31/03/2026
রক্তাক্ত স্যাক্রিফাইস, গোপন শয়তানি চুক্তি আর পৃথিবীর এনার্জি গ্রিডকে কীভাবে ক্রমাগত বিকৃত ভাবে ব্যবহার করছে ইহুদিরা।
⚠️ সতর্কবার্তা : এই লেখাটি শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে লিখা হয়েছে। আশা করি এর পজিটিভ দিকগুলো আপনারা গ্রহণ করবেন। লেখাটি খুবই দীর্ঘ হবে, মনযোগ সহকারে পড়ুন। আপনার জীবনদর্শন পরিবর্তন হবে, ইনশাআল্লাহ।
সারা পৃথিবী আজ একদল ইহুদির হাতের ইশারায় নাচছে, গত ১০০০ বছরে তারা মুসলিমদের কাছ থেকে অসংখ্য জ্ঞান চুরি করেছে যা তারা শয়তানের সাথে চুক্তি করে ভয়ানকভাবে বিকৃত করেছে। চলুন জানি সভ্যতার আড়ালে তাদের ভয়াবহ ডার্ক এনার্জি আর মায়াজালের ব্যাপারে।
ডার্ক এনার্জি আসলে কি? এটি মূলত এমন এক ধরণের অদৃশ্য কম্পন বা এনার্জি যা শয়তান বা দুষ্ট জিনদের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এটি সরাসরি মানুষের ক্বালব বা হৃদয় এবং আকল বা মস্তিষ্ক-কে প্রভাবিত করে। আগে এই এনার্জি কেবল জাদুকরদের ঘরে বা শয়তান পূজারীদের গুহায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ইহুদিদের নিরলস পরিশ্রম আর শয়তানের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা সারা বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছে। তারা স্রেফ আপনার চিন্তাভাবনাকে নষ্ট করছে না, তারা আপনার চারপাশের স্পিরিচুয়াল পরিবেশকে দূষিত করে দিচ্ছে।
বিভিন্ন রিচুয়ালের মাধ্যমে ইহুদিরা নিজেদের আত্মাকে বিক্রি করে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে শয়তানদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সহযোগীতা গ্রহণ করে।
এরা সাধারণত বেশ কিছু বিষয়ের সমন্বয়ে একটি রিচুয়াল সম্পন্ন করে। সর্বপ্রথম নিয়ত বা স্বংকল্প করতে হয়। এলিটরা যখন কোনো রিচুয়াল করে, তখন তারা নির্দিষ্ট এনটিটি (যেমন: লুসিফার, আসমোডিয়াস বা লিলিথ) এর নাম ধরে বা বিশেষ ইভোকিং মন্ত্রের মাধ্যমে তাকে আহ্বান করে। এখানে নিয়তের মূল উদ্দেশ্য থাকে নিঃশর্ত আনুগত্য। রিচুয়ালের শুরুতেই তারা স্বীকার করে নেয় যে তারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে ওই অন্ধকার সত্তার সাহায্য নিচ্ছে। এই ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা বা কুফরিই হলো রিচুয়ালের মূল চালিকাশক্তি। এই নিয়ত যত তীব্র হয়, শয়তানি শক্তি তত দ্রুত রেসপন্স করে। দুনিয়ায় যত ফকির-কবিরাজ দেখবেন তারা সকলেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে। সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতা ও তার সৃষ্টির চরম বিকৃতির মাধ্যমে তার শয়তানের আনুগত্য লাভ করে।
প্রতিটি মানুষের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ফ্রিকোয়েন্সী তরঙ্গশক্তি রয়েছে। তাদের এর ফ্রিকোয়েন্সীর পরিবর্তন মহাবিশ্বের এনার্জি ফ্লোতে প্রভাব ফেলে। কাব্বালিস্টদের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি রয়েছে যা তাদের শয়তান প্রভুকে প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন তর্জনী আর কড়ে আঙুল উঁচিয়ে রাখা (🤟)। একে বলা হয় শয়তানের শিং। এটি মূলত বাফমেটের প্রতি আনুগত্য এবং মহাবিশ্বের নেতিবাচক শক্তিকে নিজের শরীরে ধারণ করার প্রতীক। এক চোখ ঢেকে রাখা। এর মানে হলো দাজ্জালিক দর্শনকে সরাসরি স্বীকার করা। এটা দ্বারা বুঝায় যে তারা ইনার নলেজ বা শয়তানি ইলহামের ওপর বিশ্বাসী।
এনটিটিরা সব সময় আমাদের জগতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তাদের জন্য নির্দিষ্ট উইন্ডো বা পাথওয়ে প্রয়োজন হয়। কাব্বালিস্টরা রিচুয়ালের জন্য ভৌগলিক বিশেষ বিশেষ অবস্থানগুলো নির্বাচন করে। তারা এমন সব জায়গা বেছে নেয় যেখানে পৃথিবীর এনার্জি লাইন বা Ley Lines একে অপরকে ছেদ করেছে।
উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন পিরামিডগুলোর অবস্থান বা বর্তমানের বড় বড় পাওয়ার সেন্টারগুলো (যেমন: ভ্যাটিকান বা ওয়াশিংটন ডিসি) এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে প্রাচীন মন্দিরগুলোর স্থানাঙ্কের সাথে সেগুলোর মিল থাকে। যার ফলে ওই নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোতে দাঁড়িয়ে রিচুয়াল করলে তা সরাসরি শয়তানি এনার্জিগুলোকে রিচ করতে পারে।
