23/04/2026
" অপূর্ণতা "
পর্ব - ৫ ( শেষ পর্ব )
__________________
এখন আর এনির বিষয়ে জানেনা এমন কেউ নেই বললেই চলে। চলতে লাগলো দিন, এখন আর তার সাথে আগে মতো তেমন একটা কথা হয় না। শুধু প্রয়োজনেই কথা বলা হয়।
আমি এখন ভার্সিটিতে উঠে গেলাম আর এনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আমার ১ম সেমিস্টারের শেষ মুহুর্তে হঠাৎ চাচা বললো আমার পাসপোর্টের ছবি তার কাছে পাঠানোর জন্য, তিনি নাকি আবেদন করবে আমার নামে। ভালোই আমিও শুনে অনেক খুশি হলাম, ভাবতে লাগলাম অবশেষে তাহলে আমার সপ্ন পূরন হবে। পাঠানোর কয়দিন এর মধ্যেই চলে আসলো আমার বিসা। আমি তো মহা খুশি এবার আমায় আটকায় কে,,,, ২ /১ বছর বিদেশ থাকবো তারপর এসে সোজা এনিদের বাসায় প্রস্তাব নিয়ে যাবো তাকে বিয়ে করার। তারপর আমিও বলতে পারবো আমারও পূর্ণতা পেয়েছে।
উপপ কি যে ভালো লাগতেছে। এসব ভাবতেছি আর নিজে নিজেই হাসতেচি।
কিন্তু আমার খুশি যে বাকিদের সহ্য হবে না কে জানতো !!!
কয়দিন পরেই শুনতে পেলাম এনির বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসলো। শুনেই আমার সব আনন্দ এক নিমিষেই শেষ। তাঁকে হারানোর ভয় শতগুণ বেড়ে গেলো। আরো বেশি কষ্ট লাগলো যখন শুনতে পেলাম আমার জেঠি নিয়ে গেলো সেই প্রস্তাব।
যখন-ই শুনলাম, মাথায় হাজারো প্রশ্ন না চাইতেই চলে আসলো, তার মধ্যে বেশি মনে পড়াটি হলো তিনি তো জানতো আমি এনিকে পছন্দ করি। অনেক আগে থেকেই তাকে ভালোবাসি। বিদেশ এত তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম এনিকে পাওয়ার জন্য সবই তো জানতো তিনি, তাহলে কেন এত বড় পথের কাটা হয়ে আসলেন? কেন এনিকে আমার থেকে দূরে নিতে চাই?
এগুলো ভাবতেছি আর তিনি আসার অপেক্ষা করতে লাগলাম। সন্ধ্যার পরে আসলো তিনি, আমি আর সময় নষ্ট করলাম না চলে গেলাম তার কাছে
- আপনি কেন এনির বিয়ের জন্য প্রস্তাব নিয়ে গেলেন?
- তো কি হয়েছে, যদি তোর এনিকে পছন্দ হয় তোর মা কে বল প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার জন্য।
এটা বলেই তিনি চলে গেলেন। একদিকে এনিকে হারানোর ভয়, মাকে কি ভাবে বলবো এসব নিয়ে চিন্তা। অন্য দিকে আমার ফ্লাইটের আর মাএ দশ দিন বাকি। কি করবো কিছু বুজতেচি না,,,,,
তারপর কোনো উপায় না পেয়ে আবার গেলাম সেই আপুর কাছে, আর বললাম
- আপু, আপনিতো জানেন আমি এনিকে অনেক বেশি পছন্দ করি ।
- হুম জানি তো, এখন কি করতাম আপু বল?
- আপনি মাকে গিয়ে একটু বুজিয়ে বলেন, প্লিজ প্লিজ প্লিজ আপু
- আচ্ছা ঠিক আছে, আমি বুজিয়ে বলে দেখি কি বলে।
আমি একটু খুশি হলাম, কিছুটা আশার আলো দেখতে পেলাম। পরের দিন আমার মামার বাসায় আমন্ত্রণ ছিলো, আমি বিদেশ যাবো সেই আশাতে। যথারীতি দুপুরে যাচ্ছিলাম রিকশায় মাঝ পথে আসলাম তখনি দেখি হঠাৎ মায়ের কল....
কি ব্যাপার হঠাৎ মা এইসময় কল দিলো কেন? ভাবতে ভাবতে কল ধরলাম আর তখনি আমার এতদিনের, এত আশা সব শেষ করে দিলো।
- হ্যালো মা ( যখনি এই কথা বললাম তখনি ওইপাশ থেকে মা গরম হয়ে বলতে লাগলো )
- তুই কি শুরু করলি?
- আমি আবার কি করলাম??
- তুই নাকি সবাইকে বলতে লাগলি এনিকে বিয়ে করবি?
- সবাইকে কই বললাম?
- এনিকে আমি কখনো আমার ছেলের বৌ হিসেবে গ্রহণ করবো না।
- কেন কি হয়েছে ?
