24/02/2026
যাকাত কার উপর ফরজ হয়?
সোনাঃ ৭.৫ ভরি অথবা
রূপাঃ ৫২.৫ ভরি অথবা
সোনা+রূপা মিলিয়ে নিসাব পরিমান। অথবা
সমপরিমান নগদ টাকা অথবা নগদ টাকা+সোনা/রূপা মিলিয়ে নিসাব পরিমান।
বোঝানোর সুবিধার্তে ধরে নেই আপনার কাছে নগদ ২লক্ষ টাকা এবং ৪ ভরি স্বর্ন আছে। কিন্ত আপনার স্বামীর ঋন আছে ২০লাখ। এক্ষেত্রে আপনার উপর যাকাত ফরজ কিনা...
⃣ সোনা ও টাকার হিসাব
আপনার কাছে আছে:
মোট সোনা ≈ ৪ ভরি
ব্যাংকে নগদ টাকা ≈ ২ লক্ষ টাকা
🔹 সোনার নিসাব
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী:
৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম) সোনা = নিসাব
👉 আপনার সোনা ৪ ভরি → নিসাব পূর্ণ হয়নি
🔹 টাকার নিসাব
টাকার নিসাব ধরা হয় রূপার নিসাব অনুযায়ী
বর্তমানে রূপার নিসাবের মূল্য প্রায় ৭৫–৮৫ হাজার টাকার মতো (দর অনুযায়ী একটু কমবেশি হয়)
👉 আপনার নগদ টাকা ২ লক্ষ টাকা → নিসাব পূর্ণ হয়েছে
আপনাকে যাকাত দিতে হবে।
⃣ সোনা + টাকা একসাথে ধরা হবে কি?
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:
সোনা + টাকা একসাথে যোগ করে নিসাব ধরা হয়। যেহেতু টাকা নিজেই নিসাব পূর্ণ করেছে তাই আপনার উপর যাকাত ফরজ হবে। এবং টাকা এবং স্বর্ন উভয়ের ক্ষেত্রেই যাকাত দিতে হবে।
⃣ কোন সোনার উপর যাকাত?
যে সোনা আপনার মালিকানাধীন, ব্যবহার করেন বা না করেন—সবই যাকাতযোগ্য। সন্তানের স্বর্ন আপনার হিসাবের সাথে মিলবে না। যদি সন্তানের মালিকানায় নিসাব পরিমান অর্থ্যাৎ ৭.৫ ভরি স্বর্ন থাকে তাহলে সেই হিসাবে আলাদা আদায় করতে হবে, নাহলে সন্তানের স্বর্ন বাদ দিয়ে আপনার মালিকানায় থাকা স্বর্নের উপর যাকাত দিতে হবে।
⃣ যাকাত কে দেবে?
আপনি হাউজওয়াইফ ও যদি হন তবুও যাকাত আপনার দায়িত্ব।
টাকা স্বামী দিলেও নিয়ত আপনার হতে হবে যে যাকাত আপনার হিসাবেই আদায় হলো। আর আপনি দিতে পারলে নিজেই দিয়ে দিবেন যদি ইনকাম সোর্স থাকে।
⃣ স্বামীর ঋণের কারণে কি ছাড় পাওয়া যাবে?
❌ না
কারণ: ঋণ স্বামীর কিন্ত সম্পদ আপনার তাই যাকাতের হিসাব আলাদা, আপনাকেই আদায় করতে হবে।
⃣ কত যাকাত দিতে হবে?
মোট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (৪০ ভাগের ১ ভাগ)
উদাহরণ (আনুমানিক):
২ লক্ষ টাকার ২.৫% = ৫,০০০ টাকা
সোনার মূল্য যোগ করলে পরিমাণ একটু বাড়তে পারে। সঠিক হিসাবের জন্য বর্তমান সোনার বাজারদর অনুযায়ী হিসাব করতে হবে।
⃣ যাকাত কাকে দেওয়া যাবে?
স্বামীকে ❌ দেয়া যাবে না
শাশুড়ি-শ্বশুর ❌ দেয়া যাবে না
গরিব আত্মীয়, এতিম, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত (স্বামী ছাড়া) ✔️
⃣ যাকাত ব্যক্তিভিত্তিক ইবাদত।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ আলাদা হিসেবে গণ্য হয়।
➡️ স্ত্রীর সম্পদ = স্ত্রীর যাকাত
➡️ স্বামীর ঋণ = স্বামীর হিসাব, স্ত্রীর নয়
স্বামীর ঋণ থাকলেও আপনার যাকাত মাফ হয় না, যদি আপনার নিজের নিসাব পূর্ণ হয়।
🌸 সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত
✔️ আপনার উপর যাকাত ফরজ হলে আপনাকেই আদায়ের ব্যাবস্থা করতে হবে।
✔️ সোনা ব্যবহার না করলেও যাকাত দিতে হবে। তবে সন্তানের মালিকানায় থাকা সোনা আপনার হিসাবের সাথে মিলাবেন না।
✔️ যাকাতের নিয়ত আপনার হতে হবে
Copied