যেমন: ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তার নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যে হোয়াইট হাউসকে কেন্দ্র করে একটি বিশাল পেন্টাগ্রাম (Pentagram) বা পাঁচকোণা তারকা তৈরি হয়। অকাল্ট বিজ্ঞানে পেন্টাগ্রাম হলো এনার্জি ডাইভার্ট করার অন্যতম প্রধান জ্যামিতিক নকশা। ভ্যাটিকানের ঠিক মাঝখানে একটি বিশাল প্রাচীন মিশরীয় অবলিস্ক (Obelisk) বা খাম্বা দাঁড়িয়ে আছে। এটি সরাসরি মিশর থেকে আনা হয়েছে। প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে এই অবলিস্ক ছিল সূর্যের দেবতা 'রা' এর পুরুষত্বের প্রতীক বা লিঙ্গ। সেন্ট পিটারস স্কয়ারটি ওপর থেকে দেখলে একটি বিশাল চাকার মতো দেখায়, যার মাঝখানে ওই অবলিস্কটি কাঁটার মতো কাজ করে। এটি একটি বিশাল Sun Dial বা সূর্য ঘড়ি। মজার বিষয় হলো, বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিনে সূর্যের আলো এই চাকার বিশেষ বিশেষ পয়েন্টে পড়ে, যা প্রাচীন পৌত্তলিক রিচুয়ালের সময়রেখা নির্দেশ করে। কেন এটি ভ্যাটিকানে রাখা হয়েছে জানেন? কারণ ভ্যাটিকানের এই জায়গাটি প্রাচীনকাল থেকেই একটি এনার্জি ভর্টেক্স।
পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ এবং বায়ুমণ্ডলে কিছু ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক এনার্জি প্রবাহিত হয়, যাকে বলা হয় Ley Lines। যেখানে এই লাইনগুলো একে অপরকে ছেদ করে, সেখানে একটি পাওয়ার স্পট তৈরি হয়। লন্ডন, প্যারিস, ভ্যাটিকান এবং ওয়াশিংটন ডিসি এই প্রত্যেকটি শহরের বিভিন্ন স্থাপনাগুলো পৃথিবীর এই অদৃশ্য এনার্জি গ্রিডের ওপর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বসানো হয়েছে। আপনি যদি আমেরিকার Library of Congress থেকে ডিসি-র মূল ম্যাপটি দেখেন, তবে হোয়াইট হাউসকে কেন্দ্র করে যে পেন্টাগ্রাম বা পঞ্চভুজ নকশা তৈরি হয়েছে, তা খালি চোখেই দেখা যায়। এটি কোনো থিওরি না। এটি একটি আর্কিটেকচারাল ফ্যাক্ট। (পোস্টে আমি ছবি এড করে দিয়েছি পরে দেখে নিবেন।)
১৭৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যখন আমেরিকান ক্যাপিটল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়, তখন জর্জ ওয়াশিংটন নিজে পূর্ণ ম্যাসনিক পোশাক পরে একটি বিশেষ রিচুয়াল করেছিলেন। এটি আমেরিকার ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছবিতে এবং অফিসিয়াল রেকর্ডে নথিভুক্ত আছে।
David Ovason যিনি একজন বিখ্যাত সিম্বলজিস্ট এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি তার বই 'he Secret Architecture of Our Nation’s Capital' এ ১০ বছরের গবেষণার পর প্রমাণ করেছেন যে, ওয়াশিংটনের ৩৬০টি পেরিমিটার লাইনের মধ্যে প্রায় প্রতিটিই কোনো না কোনো নাক্ষত্রিক অ্যালাইনমেন্টের সাথে যুক্ত। এটি একটি পিওর ম্যাথমেটিক্যাল এনালাইসিস।
এই স্থানাঙ্কগুলো ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো এখান থেকে উৎপন্ন হওয়া সক্রিয় এনার্জির ইমপ্যাক্ট বা আধ্যাত্মিক প্রভাব পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।
ডার্ক ওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হলো তাজা রক্ত। দুষ্ট জিন বা শয়তান সরাসরি আমাদের ফিজিক্যাল জগত থেকে এনার্জি নিতে পারে না। তাদের জন্য প্রয়োজন হয় একটি মিডিয়াম বা মাধ্যম। রক্ত যখন প্রবাহিত হয়, তখন এর সাথে সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব-বিদ্যুতিক শক্তি বা Bio-electric energy নির্গত হয়। বিশেষ করে যখন কোনো প্রাণী বা মানুষকে চরম ভয়ের মধ্যে বা যন্ত্রণার মাধ্যমে হত্যা করা হয়, তখন তার রক্তে অ্যাড্রেনালিন এবং অন্যান্য হরমোনের মাত্রা চরম পর্যায়ে থাকে।
ওকাল্টিস্টদের মতে, এই অবস্থায় রক্তপাতের ফলে যে এনার্জি রিলিজ হয়, তা ডার্ক এনটিটিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর তৈরি করে। এটি তাদেরকে আমাদের জগতে ইন্টারফেয়ার করার বা দৃশ্যমান হওয়ার শক্তি যোগায়। রক্ত হলো সবচেয়ে শক্তিশালী বাইন্ডিং এজেন্ট। জাদুকর বা শয়তান পূজারীরা যখন কোনো বড় ক্ষমতা চায়, তখন তারা রক্তের মাধ্যমে একটি স্থায়ী আধ্যাত্মিক চুক্তি করে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের আত্মাকে ওই অন্ধকার শক্তির কাছে বন্ধক রাখে। এর বিনিময়ে ওই শক্তি তাদের এজেন্ডা বাস্কবায়নে সাহায্য করে।
কেন শিশু বা নিষ্পাপ প্রাণের বলিদানের এতে গুরুত্ব?
