানের সামান্য একটি অর্জন—সে হতে পারে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ঝকঝকে ফলাফল, কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে পদক গলায় ঝোলানো কিংবা জীবনের প্রথম দিনে স্কুলের আঙিনায় পা রাখার স্নিগ্ধ মুহূর্ত—মা-বাবার বুকটাকে গর্বে ও আনন্দে ভরে তোলে। এই খুশির জোয়ারে ভেসে অভিভাবকরা আজকাল সবার আগে ছুটে যান ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর শরণাপন্ন হতে। সন্তানের সাফল্যে আনন্দিত হওয়া এবং তা ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আনন্দ প্রকাশেরও কি কোনো নির্দিষ্ট পরিধি বা সীমা থাকা উচিত নয়?

ভার্চুয়াল দুনিয়ার এই উন্মুক্ত আঙিনায় সন্তানের সাফল্য ও ব্যক্তিগত জীবনের মুহূর্তগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার আগে কিছু সুগভীর ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি:

১. বদনজর ও অদৃশ্য নেতিবাচক শক্তির প্রভাব
ইসলামের শাশ্বত বাণী ও বাস্তব অভিজ্ঞতায় ‘বদনজর’ বা মানুষের অশুভ দৃষ্টির প্রভাব একটি চিরন্তন সত্য। আপনার স্নেহের সন্তানের সুসংবাদ বা সাফল্য দেখে সমাজের সবার মন সমানভাবে আনন্দিত নাও হতে পারে। অনেক সময় অবচেতনভাবেই মানুষের মনে দীর্ঘশ্বাস, ঈর্ষা কিংবা নেতিবাচক শক্তির সৃষ্টি হতে পারে, যা শিশুর সুকোমল মন ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নিজের খুশির কথা ঢাকঢোল পিটিয়ে সবার সামনে জাহির করার চেয়ে একটু গোপনীয়তার চাদরে ঢেকে রাখাই শ্রেয়।

২. অন্যের অনুভূতি ও হীনম্মন্যতার ক্ষত
আপনার ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিস্টে হয়তো এমন অনেক বন্ধু বা স্বজন রয়েছেন, যাদের সন্তানরা নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে চলছে কিংবা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে। আপনার সন্তানের লাগাতার ও জাঁকজমকপূর্ণ সাফল্যের পোস্টগুলো হয়তো অজান্তেই সেই অভিভাবক বা শিশুটির মনে গভীর কষ্ট, হীনম্মন্যতা ও দীর্ঘশ্বাসের জন্ম দেয়। নিজের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ যেন অন্য কারো নীরব কান্নার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে সংবেদনশীল হওয়া একজন পরিণত মানুষের পরিচয়।

৩. সন্তানের গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা
আজ অভিভাবক হিসেবে আপনি যা গর্বের সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন, আপনার সেই সন্তানটি যখন বড় হয়ে বুদ্ধিমান ও স্বাধীনচেতা হয়ে উঠবে, তখন সে হয়তো এ বিষয়গুলো জনসমক্ষে দেখতে পছন্দ নাও করতে পারে। শৈশবের প্রতিটি অর্জন, ব্যক্তিগত ছবি বা মুহূর্ত ইন্টারনেটের চিরস্থায়ী ডায়েরিতে উন্মুক্ত করে না দেওয়াই তার গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য বুদ্ধিমত্তার কাজ।

আনন্দ প্রকাশ করুন, হৃদয়ের গভীর থেকে উল্লাস করুন—কিন্তু তা যেন মাত্রাতিরিক্ত বা প্রদর্শনে পর্যবসিত না হয়। সন্তানকে কুদৃষ্টি ও অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এবং চারপাশের মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত অর্জন শেয়ার করার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখাটাই পরম প্রজ্ঞা। ভার্চুয়াল লাইকের মোহে পড়ার চেয়ে সন্তানের বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই আজকের দিনে সবচেয়ে বড় অভিভাবকত্ব।

Address

Sadar
Mymensingh
2200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Seerat Corner posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share