- যদি এনিকে তুই বিয়ে করতে চাচ তাহলে আমি তোকে ছেলের পরিচয় দিবো না।
এটা বলেই কল রেখে দিলো। আমি তখন কি করবো, কোথায় যাবো কিছু বুজতেচি না।
এনি বললো তার পরিবার যেখানে বিয়ে দিবে সেখানে বিয়ে করবে পারলে ওদের বাসায় প্রস্তাব নিয়ে আসতে। এদিকে মায়ের এমন ব্যবহার কিছু বুজতেচি না কি করবো।
তাহলে কি এখানেই শেষ আমার এত বছরের অপেক্ষার ফলাফল?
তাহলে কি পরিবারকে খুশি রাখতে এনিদের বাসায় প্রস্তাব নেওয়ার সেই শেষ সুযোগ টাও হাত চাড়া করবো?
তাহলে কি এনিকে পাওয়ার আশা শেষ?
তাহলে কি বিদেশ এত তাড়াতাড়ি যাওয়ার আর কোনো লক্ষ্যই নেই?
এইসব ভাবতে ভাবতে চলে আসলো সেই দিন, যে-ই দিন বিদায় দিয়ে চলে আসলাম সেই জন্মভূমিকে।
তার মধ্যে আরো অনেক গুলো প্রস্তাব আসতে লাগলো এনির বিয়ের জন্য, এগুলোর মধ্যে বেশ কয়টাই আমার জেঠি নিয়ে আসতো আবার আমি বিদেশ চলে আসার পরে শুনতে পারলাম আমার মাও নাকি ২/১ টা প্রস্তাব নিয়ে গেলো, তবে আমার জন্য না অন্য কোনো ছেলের জন্য। আমি এগুলো শুনতাম আর নিজেকে নিজে সান্ত্বনা দিতাম, এখনো তো বিয়ে হয় নাই শুধু প্রস্তাবই আসতেছে । এই বয়সে তো এমনি আসে। এগুলো বলে নিজের মাথা ঠান্ডা রাখতাম।
তবে এনিকে মেসেজ দেওয়া বন্ধ হয় নাই। সে ইগনোর করতো ঠিকি তারপরও আমি যে ভালোবাসচি তার চোখে একটু নির্লজ্জ না হলে কি হয়। হঠাৎ একদিন শুনতে পেলাম এনিকে নাকি ছেলে পক্ষ পছন্দ করলো এবং এনির পরিবারও নাকি ছেলে পক্ষদের পছন্দ করলো। বিয়ের বিষয়ে নাকি দুই পক্ষই বসবে। এটা শুনে এনিকে আমি বললাম,
- তোমার নাকি বিয়ে ঠিক হলো?
- হুম। তবে এখনো পুরো পুরি হয় নাই কথা।
- তুমি রাজি বিয়েতে?
- কেন হবো না, আমার পরিবার যেখানে দিবে আমি সেখানেই রাজি।
- তুমি জানোনা আমি যে তোমাকে ভালোবাসি?
- হুম, তো কি হয়েছে?
- আমি তোমাকে হারাতে চাই না। অন্য কোথাও বিয়ে হতে দিবো না।
- আমি চাই আপনি আমার বিয়েতে কোনো সমস্যা তৈরী না করুন, এটা আমার জন্য খুবই খারাপ হবে। আমার পরিবার যদি জানতে পারে আমি আপনার সাথে কথা বলি আমাকে মেরেই ফেলবে।
এরপর সম্পূর্ণ আশা চলে গেলো এনিকে পাওয়ার, তারপরও নিজে সান্ত্বনা দিতাম, আগে বিয়ে হোক ভাগ্যে থাকলে ঠিকি আমার হবে। এখনো তো বিয়ে হয় নাই শুধু কথা ইনা বলতে আসবে। এনি তারপর থেকে আর আমার মেসেজ এর কোনো উওর দিতো না শুধু দেখে চলে যেতো।
বাস্, আমার সেই সান্ত্বনার মর্জাদা কোথায় রইলো।
৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১:৪৫ মিনিট
তখন আমি ডিউটিতে ৩ টাই বিরতি হবে সব কাজ শেষ করে বসলাম হঠাৎ মোবাইলে একটা নোটিফিকেশন এর শব্দ। দেখতে যখন মোবাইল হাতে নিলাম দেখলাম ইন্স্ট্রাগ্রামে এনি স্টোরি দিলো। সময় নষ্ট না করে সাথে সাথে ক্লিক করতেই সামনে আসলো, যা আমার এতদিনের রাখা কিছুটা আশার সমাপ্তি। এনির বিয়ের ছবি। হাতে হাত রেখে সে আর তার জামাই। আর নিচে ক্যাপশনে লেখা ৬/২/২০২৬। শেষ হয়ে গেলো আমার না পাওয়া ভালোবাসার সমাপ্তি, চলে গেলো এনি অন্য কারো বৌ হয়ে । রেখে গেলো আমাদের হাজারো স্মৃতি আর একটি গল্পের অপূর্ণতা।
[ সমাপ্তি ]