এটি এই আলোচনার সবচেয়ে অন্ধকার অংশ। ওকাল্ট দর্শনে অনুসারে, একটি প্রাণের ভেতর পাপ যত কম থাকবে, তার লাইফ-ফোর্স বা এনার্জি তত বেশি পিউর হবে। শিশুদের এনার্জি অত্যন্ত উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির ও ভেজালমুক্ত হয়। তাই শয়তানি রিচুয়ালগুলোতে শিশুদের টার্গেট করা হয় যাতে সেই বিশুদ্ধ এনার্জিকে বিকৃত করে নেগেটিভ কাজে লাগানো যায়। এপস্টেইন দ্বীপ বা বোহেমিয়ান গ্রুভের মতো জায়গাগুলোতে ঠিক এই কাজগুলোই করা হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ থিওরি এবং লজিক হলো এটি। অনেক গবেষক দাবি করেন, বড় বড় যুদ্ধ যেখানে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, সেগুলোকে অনেক সময় এক ধরণের গ্লোবাল রিচুয়াল হিসেবে প্ল্যান করা হয়। যখন কোনো বিশেষ ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক বা Ley Lines এ প্রচুর পরিমাণ রক্তপাত ঘটানো হয়, তখন সেই স্থানটি ডার্ক এনার্জির একটি বিশাল সোর্সে পরিণত হয়। এটি পুরো পৃথিবীর কালেক্টিভ কনশাসনেস বা গণ-সচেতনতার উপর বিশাল প্রভাব ও ভয় বিস্তার করে। আর এই ভয়ই হলো শয়তানের রাজত্বের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, কেন বড় বড় কর্পোরেশন বা অকাল্ট গ্রুপগুলো তাদের লোগো বা চিহ্নের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে? এটি কি কেবল ব্র্যান্ডিং? ওকাল্ট বিজ্ঞানে একে বলা হয় সিজিল (Sigil)। সহজ কথায়, একটি সিজিল হলো একটি সুনির্দিষ্ট ইচ্ছা বা এনটিটিকে (Entity) একটি জ্যামিতিক নকশায় রূপান্তর করা।
জাদুকররা যখন কোনো বিশেষ জিন বা শয়তানের সাথে যোগাযোগ করতে চায়, তারা তার নাম বা কাজের ফ্রিকোয়েন্সিকে কিছু আঁকাবাঁকা রেখা বা চিহ্নে রূপান্তর করে। দেশীয় বিভিন্ন ফকির-কবিরাজরাও এই কাজটি করে। এটি একটি ইলেকট্রনিক সার্কিটের মতো কাজ করে। সার্কিটের রেখাগুলো যেমন বিদ্যুৎ প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে, সিজিলের রেখাগুলো তেমনি আধ্যাত্মিক এনার্জিকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে ঘনীভূত করে। তবে তার আগে বিভিন্ন রিচুয়ালের মাধ্যমে ওই চিহ্নের ওপর এনার্জি প্রজেক্ট করা হয়। একবার একটি সিজিলকে সক্রিয় করা হলে, সেটি একটি ওপেন পোর্টাল হিসেবে কাজ করে। যে ব্যক্তিই ওই চিহ্নের দিকে তাকাবে বা সেটি বহন করবে, সে অজান্তেই ওই ডার্ক এনটিটির এনার্জি গ্রিডের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। যেমন, কবিরাজদের ঝুলিয়ে দেয়া বিভিন্ন তাবিজ-কবচ। (ভুলেও কেউ কোনো সমস্যার জন্য ফকির-কবিরাজের শরণাপন্ন হবেন না। এরা সমাধানের বদলে আপনাদেরকে জিনদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আরো বহু সমস্যায় ফেলে দিবে। বরং, বিশ্বস্ত রাকীর কাছ থেকে চিকিৎসা নিবেন)
বর্তমান বিশ্বের কর্পোরেট লোগোগুলোর দিকে তাকালে আপনি প্রাচীন ওকাল্ট সিজিলের হুবহু মিল পাবেন।
যেমন দাজ্জালের এক চোখ বা All seeing eye। এটি দাজ্জালিক সিস্টেমের সবচেয়ে কমন সিজিল। এটি নজরদারি এবং আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের প্রতীক। এটি যেখানেই থাকে, সেখানে একটি লো-ফ্রিকোয়েন্সি নজরদারি বজায় থাকে।
অনেক সময় আমরা দেখি সাধারণ কোনো ব্র্যান্ডের লোগোতে ৩টি ৬ (666) বা পেন্টাগ্রাম লুকিয়ে রাখা হয়েছে। একে বলা হয় নাম্বার অফ বিস্ট। যখন কোটি কোটি মানুষ এই লোগো বা চিহ্নগুলো তাদের পোশাকে বা ডিভাইসে বহন করে, তখন পুরো পৃথিবীতে একটি বিশাল একটি অদৃশ্য নেগেটিভ এনার্জি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। যা মানুষের অবচেতন মনকে মারাত্মকভাে প্রভাবিত করে। ডার্ক এনটিটিরা সরাসরি আমাদের অনুমতি ছাড়া আমাদের ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু আমরা যখন স্বেচ্ছায় তাদের চিহ্ন (যেমন: ডেভিল হর্ন টি শার্ট বা ওকাল্ট সিম্বলওয়ালা ব্যাগ) ব্যবহার করি, তখন আমরা আধ্যাত্মিক জগতের ভাষায় তাদেরকে নিজেদের অজান্তেই আমাদের মনোজগতের Access দিয়ে দেই। যা আমাদের শরীরের চারপাশে থাকা আল্লাহ প্রদত্ত নিরাপত্তা বলয় বা Aura কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এবং বিভিন্ন নেগেটিভ ফ্রিকোয়েন্সী প্রবেশ করার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
আমরা যখন মিউজিক বা কোনো শব্দ শুনি তখন আমরা মূলত একটি সুনির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পন গ্রহণ করি। আমাদের মস্তিষ্ক এবং হৃদপিণ্ডের নিজস্ব একটি ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সি আছে। যখন বাইরের কোনো শক্তিশালী সুর বা শব্দ আমাদের এই স্বাভাবিক ফ্রিকোয়েন্সিকে আঘাত করে, তখন আমাদের অবচেতন মনে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে।
আধুনিক মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিশাল রহস্য হলো সুরের টিউনিং।
১৯৩৯ বা ১৯৫৩ সালের পর থেকে সারা বিশ্বের মিউজিক স্ট্যান্ডার্ড করা হয়েছে 440 Hz এ। এর আগে মিউজিক সাধারণত 432 Hz এ বাজানো হতো। অনেক গবেষক এবং ওকাল্ট বিশেষজ্ঞ দাবি করেন যে, ৪৩২ হার্টজ হলো প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ফ্রিকোয়েন্সি যা মানুষকে প্রশান্তি দেয়। অন্যদিকে, ৪৪০ হার্টজ মানুষের মস্তিষ্কে সূক্ষ্ম অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং আগ্রাসন তৈরি করে। এটি মানুষকে একটি কনফ্লিক্ট মোড এ রাখে, যা তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ করে দেয়।
ডার্ক রিচুয়ালে বিশেষ কিছু শব্দ বা লিরিক্স ব্যবহার করা হয় যা মূলত শয়তানি সত্তাদের নাম বা তাদের আহ্বান করার সংকেত। যখন কোনো গান কয়েক কোটি মানুষ শোনে, তখন সেই গানটি একটি বিশাল কালেক্টিভ রিচুয়াল এ পরিণত হয়। গানের তালে নাচ এবং উত্তেজনা মূলত ওই ডার্ক এনটিটির জন্য এনার্জি রিলিজ করে।
আপনি যখন অজান্তেই কোনো ডার্ক লিরিক্স বা শয়তানি স্লোগানওয়ালা গান গুনগুন করেন, তখন আপনি মূলত ওই ফ্রিকোয়েন্সিকে আপনার অজান্তেই আওরার (Aura) ভেতর আহবান করছেন। যা আপনার নূরানী সুরক্ষাকে বিনষ্ট করে।
অনেক পপ এবং রক গানে রেকর্ড করা কথা উল্টোভাবে বাজলে এমন কিছু মেসেজ পাওয়া যায় যা সরাসরি শয়তানের উপাসনা বা বিশেষ রিচুয়ালের ইঙ্গিত দেয়। যদিও সাধারণ শ্রোতারা সরাসরি এটি বোঝে না, কিন্তু মানুষের অবচেতন মন বা Subconscious Mind ফ্রিকোয়েন্সিগুলোকে উভয় দিক থেকেই প্রসেস করতে পারে। এটি মানুষের মস্তিষ্কে একটি নেগেটিভ ফ্রিকোয়েন্সী তৈরি করে।
ওকাল্ট ইতিহাসবিদ এবং গবেষক (যেমন: Fritz Springmeier) এর মতে, পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্দার আড়ালে ১৩টি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রাচীন পরিবার কাজ করে। এদের বলা হয় ইলুমিনাটি ব্লাডলাইন।
এরা নিজেদের বংশধারাকে প্রাচীন মিশর, ব্যবিলন এবং রোমান সাম্রাজ্যের রাজপরিবারগুলোর সাথে যুক্ত করে। বিশ্বের বড় বড় ব্যাংক, মিডিয়া হাউজ, তেল কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো (যেমন: UN, WHO) সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই পরিবারগুলোর নিয়ন্ত্রণে।
এই পরিবারগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাব্বালাহ, ব্ল্যাক ম্যাজিক এবং শয়তানি রিচুয়াল অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে পালন করে। এদের সন্তানরা ছোটবেলা থেকেই এই অন্ধকার জগতের দীক্ষা পায়।
ব্লাডলাইনগুলোর শীর্ষ দুটি হলো :
রথচাইল্ড (Rothschild) ও রকফেলার (Rockefeller)।
এছাড়া রয়েছে, অ্যাস্টর (Astor), বান্ডি (Bundy), কলিন্স (Collins), ডুপন্ট (DuPont), ফ্রিম্যান (Freeman), মর্গান (Morgan), বুশ (Bush) ইত্যাদি।
কেন এরা বিভিন্ন জায়গায় এই ১৩ সংখ্যাটি ব্যবহার করে?
১৩ সংখ্যাটি দিয়ে তারা মূলত পৃথিবীতে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রকাশ করে। আমেরিকার এক ডলারের নোটে যে ১৩টি ধাপের পিরামিড দেখেন, তার প্রতিটি ধাপ একেকটি ব্লাডলাইন বা শক্তির স্তরকে রিপ্রেজেন্ট করে। এটি তাদের কাছে ইবলিশের প্রতি আনুগত্যের একটি সিগনেচার।
এই মহাবিশ্ব মূলত গণিত এবং সংখ্যার একটি সুবিন্যস্ত জাল। আপনি যদি সংখ্যার রহস্য বা কোড জানেন, তবে আপনি বাস্তবতাকে (Reality) ম্যানিপুলেট করতে পারবেন (এই নিষিদ্ধ জ্ঞানের চর্চা যে করবে সে কাফের হয়ে যাবে)। এলিটরা আজ সর্বত্র এরই চর্চা করছে। যার প্রভাবে আজ সারাবিশ্ব প্রভাবিত হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের কাছে সংখ্যা মানে কেবল গণনার একক। কিন্তু কাব্বালিস্ট এবং ওকাল্টিস্টদের কাছে প্রতিটি সংখ্যা হলো একটি সুনির্দিষ্ট এনার্জি সিগনেচার। হিব্রু এবং গ্রীক বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষরের একটি গাণিতিক মান আছে। এই অক্ষরকে সংখ্যায় এবং সংখ্যাকে অক্ষরে রূপান্তর করার বিদ্যাকেই বলা হয় জ্যামাট্রিয়া (Gematria)।
ধরুন, আপনি একটি বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান। আপনি সরাসরি তা না বলে এমন কিছু শব্দ বা তারিখ বেছে নেবেন যার গাণিতিক মান (Numerical Value) আপনার উদ্দেশ্যের সাথে মিলে যায়।
মহাবিশ্ব প্রভাবিত হয় ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারা। যখন তারা কোনো ইভেন্টকে নির্দিষ্ট সংখ্যার সাথে মিলিয়ে নিজেদের আবেগ এবং ইচ্ছাশক্তি বা Willpower দিয়ে সেই বস্তুকে প্রজেকশন করে তখন সেখানে Resonance তৈরি হয়।
যেমন, সংখ্যা- 33। এটি ফ্রিম্যাসনারির সর্বোচ্চ ডিগ্রি। এটি তাদের চেতনার পূর্ণ বিকাশ বা Godhood'
অর্জনের কোড।
সংখ্যা- 666। জ্যামাট্রিয়া অনুযায়ী এটি The Beast বা দাজ্জালিক সিস্টেমের ফ্রিকোয়েন্সি। এটি বস্তুবাদের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করে। আর এটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, কারণ এটি বাইবেলের রেভেলেশন এবং ওকাল্ট জ্যামাট্রিয়ায় সরাসরি দাজ্জালিক সিস্টেমের সাথে যুক্ত। জ্যামাট্রিয়া অনুযায়ী ৬৬৬ হলো কার্বনের (Carbon) কোড (৬টি প্রোটন, ৬টি নিউট্রন, ৬টি ইলেকট্রন)। কার্বন হলো মানুষের নশ্বর শরীরের ভিত্তি। ৬৬৬ হলো এমন একটি শক্তি যা মানুষকে তার রূহ বা আত্মার কথা ভুলিয়ে দিয়ে কেবল শরীর ও বস্তু নিয়ে ব্যস্ত রাখে। বিভিন্ন লোগোতে ৬৬৬ লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্য হলো মানুষের চারপাশের বায়ুমণ্ডলকে ওই নির্দিষ্ট শয়তানি ফ্রিকোয়েন্সিতে অভ্যস্ত করে তোলা। যখন আপনার চারপাশের সবকিছু এই ফ্রিকোয়েন্সিতে ভাইব্রেট করবে, তখন আপনার পক্ষে নূর বা আধ্যাত্মিক সত্যকে চেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আপনি তখন কেবল যা দেখবেন (বস্তু) তাতেই বিশ্বাস করবেন আর এটাই হলো দাজ্জালের প্রধান লক্ষ্য। গুগল ক্রোমের লোগোটি খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন (পোস্টে ছবিটি যুক্ত করে দিয়েছি)।
আপনি কখনো খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা, অনেক সময় ব্রেকিং নিউজে এমন কিছু বিচিত্র সংখ্যা বা টাকার পরিমাণ (যেমন: ৬৬.৬ বিলিয়ন বা ৩৩ জন হতাহত) বলা হয় যা বারবার রিপিট করা হয়।
একে বলা হয় নিউমারিক্যাল প্রাইমিং। এই সংখ্যাগুলো ব্যবহার করে তারা মূলত একে অপরকে সিগন্যাল দেয় যে, এই ইভেন্টটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ। সাধারণ মানুষ এটা বোঝে না, কিন্তু তাদের অবচেতন মন এই সংখ্যার ভাইব্রেশন গ্রহণ করে এবং ধীরে ধীরে ওই এজেন্ডার প্রতি মানসিকভাবে নতি স্বীকার করে।
লেখাটি সর্বোচ্চ সংক্ষিপ্ত করার কারণে অনেক বিষয়ই আলোচনায় আনতে পারি নি। তবে এর সারমর্ম হচ্ছে সারা দুনিয়া জুড়ে জিন শয়তানের বিচরণ রয়েছে। এই মহাবিশ্ব একটি বিশাল শক্তির আধার। এখানে Dark Matter, Grey matter আরও বহু কিছুর অস্তিত্ব আছে। কাব্বালিস্টরা আল্লাহর অবাধ্যতা ও তার সৃষ্টিকে বিকৃত করার মাধ্যমে শয়তানের সাহায্যে এইসব শক্তিগুলো ব্যবহার করছে। যার প্রভাব সারা দুনিয়ার উপর পড়ছে। আর আল্লাহর নূর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া মানুষগুলো অতি সহজেই এর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। আজকের দুনিয়ায় এতো বিকৃতি, কলহ সবকিছুর আড়ালেই এরাই দায়ী। এরা নিজেরা কুফরি করে শক্তি অর্জন করছে। আজকের এই টেকনোলজি কেবল তাদের মস্তিষ্কের জ্ঞান না, এটা হাজার বছর ধরে চর্চা করতে থাকা ইহুদিদের অন্ধকার দুনিয়ার জ্ঞান। আর এটা দ্বারাই তারা সারা দুনিয়াকে বিকৃত করছে।
চলেন এখন এই ভয়ংকর ফাঁদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করি।
অনেকেই মনে করতে পারেন এত বড় এবং নিখুঁত একটি গ্লোবাল সিস্টেমের সামনে আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে কীভাবে নিজেকে বাঁচাব? চলেন আলোচনা করি।
দাজ্জালি সিস্টেমের মূল লক্ষ্য হলো আপনার ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পনকে প্রভাবিত করা। আপনার শরীরের চারপাশে নূরানী একটি অদৃশ্য সুরক্ষা বলয় রয়েছে। এটাকে বলা হয় Aura। আপনার সুরক্ষা মানে হলো আপনার শরীরের চারপাশের নূরানি আবরণ বা Aura কে শক্তিশালী করা।
দিনে অন্তত কিছু সময় (বিশেষ করে ফজরের পর এবং মাগরিবের আগে) স্ক্রিন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। এই সময়গুলোতে মহাজাগতিক এনার্জির শিফটিং হয়।
বিভিন্ন মিউজিক ও গান বর্জন করুন। এমন কিছু শুনবেন না যা আপনার মনে অস্থিরতা বা হতাশা তৈরি করে।
যেখানে ৪৪০ হার্টজ বা ডার্ক ফ্রিকোয়েন্সি আমাদের রূহকে আক্রমণ করে, সেখানে কুরআন হলো তার শ্রেষ্ঠ প্রতিষেধক।
দাজ্জালিক ফেতনা থেকে বাঁচতে সূরা আল কাহফ এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি কেবল পড়ার জন্য নয়, এর ১০টি আয়াত আপনার মগজে একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক ফিল্টার তৈরি করে যা দাজ্জালিক বিভ্রান্তি চিনতে সাহায্য করে।
আয়াতুল কুরসি ও চার কুল আপনার শরীরের চারপাশের অদৃশ্য এনার্জি শিল্ডকে শক্তিশালী করবে।
মাটির সাথে সংযোগ রাখুন। Earthing and Nature খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। সুযোগ পেলেই খালি পায়ে ঘাসের ওপর বা মাটির ওপর হাঁটুন। মাটি আমাদের শরীরের অতিরিক্ত পজিটিভ আয়ন (যা ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে আসে) শুষে নেয় এবং আমাদের গ্রাউন্ডেড রাখে। আল্লাহর সৃষ্টি তথা প্রকৃতির দিকে বেশি বেশি তাকিয়ে থাকুন (সবুজ গাছ, আকাশ)।
পবিত্রতা ও ওযুর প্রতি মনযোগী হোন। পানি যখন শরীরের বিশেষ পয়েন্টগুলোতে লাগে, তখন তার কোমল প্রভাব আপনার শরীরকে নূরানি করে তোলে। সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা একজন মানুষের কাছে কোনো ডার্ক সিজিল বা নেগেটিভ এনার্জি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে না।
শয়তানি সিস্টেমের সবচেয়ে থ্রেট হলো একজন সজাগ মানুষ। আপনি যখন তাদের প্রতীক বা সিম্বল চিনতে পারবেন এবং সেগুলোকে সচেতনভাবে ঘৃণা করবেন। তখন তাদের যাদু আপনার ওপর কাজ করা বন্ধ করে দেবে। আপনি যখন জানবেন যে ওই লোগো বা ওই নির্দিষ্ট অবস্থাটি একটি রিচুয়ালের অংশ, তখন আপনার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি রিজেক্ট করবে। তার সেই ডার্ক ফ্রিকোয়েন্সী আপনাকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
আরবি ভাষা এবং কুরআনের শব্দচয়ন সাধারণ কোনো সাহিত্য নয়। প্রতিটি হরফের একটি সুনির্দিষ্ট উচ্চারণস্থল (মাখরাজ) আছে যা শরীর ও মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। একে বলা হয় Acoustic Resonanc।
আধুনিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কুরআনের তিলাওয়াত শুনলে মানুষের মস্তিষ্কে আলফা এবং থিটা ওয়েভ তৈরি হয়, যা গভীর প্রশান্তি এবং শরীরের হিলিং প্রসেস Healing process শুরু করে। যেখানে মিউজিক আমাদের আবেগকে উত্তেজিত করে, সেখানে কুরআনের আয়াত আমাদের ডিএনএ এবং কোষের ভাইব্রেশনকে তার প্রাকৃতিক ও পবিত্র অবস্থায় নিয়ে আসে বা ফিতরাত কে ফেরত আনে।
মানুষের হৃদপিণ্ড শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে। যখন আমরা অর্থ বুঝে বা মনোযোগ দিয়ে আয়াত পাঠ করি, তখন হৃদপিণ্ডের সেই ফ্রিকোয়েন্সি বদলে যায়। কুরআনে বলা হয়েছে, "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই কলব বা অন্তর প্রশান্ত হয়।" (১৩:২৮)।
কুরআনের আয়াতগুলো হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ডিভাইন কোড। এদের মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত নির্দিষ্ট শক্তি রয়েছে।
অন্ধকার যেমন আলোর উপস্থিতিতে থাকতে পারে না, তেমনি শয়তানি এনটিটিরা আল্লাহর কালামের নূর সহ্য করতে পারে না। আপনি যখন কুরআনের আয়াত পড়েন, তখন আপনার চারপাশে যে নূরানি আবরণ বা Aura তৈরি হয়, তা ডার্ক এনটিটিদের জন্য আগুনের মতো দাহ্য হয়ে ওঠে।
কুরআনের আয়াতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি। যখন আপনি বারবার পড়েন, "আল্লাহুস সামাদ" (আল্লাহ অমুখাপেক্ষী) বা "লা হাওলা ওয়া লা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই), তখন আপনার অবচেতন মন থেকেই শক্তিশালী ফ্রিকোয়েন্সী তৈরি হয় যা সকল নেগেটিভ ফ্রিকোয়েন্সী থেকে আপনাকে রক্ষা করে।
আচ্ছা কুরআনের আয়াত এই শব্দ কীভাবে হাড়-মাংসের ভেতরে থাকা মানুষের ডিএনএ-র ওপর প্রভাব ফেলে?
এটি বুঝতে হলে আমাদের সাইম্যাটিকস (Cymatics) এবং বায়ো-রেজোনেন্স (Bio-resonance) এর বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক লজিক বুঝতে হবে। চলুন, হিলিং প্রসেসটি ধাপে ধাপে দেখি:
আমাদের শরীরের ৭০% এর বেশি পানি। পানি হলো শব্দের সবচেয়ে ভালো কন্ডাক্টর বা পরিবাহক। আপনি যখন উচ্চস্বরে বা নির্দিষ্ট তিলাওয়াত শোনেন, সেই শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি আপনার কোষের ভেতরে থাকা পানির অণুকে কাঁপিয়ে দেয়।
জাপানি গবেষক মাসারু ইমোতো প্রমাণ করেছিলেন যে, শব্দের শক্তির ওপর ভিত্তি করে পানির অণুর জ্যামিতিক গঠন বদলে যায়। কুরআনের তিলাওয়াতের যে সুনির্দিষ্ট ছন্দ এবং আরবী হরফের কম্পন, তা শরীরের পানির অণুগুলোকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং নিখুঁত জ্যামিতিক কাঠামোতে সাজিয়ে ফেলে। এটিই হলো কোষীয় স্তরের প্রথম হিলিং অর্থাৎ বিশৃঙ্খল কোষ গুলোকে আবার শৃঙ্খলায়বদ্ধ করা।
আধুনিক বায়ো-ফিজিক্স অনুযায়ী, আমাদের ডিএনএ তথ্য জমা রাখার পাশাপাশি, এটি একটি রিসেপ্টর হিসেবেও কাজ করে যা বাইরের ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক এবং সাউন্ড ফ্রিকোয়েন্সি গ্রহণ করে। ডিএনএ-র ভেতরে থাকা নাইট্রোজেনাস বেসগুলো নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে ভাইব্রেট করে। স্ট্রেস কিংবা মিউজিক ও টক্সিক চিন্তার কারণে এই ভাইব্রেশন এলোমেলো হয়ে যায়। যার ফলে তৈরি হয় নির্দিষ্ট ডিজওর্ডার, যাকে আমরা রোগ বলি।
কুরআনের তিলাওয়াতের ফ্রিকোয়েন্সি যখন ডিএনএ-র রিসেপ্টরের সাথে ম্যাচ করে, তখন এটি একটি সলিটন (Soliton) বা শক্তিশালী এনার্জি ওয়েভ তৈরি করে। এই ওয়েভটি ডিএনএ-র ক্ষতিগ্রস্ত কোডগুলো মেরামত করতে বা সুপ্ত নূরানি ক্ষমতাকে জাগ্রত করতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
মস্তিষ্কের ভেতরে পিনিয়াল গ্ল্যান্ড (Pineal Gland) শব্দ তরঙ্গকে রাসায়নিক সংকেতে রূপান্তর করে। কুরআনের নির্দিষ্ট সুর মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমকে শান্ত করে। এটি Cortisol বা স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে দেয় এবং এন্ডোরফিন বা সেরোটোনিন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শরীর যখন রাসায়নিকভাবে শান্ত থাকে, তখনই তার প্রাকৃতিক রিপেয়ারিং বা মেরামতের কাজ শুরু হয়।
আমরা একটি অন্ধকার সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু মনে রাখবেন আলোর অস্তিত্ব অন্ধকারেই সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। দাজ্জালিক সিস্টেম যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তা মহান আল্লাহর পরিকল্পনার বাইরে এক চুলও নড়তে পারবে না। তারা তাদের মকর বা ষড়যন্ত্র করে, আর আল্লাহ তাঁর কৌশল অবলম্বন করেন। আর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ কৌশলী।
ভাই এই ডার্ক সিস্টেম বা দাজ্জালিক গ্রিডটি দাঁড়িয়ে আছে কেবল একটি জিনিসের ওপর। আর সেটা হলো আপনার অজ্ঞতা। আপনি যতক্ষণ জানবেন না আপনার চারপাশের দেয়ালে, কানে বা চোখের সামনে কী ঘটছে, ততক্ষণ আপনি তাদের এই যুদ্ধের একজন নিরুপায় বন্দি। পৃথিবী আজ যে অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা মূলত আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা। দাজ্জালের মায়াজাল যতই নিখুঁত হোক না কেন, তা মোমিনের এক ফোঁটা চোখের পানি এবং একনিষ্ঠ সিজদার শক্তির কাছে তুচ্ছ।
ভাই, সময় এসেছে নিজের চারপাশের এই অদৃশ্য শেকলগুলো চিনে নেওয়ার। আপনার ফোন, আপনার মিউজিক প্লে-লিস্ট, আপনার পোশাক প্রতিটি বিষয়ে সজাগ হোন। আপনার ঘরের কোণে যেন কোনো ডার্ক সিজিল না থাকে, আপনার কানে যেন কোনো শয়তানি সুর না বাজে। নিজেকে আল্লাহর কালামের সেই শক্তিশালী ডিভাইন হাই স্পিড নেটওয়ার্ক এ যুক্ত করুন। অতঃপর তাদের হাজার বছরের পুরনো জাদুর প্রভাব তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে, ইনশাআল্লাহ!☝️
Stay connected,
— Zilzal Renovatus (Sawtul Zilzal)
— The Matrix Intel
— The End-Times Archive